অধিকার ও সত্যের পথে

শিক্ষা,দীক্ষা এবং সরকারী কলেজের শিক্ষকদের সরব আর্তনাদের নিরব প্রতীক্ষা …

 ড.মোঃ গোলাম রব্বানীঃ

শৈশবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থাকা কালীন ছোট বেলায় রেডিওতে প্রচারিত বঙ্গবন্ধুর তেজদীপ্ত ভাষণ কর্ণকূহরে প্রবেশ করে অদ্যাবধি প্রেরণার কল্লোলে প্রতিধ্বণিত হয়ে ওঠে হৃদয় কম্পনে প্রতিনিয়ত –
‘‘ ভিক্ষা করে কোনো জাতি বাঁচতে পারেনা। ভিক্ষুক জাতির কোন মূল্য নেই ………’’

স্বাধীন বাংলাদেশের সপ্নদ্রস্টাস্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সেই স্বপ্ন সম্ভাবনাময় বাণীতেই রয়েছে ‘দেশন্নোয়ন’ এবং ‘আত্ননিভরশীল জাতি’ গঠনের দীক্ষাভিত্তি। তাঁর সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘উন্নত বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের ভাষণে একটি দৃঢ়প্রত্যয়ী বার্তা প্রতিক্ষণে জাতিকে প্রেরণা দেয় বারবার তা হল ‘আত্মমর্যাদা ’ নিয়ে বিশ্বদরবারে চলার নন্দিত দীক্ষা। একটি ‘আত্মনির্ভরশীল’জাতিকে শিক্ষামূখী ‘আত্মমর্যাদার মনোভাবে উদ্বেলিত’ করার সেই প্রত্যশার মহাসমারোহে সরকারি কলেজ শিক্ষকদের সংকট ও প্রায়োগিক সমাধানে এ সমীক্ষার নিবেদন।

“স্রষ্টা যেমন বক্ষে! শিক্ষক তেমনি শ্রেণীকক্ষে’’- শ্রেণীকক্ষ যেখানে তেরী করেন শিক্ষক জাতি গঠনের মূল প্লাটফরম। আর এটি অনিবার্য সত্য যে ‘শিক্ষা যদি জাতীর মেরুদন্ড’ হয় তবে ‘শিক্ষার মেরুদন্ড’ হল শিক্ষক’।
একটি জাতির বা রাষ্ট্রের মেধা সম্পদই সে জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পদ হিসেবে বিবেচিত। দৃষ্টান্তস্বরূপ, একটি দেশের নানান ক্ষনিজ সম্পদ, বনজ সম্পদ, মৎস্য সম্পদ বা কৃষি সম্পদ থাকতে পারে কিন্তু তার মেধা সম্পদের সঠিক ব্যবহার এবং প্রয়োগ না হলে অন্যান্য সম্পদের কার্যকরীতা বা উপযুক্ততা ম্লান হয়ে যায় যা অস্বীকার করার উপায় নেই। আজকের শিক্ষার্থীদের ‘আগামীর আর্ন্তজাতিক প্রতিযোগিতা’ এবং বিশ্ববাজারে  দ্বীপাক্ষিক দরকষাকষি বা নেগোশিয়েশন’ সফলতার বীজও বপণ করেন শিক্ষক সমাজ।

উৎপাদনমুখী সৃজনশীল মেধাবী জাতি গঠন কাঠামো তৈরী করেন ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে নিবেদিতপ্রাণ ঐ ‘জ্ঞান সেবী শিক্ষক সম্প্রদায়’।

সরকার শিক্ষকদের মর্যাদা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইতোমধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত বেতন ভাতাদি বৃদ্ধি করেছেন। শিক্ষকদের সুযোগ সুবিধাও বৃদ্ধি করেছেন যা আশাব্যঞ্জক এবং সবার সাথে কৃতজ্ঞতার অনুভূতিতে তা স্মরন করি। নি:সন্দেহে বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষিতে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন শ্লোগান ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বাস্তব রূপ পেয়েছে।

বাংলাদেশকে আগামীতে একটি ‘মধ্যম আয়ের দেশে’ রূপান্তরের সকল উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় একটি অবিচ্ছেদ্য ‘সহযোগী বাস্তবতা’ হচ্ছে ‘শিক্ষা উন্নয়ন’ যা মূলত শিক্ষার্থীদের সার্বিক উন্নয়নকে বোঝায় যা কার্যকরী করার মাধ্যমে তাদেরকে আগামী দিনের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পারার প্রত্যক্ষ অবদানে সামীল হতে পারেন কেবল মাত্র শিক্ষক সম্প্রদায়।

