অধিকার ও সত্যের পক্ষে

অনশনে হেরে গেলে, হেরে যাবে জাতীয়করণ

 মুহাম্মদ জসিম উদ্দিনঃ
বেসরকারি শিক্ষকগন এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছেন। বঞ্চনা,  হতাশা আর না পাওয়ার বেদনায় তাদের হৃদয় মন ভরাক্রান্ত। চারিদিকে জাতীয়করণের সুবাতাস বইছে। জাতীয়করণ হাতছানি দিয়ে ডাকছে। ঠিক এমনি এক মুহুর্তে শিক্ষক সংগঠন গুলোর ভিন্ন ভিন্ন কর্মসূচিতে বিস্ময় প্রকাশ করেছে দেশের হতভাগা ৫ লক্ষাধিক বেসরকারি শিক্ষক ও কর্মচারীগন। 
 জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শিক্ষা জাতীয়করণের গুরুত্ব অনুধাবন করেছিলেন। তাইতো একটি যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশের একটি নাজুক অর্থনীতির উপর দাড়িয়ে প্রাথমিক শিক্ষাকে জাতীয়করণ করেছেন।
তিনি বেসরকারি শিক্ষার সবটাই জাতীয়করণ করতে চেয়েছিলেন কিন্ত ভঙ্গুর অর্থনৈতিক অবস্থার কারনে সেটা করতে পারেন নি। তবে তারই সুযোগ্য উত্তরসূরি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা জাতির জনকের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করে যাচ্ছেন। তিনি দেশের ২৬ হাজার রেজিস্টারড প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করেছেন। সকল বেসরকারি শিক্ষা জাতীয়করণের হিসাবটিও জানতে চেয়েছেন।
 তাইতো দেশের ৫ লক্ষাধিক শিক্ষক কর্মচারী আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। বর্তমান শিক্ষা বান্ধব সরকারই পারবেন সকল বেসরকারি শিক্ষা জাতীয়করণ করতে। ইতিমধ্যে জাতীয়করণের দাবিতে পাঁচটি শিক্ষক সংগঠন ঢাকার প্রেসক্লাবে আমরণ অনশন কর্মসূচী পালন করছেন। দেশের প্রায় সকল বেসরকারি শিক্ষক সংগঠনও জাতীয়করণের দাবিতে নানান কর্মসূচি ঘোষণা করছেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় হল, সকল সংগঠনের দাবি জাতীয়করণ হলেও কর্মসূচি ভিন্ন ভিন্ন। যা জাতীয়করণের পথে প্রধান অন্তরায়। জাতীয়করণের মত একটা বিরাট দাবি আদায়ে সকল সংগঠনের একমঞ্চে আসা প্রয়োজন।
তীব্র শীত উপেক্ষা করে শিক্ষকদের একাংশ রাজ পথে অনশন করে যাচ্ছেন। কিন্তু জাতীয়করণের মতো বিরাট একটি দাবি আদায় করতে যে পরিমাণ শিক্ষকের উপস্থিতি দরকার তা প্রয়োজনের তুলনায় নিতান্তই অপ্রতুল। আমৃত্যু অনশন একটি চুড়ান্ত ও বৃহৎ কর্মসূচী। এর পর আর কোন কর্মসূচী থাকে না। তাই শিক্ষক উপস্থিতির অভাবে যদি অনশন কর্মসূচী ব্যর্থ হয় তাহলে ব্যর্থ হবে শিক্ষক জাতীয়করণ আন্দোলন। হেরে যাবে বেসরকারি শিক্ষক সমাজ।
সকল বেসরকারি শিক্ষা জাতীয়করণের সাহসী মন বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর রয়েছে। যদি শিক্ষক সংগঠন গুলো এক হয়ে তাদের দাবি প্রধানমন্ত্রীর নিকট তুলে ধরতে পারেন, তাহলে জাতীয়করণ সময়ের ব্যাপার মাত্র।
একই ধরনের আরও সংবাদ