অধিকার ও সত্যের পথে

নতুন বছরে নতুন বই,নতুন পড়া কিভাবে শুরু করব ?

 শেখ হাসনাত জামান শুভ্রঃ

নতুন বছরে আমরা সবাই নতুন বই পেয়ে থাকি , দশম/দ্বাদশ শ্রেণীরা বই একই থাকলেও পড়াটা নতুন করে শুরু হয় নতুন কিছু মজার বিষয় দিয়ে। ইংরেজিতে একটা প্রবাদ আছে “Morning Shows the Day” অর্থাৎ শুরুটা অন্নেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।আমরা বেশিরভাগ সময়েই শুরুটা ভালো করে করতে পারিনা যাতে করে প্রথমদিকে অনেকগুলো দিন নষ্ট হয়ে যায় , কারোকারো ক্ষেত্রে সেইটা মাসও হয়ে যায় হিসেবে ।

আমরা আজ মজার ৩টা টেকনিক শিখবো যা প্রথমদিকে খুব কার্যকর এবং পড়াকেও করে দেয় সহজ ।টেকনিক

১। বইয়ের আগাগোড়া দেখে নেওয়াঃ কেমন লাগে যখন একটা বই আমরা শেষ করে ফেলি ? একটা প্রশান্তি বোধ হয় না? আমরা বছরের শুরুতেই এমন প্রশান্তি নিয়ে কাজ শুরু করবো ।

ধরো তোমার সবমিলিয়ে ৮টা বই, যেকোনো একটা বই বেছে নাও , টার্গেট নাও ৩ দিনের ভিতরে আমি বইটার শুরু থেকে শেষ দেখে নিবো একবার ।

ধরো তোমার জীব বিজ্ঞান বইয়ে অধ্যায় আছে ১৪টা …… প্রথমে সূচীপত্রটা দেখে নাও।তারপর যে অধ্যায় এর নামটা তোমার ভালো লাগবে সোজা সেই অধ্যায়ে চলে যাও। যেভাবে আমরা পেপার পড়ি ঠিক সেভাবেই শুধু হেডলাইন গুলা দেখো ওই অধ্যায়টার।এভাবে ওই অধ্যায়টা দেখার সময় যে যে ছবি (figure) দেওয়া আছে সেগুলা দেখে নাও,ছবির ক্যাপশন গুলো পড়ে নাও । অধ্যায় দেখা শেষ হয়ে গেলে আবার সূচিপত্রে চলে যাও, নতুন একটা অধ্যায় বেছে নাও, এভাবে ৩ দিনের ভিতরে বইটা দেখে ফেলো । বইটা শেষ করে নতুন একটা বই নাও ,এভাবে সবগুলো বই শেষ করে ফেলো……
এতে করে যে লাভ টা হবেঃ

১.বছরের শুরুতেই তোমার বইগুলো সম্পর্কে একটা ধারনা চলে আসবে।

২. পড়ার সময়ে নতুন নতুন মনে হবে না ।

৩. কি কি জানবো আমরা তার একটা ধারনা থাকবে।

৪. অনেক সময়ে প্রথমদিকে কিছু অধ্যায়ের সাথে শেষের দিকের লিংক থাকে সেইগুলা আগে থেকেই জেনে যাবো আমরা ,পড়তে সহজ হবে তখন ।

সতর্কতাঃ পত্রিকা যেমন আমরা সব খবরের ভিতরে পড়ি না তেমনি এখানেও আমরা হেডলাইন গুলোই পড়ব , ভিতরে পড়তে গেলে কঠিন মনে হতে পারে এবং আত্মবিশ্বাস নষ্ট হতে পারে। তবে কোনো হেডলাইন যদি খুব আকৃষ্ট করে তবে অবশ্যই তার ভিতরে পড়ে নাও।

টেকনিক ২। হোয়াইট বোর্ড ব্যাবহার শুরু করাঃ একজন ভালো ছাত্রের পড়ার ঘরে একটা বোর্ড অবশ্যই থাকা উচিত ।অনেক সময়ে কোনো আপাত কঠিন পড়াকে বোর্ডে লিখে পড়লে সহজ হয়ে যায় ,বোর্ডে লিখে পড়লে সেটা খুব তারাতারি মনেও থাকে ,এবং সবথেকে সুবিধা হলো , বোর্ডে কোনো মুখস্থের পড়া লিখে রাখলে সেইটা বারবার নজরে পড়বে এবং মুখস্থ হয়ে যাবে । যেমন ধরো তোমার মানব দেহের হাড়েড় নাম গুলো একদমই মনে থাকছে না, সেই নামগুলোর কয়েকটা করে বোর্ডে লিখে রাখো , যখনই খেয়াল হবে বোর্ডে তাকিয়ে পড়ে নিতে পারবে তুমি।এভাবে কখন যে মুখস্থ হয়ে যাবে তুমি বুঝতেই পারবে না ।

তুমি তোমার রোজকার শিডিউল টা বোর্ডে লিখে রাখতে পারো,এতে করে কোনো কাজ বাদ পড়ে যাবে না তোমার । আর চিত্র আকিয়ে পড়ার ক্ষেত্রে বোর্ডের তো কোনও বিকল্প নেই । দাম ? খুব সস্তা , মাত্র ৫০০ টাকা হলেই বাজারে পাওয়া যায় বোর্ড ।

★ তুমি চাইলে একটা সাদা আর্ট পেপার দেওয়ালে লাগিয়ে তার উপরে আঠা দিয়ে রঙ্গিন কাগজ সেঁটে বোর্ডের বিকল্প বানিয়ে নিতে পারো এতে তোমার পয়সা বেঁচে যাবে

কিছু টেকনিক ৩। কালার পেনের ব্যাবহার করাঃ পরিক্ষার ঠিক আগে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ পড়াগুলো রিভিশন করা দরকার হয়, কিন্তু একি !!! বইয়ে এত্ত দাগ, কোনটা বেশি দরকার তা খুঁজতেই সময় শেষ।
এই সমস্যাতো আমাদের অনেকেরই হয় ? চলো সমাধান জেনে নেই , তার জন্য লাগবে চার রঙ এর রঙ্গিন কলম ।লাল,নীল,সবুজ ও কালো ।

সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ পড়াগুলো দাগাও লাল কালি দিয়ে ,তারপর মধ্যম গুরুত্তেরটা নীল কালি দিয়ে , কম কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এমনগুলোর জন্য ব্যাবহার করো সবুজ ।তাছাড়া অন্য দাগ দেওয়া, টিক চিহ্ন দেওয়া , কিছু লিখার জন্য বইয়ে কালো রঙ ব্যাবহার করাই শ্রেয় । এভাবে যখন সব দাগানো হয়ে যাবে , বইটা এত্ত সুন্দর এবং গুছালো দেখাবে যে তুমি নিজেই অবাক হয়ে যাবে । এবং পড়তেও নিশ্চয়ই ভালো লাগবে এত্ত সুন্দর গুছানো বই ?

পরিক্ষার আগে খুজে পেতেও কষ্ট হবে না ।তবে হ্যাঁ , গুরুত্বপূর্ণ বলেছি বলে এই নয় যে আমরা শুধু পরিক্ষায় দরকারি পড়াই বেঁছে বেঁছে পড়ব । গোটা বই সম্পর্কেই থাকা চাই পূর্ণ দক্ষতা , তার জন্য বাদ দেওয়া যাবে না বইয়ের একটি লাইনও ।

লেখক- শিক্ষার্থী, শহীদ সোহরাওয়াদী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।

একই ধরনের আরও সংবাদ