অধিকার ও সত্যের পথে

শিক্ষা খাতের দুর্নীতি প্রতিরোধ করুন

 আজহার মাহমুদঃ

কিছুদিন আগে চ্যানেলটোয়েন্টিফোরের অনুসন্ধানমূলক অনুষ্ঠান সার্চলাইটে দেখানো হয়েছিল, কীভাবে মেধাবী শিক্ষার্থীদের আসন টাকা দিয়ে অন্যরাও কিনে নিতে পারে। টিম সার্চলাইট তাদের অভিযানের মাধ্যমে দেখিয়েছে, অনেক শিক্ষার্থী, যারা অবৈধ পন্থা অবলম্বন করে ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছে। দেখিয়েছে কীভাবে প্রশ্ন ফাঁস করে অপরাধীরা। সঙ্গে তুলে ধরেছিল টাকার অভাবে এক শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে না পারার করুণ একটি কাহিনী। এভাবে হাজারো কাহিনী আমাদের জানার আড়ালে থেকে যায়, মিড়িয়া হয়তো কিছু কিছু তুলে ধরার চেষ্টা করে। সব তাদের তুলে ধরা হয়তো সম্ভব হয় না; কিন্তু মানুষ হিসেবে আমাদের দায়িত্ব রয়েছে, সেগুলো মানুষের সামনে তুলে ধরার। আমাদের কথা হলো, কোনো গরিব শিক্ষার্থী যেন টাকার অভাবে পড়ালেখা থেকে দূরে সরে না যায়। মিডিয়ার তৎপরতায় হয়তো কিছু অপরাধী ধরা পড়েছে; কিন্তু এ রকম আরও অনেক অপরাধী রয়েছে আমাদের মাঝে, যাদের আমরা ধরতে পারিনি। এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকেন কোনো কোনো অভিভাবকও। অভিভাবক টাকা দেওয়ার ফলেই সন্তান অবৈধ পন্থা অবলম্বন করছে। আগে আমাদের অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে। তার পর শিক্ষার্থীরা সচেতন হবে। অভিভাবক অপরাধ করলে, তার সন্তান কেন অপরাধ করবে না? মা-বাবা সন্তানদের প্রথম শিক্ষক। নতুন বছরের শুরুতে দেখা যায়, বিভিন্ন সরকারি স্কুলে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হয়। অভিভাবকদেরও ইচ্ছা, তাদের সন্তানরা যেন সরকারি স্কুলে ভর্তি হয়। কিন্তু ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে কয়জন শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারে, এ নিয়েও প্রশ্ন আছে। এ ক্ষেত্রে অপতৎপরতার বিরুদ্ধে তৎপরতা দেখা যায় না বললেই চলে। একজন শিক্ষার্থী হিসেবে এসব অপরাধের বিরুদ্ধে বলার অধিকার আছে। প্রশাসনের কাছে প্রত্যাশা রইল এ ক্ষেত্রে সংগঠিত অপরাধের সঠিক তদন্ত করে শাস্তির আওতায় আনার। নিকট অতীতে খবরের কাগজে পড়েছিলাম ২০১৭ সালের পঞ্চম শ্রেণির পিইসি পরীক্ষায়ও প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে। একই খবরের কাগজে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় শ্রেণির প্রশ্নপত্রও ফাঁস হয়েছে। ভাবতে অবাক লাগে, যখন এ ধরনের খবর পত্রিকায় পড়ি। দেশের শিক্ষার্থীরা এ খবর থেকে কী শিখবে?

আমাদের প্রত্যাশা কতটুকু পূরণ হবে, সেটা সময় হয়তো বলে দেবে। তবে অভিভাবক আর শিক্ষকরাও যে চাইলে এসব অপরাধ বন্ধ করতে পারেন, সেটা নিঃসন্দেহে বলা যায়। দুর্নীতির মূল বিষয় হচ্ছে, শ্রেণিকক্ষে সঠিকভাবে পাঠদান না করা। এ ছাড়াও সরকারি, এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নানা অনিয়ম বন্ধের জন্য পাঁচটি সুপারিশ করেছে দুদক। এনসিটিবির পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি আনতেও পাঁচটি সুপারিশ করেছে দুদক। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অতিরিক্ত ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, টেন্ডার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাসহ আটটি সুপারিশ করা হয়েছে এবং সর্বশেষ ছয়টি সুপারিশ গ্রহণ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কারণ ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কোন পথে পরিচালিত হবে, তার নিয়ন্ত্রক শিক্ষা মন্ত্রণালয়। দুদকের এসব সুপারিশ সঠিকভাবে মেনে চললে আগামী প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা নিঃসন্দেহে এক একটি দেশের সম্পদ হিসেবে রূপান্তর হবে। শিক্ষা খাতের দুর্নীতি প্রতিরোধ করলে তাহলে এ খাতের উন্নয়ন হবে আশানুরূপ। সরকার ও প্রশাসনের সঠিক তদারকি থাকলে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা পূরণে বাধা হয়ে দাঁড়ানোর কেউ থাকবে না।

শিক্ষার্থী, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

একই ধরনের আরও সংবাদ