দেশের প্রত্যেকটি জেলায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার IT Park এর ঘোষনা বাংলাদেশের মত উৎপাদনমুখী শিক্ষার সম্ভাবনাময় একটি জাতির জন্য বিশাল অনুপ্রেরণা। শিক্ষার্থীদেরকে দেশের যোগ্য নাগরিক হিসেবে আত্মনির্ভরশীল’জাতি গঠন  করে সক্রিয় সংগঠক/কর্মী হিসেবে উপযুক্ত প্রমানে পদক্ষেপ গ্রহনে ‘শিক্ষক মাত্রই একজন একজন যোগ্য উন্নয়ন সহযোগী’। আর সত্যিকার অর্থে শ্রেণীকক্ষে শিক্ষার্থীদেকে সার্বিক মেধামুখী এবং সৃষ্টিধর্মী করতে সক্রিয়ভাবে নিয়োজিত রাখেন ‘নিবেদিতপ্রান শিক্ষকগণ’। শিক্ষার্থীর মেধামনন জ্ঞান চর্চায় এবং সামাজিক মূল্যবোধ, দেশপ্রেমেস্বাধীনতার ইতিহাস তথা সক্রিয় জাতিস্বত্বার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি লালনের মধ্য দিয়ে স্বাধীন সার্বভোম বাংলাদেশের স্বার্থ সংরক্ষণের সৃজনশীলতায় শিক্ষা দানের বিষয়টিও শিক্ষকদের প্রধান কর্তব্য এবং ভূমিকা হিসেবে ঐতিহাসিক ভাবে প্রমাণিত।

একটি দেশের কাঙ্খিত উন্নয়ন কখনোই টেকসই হবে না যদি শিক্ষার ভিত মজবুত ও পরিপক্ক না হয়। শিক্ষার উন্নয়ন ব্যতীত দেশের সার্বিক উন্নয়ন একটি অসাধ্য বিষয় যা শিক্ষানুরাগী সচেতন নাগরিক মাত্রই জ্ঞাত রয়েছেন। কিন্তু সরকারী কলেজের শিক্ষকদের নানা সমস্যার স্বরূপটাই বা কি এ জাতীয় প্রশ্ন জনমনে আসাটাই স্বাভাবিক।

যদি পেশাগত হতাশা থেকে শিক্ষকগণ কোন কর্মদ্যোম হারান তবে তাদের হতাশার কারণগুলো চিহ্নিত করা জরুরী। সেই সাথে কেনইবা তারা হতাশ হবেন? এ সমস্যার প্রতিকার ইতিবাচক দৃষ্টিতে বিশ্লেষণ করতে পারলে বর্তমান এবং আগামীতে এর প্রভাব সুখময় হবে তা ভাববার সময় এখন এসেছে।

সরকারি কলেজের শিক্ষকদের স্থায়ী সংকট সমাদানে ‘অতি দ্রুত পদোন্নতি দান’ অথবা ‘পদোন্নতি দানে ‘সকল দাপ্তারিক’ এবং ‘আন্তমন্ত্রনালয়ের ‘দ্রুত কার্যপ্রক্রিয়ার সমন্বয় সাধনই’ অভূতপূর্ব সমাধান আনতে পারে যা এ আলোচনার বিষয়।

আমাদের বাংলাদেশের মত উৎপাদনমুখী শিক্ষার সম্ভাবনাময় একটি জাতির জন্য শ্রেণীকক্ষের বাইরেও শিক্ষার নানা মূখী দ্বায় দায়িত্ব শিক্ষকদের পালন করতে হয়। যেহেতু পদোন্নতি দানের প্রক্রিয়া মাএই ‘দাপ্তারিক’ তাই ‘দাপ্তারিক পদ্ধতি’তে সরকারের মনোযোগ আকর্ষণ করাই বিচক্ষণতার পরিচয় বলে অনেকে মত প্রকাশ করেছেন।

সরকার ক্রমবর্ধমান শিক্ষার্থীদের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে জনস্বার্থে এবং জাতির ব্যাপক শিক্ষাঙ্গনের চাহিদার প্রেক্ষিতে যে কোন স্থানে যে কোন প্রতিষ্ঠানকে সরকারীকরণ করবার সাংবিধানিক এবং নৈতিক অধিকার সরকার প্রধান মাত্রই রাখেন এবং শিক্ষার্থীদের চাহিদা পূরণে শিক্ষা দরদী সরকারের এ জাতীয়করণ প্রচেষ্টাকে অবশ্যই সঠিক বলে বিবেচনায় নেয়ার সুযোগ রয়েছে।

অপ্রিয় হলেও সত্য এবং এটি স্পষ্ট প্রায়োগিক ভাবে যে সরকারী কলেজের শিক্ষকগণের মূল সমস্যা তাদের ‘নির্ধারিত সময়কাল অনুযায়ী’ পদোন্নতি বঞ্চনা। অর্থাৎ পদোন্নতির সমস্ত শর্ত পূরণ করেও যখন তারা নির্দিষ্ট কোনো কারণ ছাড়াই অকারণে পদোন্নতি বঞ্চনার অসহায় শিকার হয়ে থাকেন যা একটি ‘স্বাভাবিক দাপ্তরিক সংস্কতি’ হয়ে দাড়িয়েছে।

এখন প্রশ্ন থাকে যে সরকারী কলেজের শিক্ষকদের এ সংকটের সমাধান কোথায় এবং কিভাবে? যার সমাধান কেবল ‘অতি সত্বর পদোন্নতি দান’ বললেও অত্যুক্তি হবেনা এজন্য যে, ‘শিক্ষকদের মর্যাদা’ নিশ্চিত করণের একটি অন্যতম প্রধান শর্ত হল ‘দ্রুত পদোন্নতি’ যার ব্যত্যয় বিভিন্ন সময় শিক্ষকদেরকে হতাশাগ্রস্থ করে থাকে।

সরকারী কলেজের শিক্ষকদের তাদের ‘প্রভাষক’ থেকে ‘অধ্যাপক’ পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরে পদোন্নতিতে নানান প্রক্রিয়া এবং পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়। কখনও বলা হয় ‘ব্যাচ’ ভিত্তিক পদোন্নতির তালিকা বা ‘সিনিয়রিটি’ নির্ধারণ ‘ব্যাচ’ অনুসারে হলেও ‘একই দিন তারিখে’ পদোন্নতি পান না অর্থাৎ ‘পদোন্নতি যোগ্য হয়েও’ একেক বিষয়ের শিক্ষকগণ একেক সময়ে পদোন্নতি প্রাপ্ত হন । আবার কখনো পদোন্নতির বিভিন্ন স্তরে ‘বিষয় ভিত্তিক পদোন্নতি’ প্রক্রিয়া অবলম্বন করা হয়। সরকারী কলেজে এ জাতীয় ‘বৈচিত্রময় পদোন্নতি/সিনিয়রিটি’ তালিকা তৈরীর বিচিত্র পদ্ধতি বিরাজমান। আবার কখনো তাদের পদোন্নতিতে ‘পদশূণ্যতার তালিকা’ অনুযায়ী উল্লেখিত সব রকম পদ্ধতিতেও পদোন্নতির সুপারিশ করা হয়। এবং পদোন্নতি দিয়েও দেয়া হয় ইতোমধ্যে ‘বিভিন্ন ব্যাচের’ শিক্ষকগণ সেভাবে পদোন্নতি পেয়েও গিয়েছেন।

সরকারী কলেজে বিভিন্ন বিষয়ের শিক্ষা দান করা হয়। শিক্ষকগণ ‘একই ব্যাচের’ হলেও সরকারী কলেজ সমূহে মোট ২৬ থেকে ২৭টি বিষয়ে পাঠদান করেন ভিন্ন ভিন্ন শিক্ষক।কিন্তু পদোন্নতিতে যোগ্যতা থাকলেও ‘একই দিন তারিখে’ পদোন্নতি পান না অর্থাৎ ‘পদোন্নতি যোগ্য হয়েও’ একেক বিষয়ের শিক্ষকগণ একেক সময়ে পদোন্নতি প্রাপ্ত হন। দৃষ্টান্ত স্বরূপ, একটি ব্যাচের এজাতীয় বিভিন্ন বিষয়ের শিক্ষকগণ ‘একই দিন তারিখে’ প্রভাষক পদে যোগদান করলেন কিন্তু বিস্ময়কর হলেও সত্য যে, পরবর্তী ধাপে অর্থাৎ ‘সহকারী অধ্যাপক’ পদে বা ‘সহযোগী অধ্যাপক’ বা ‘অধ্যাপক’ পদে পদোন্নতি দানের ক্ষেত্রে উক্ত ‘একই ব্যাচের’ শিক্ষকগণ পদোন্নতির সমস্ত শর্ত পূরণ করা সত্বেও একই সময় বা তারিখে পদোন্নতি পাচ্ছেন না ।

অন্যান্য ‘ক্যাডার সার্ভিসে’ এত বিষয়ভিত্তিক বিভাজন নেই বলে ’Promotion Rules’ তাদের ‘পদোন্নতিযোগ্যদের’ পদোন্নতি সংকটের সম্মুখীন হতে হয় না; অর্থাৎ ‘ বিভিন্ন  কর্মকর্তা’ ‘পদোন্নতি যোগ্য হলে পদ ‘শূণ্যতায়’ তাদের পদোন্নতি থেমে থাকে না; অনেক তথ্য সবার জানা রয়েছে। কিন্ত শিক্ষা ক্যাডারে’ শিক্ষকরা একই সময়ে ‘একই দিন তারিখে’ যখন পদোন্নতির জন্য সমস্ত শর্ত পূরণ করেন তখনও ‘একই দিন তারিখে’ বা একই ব্যাচের হওয়া সত্বেও তারা একই সময়ে পদোন্নতি পান না। কারণ হিসেবে প্রথমেই বলা হয় ‘পদ খালি নেই’ অথবা অমুক বিষয়ের ‘সৃষ্ট পদ’ নাই। উদাহরণ রয়েছে বাংলা, হিসাববিজ্ঞান, রসায়ন, ব্যবস্থাপনা বা ইংরেজীর মতো বিষয়ে একই ব্যাচের শিক্ষকগণ ‘একই দিন তারিখে প্রভাষক / ‘সহকারী অধ্যাপক’ / সহযোগীঅধ্যাপক’ হিসেবে যোগদান করলেও তারা ‘পদ নেই’ অযুহাতে পরবর্তি ধাপে পদোন্নতি বঞ্চিত হন বছরের পর বছর।

‘ফিডার সার্ভিস’ ভিত্তিক ‘পদোন্নতি প্রক্রিয়া’ অবলম্বনের মাধ্যমে ‘পদোন্নতি প্রক্রিয়া’ চালু থাকলেও ১৪তম ব্যাচের ব্যাপক সংখ্যক ‘সহযোগী অধ্যাপক’ ইতোমধ্যে ‘ফিডার সার্ভিসের’ সমস্ত শর্ত পূরন করলেও এখনও সর্বাধিক সংখ্যক ‘অধ্যাপক’ পদে পদোন্নতি প্রাপÍ হন নাই।

এই বঞ্চনার শিকার হওয়া শিক্ষকদের সংখ্যাই বেশী। পদোন্নতিযোগ্য হয়েও এ সমস্ত বঞ্চিত শিক্ষকগণ প্রকারন্তরে পরিবার, সমাজ তথা জাতির সামনে অযোগ্য (! ) হওয়ার ‘ভাগ্য হত’ মানসিক যন্ত্রণায় বা হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে থাকেন যা অবিশ্বাস করার কারণ নেই।

দৃষ্টান্তস্বরূপ, ২০০৬ সালে একই দিনে/ তারিখে বিভিন্ন  Subject এর ‘সহযোগী অধ্যাপক’ হলেও এবং ‘একই ব্যাচ’ হওয়া সত্বেও একই সময় বা তারিখে ‘ফিডার সার্ভিস’ ভিত্তিক পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় ‘অধ্যাপক’ পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত হন নাই । আবার ঐ ‘একই ব্যাচের’ বেশ কিছু সংখ্যক ‘সহযোগী অধ্যাপক’ তাদের ‘অধ্যাপক’ পদের উপযুক্ত হওয়ার ২ বৎসরের মাথায় ঐ ‘ফিডার সার্ভিস’ এর শর্ত পূরণ করে ইতোমধ্যে পদোন্নতিতে অগ্রাধিকার পেয়েছেন আর ‘পদ নেই’ অযুহাতে বাকীরা ‘কবে ভোর হবে প্রতীক্ষায়’ আর অনাহূত দপ্তরে দপ্তরে ধর্ণার ক্ষয় পদোন্নতি যাত্রায় আশংকা ভয়’ এজাতীয় কষ্টে দিন অতিবাহিত করছেন !

তবে হাজারো শিক্ষকের মাঝে দু’ তিনশ জন পদোন্নতি প্রাপÍকে ‘ব্যতিক্রমী ভাগ্যবান’ ছাড়া আর কী বা বলা যায়? ‘বিসিএস শিক্ষা’ ক্যাডারে ‘বৈচিত্রময়’ পদ্ধতিতে ‘সিনিয়রিটি নির্ধারণ’ একটি অন্যতম মহা সংকট বলে বিশেষজ্ঞ শিক্ষক মাত্রই মনে করেন। আবার অন্যদিকে ‘পিএইচডি’ ডিগ্রীধারীদের ‘পিএসসি’র মাধ্যমে ‘সরাসরি শিক্ষা ক্যাডারে’ শিক্ষকদের অন্তর্ভূক্ত করার প্রক্রিয়া চালু থাকলেও বিগত কয়েক বছরে তা কার্যকরী হিসেবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। তার কারণও অজানা।

‘অধ্যাপক’ পদে পদোন্নতির সমস্ত যোগ্যতা পূরণ করেও ১৪তম ব্যাচের ‘সহযোগী অধ্যাপক’ গণ ‘ফিডার সার্ভিসের’ শর্তানুযায়ী ২০০৯ বা ২০১০ সালেই ‘অধ্যাপক’ পদে পদোন্নতি পাবার যোগ্য বিবেচিত হয়ে থাকার কথা। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে ঐ ‘একই ব্যাচের ‘সহযোগী অধ্যাপকগণ’ পদোন্নতির অপেক্ষায় আছেন একই পদে অদ্যাবধি। সেই ধারাবাহিকতায় ‘১৪তম বিসিএস সাধারণ শিক্ষা’র প্রায় ২৬/২৭টি Subject এর অনেক ‘সহযোগী অধ্যাপক’ পদোন্নতির অপেক্ষায় প্রায় ১২ বছর হতে চল্ল।

পদোন্নতি প্রাপ্ত হলে ঢাকা শহরের চাপ কমাতে পদোন্নতির শর্তে নতুন অধ্যাপকগণ শিক্ষকতা পেশার সর্বোচ্চ পদে আসীন থেকে তারা দেশের প্রত্যেকটি ‘জেলা শহরের’ অনার্স এবং মাষ্টার্স পর্যায়ের কলেজ সমূহে জনস্বার্থে যোগদান করতে বাধ্য এবং পদোন্নতি পাওয়ার পরে নতুন‘অধ্যাপক’বৃন্দ ঢাকার বাহিরের শিক্ষার্থীদের ‘প্রতিটি জেলায় মাষ্টার্স পর্যায়ের কলেজ’ সমূহে অবদান রাখতে পারবেন যা শিক্ষামন্রনালয়ের ভাবমূর্তী তথা সরকারের শিক্ষামূখী কর্মের আলো ছড়াবে পদোন্নতি প্রাপ্ত নতুন অধ্যাপকগণ ঢাকা শহরের বাহিরে দেশের প্রান্তে প্রান্তে। শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দানে নিয়োজিত অথবা সরকারের নির্দেশ মোতাবেক (ইনসিটু) স্ব-স্ব অবস্থানে পদোন্নতি প্রাপ্ত হয়েও পেশাগত দায়িত্ব পালনে মনে প্রাণে দায়বদ্ধ। ইতোমধ্যে ১৪তম ব্যাচের প্রায় অধিকাংশই ‘অধ্যাপক পদের ৪র্থ গ্রেডে’ বেতন ভাতাদি উত্তোলন করে আসছেন। বিচ্ছিন্নভাবে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের ১৪তম ব্যাচ-এর সামান্য কিছু সংখ্যক ইতোমধ্যে ‘অধ্যাপক’ পদে পদোন্নতি পেয়েছেন নিঃসন্দেহে শিক্ষা ক্যাডারের জন্য তা অনুপ্রেরণা। তবে পদোন্নতি প্রশ্নে ১৪তম ব্যাচের অভিজ্ঞ, বর্তমানে বয়োজ্যেষ্ঠ মেধাবী এবং যোগ্য শত শত সহযোগী অধ্যাপকদের ‘নিরব আর্তনাদ’ কারো কর্ণকুহরে প্রবেশ করেনি। শিক্ষকদের স্বার্থরক্ষার নামে কিছু সংগঠনের দিন কয়েক পূর্বে কর্মসূচীতে প্রায় ২৫ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ ১৪তম ব্যাচের কর্মোদ্যোগী, বিশেষজ্ঞ, অভিজ্ঞ মেধাবী ‘সহযোগী অধ্যাপকদের’ (যাদের অনেকেই ২০০৬ সালে ‘সহযোগী অধ্যাপক’ হয়েও একই পদে অদ্যাবধি) অহেতুক বিলম্বিত পদোন্নতির মতো সর্বার্ধিক প্রত্যাশিত সার্বজনীন এবং তাদের মনোকষ্টের বিষয়টিকে সুক্ষ ভাবে পাশ কাটিয়ে অন্যদিকে দৃষ্টি ফেরানোর প্রচেষ্টা হয়েছে বলে ভূক্তভোগী ‘বর্তমানে অধ্যাপক পদে পদোন্নতিযোগ্য সহযোগী অধ্যাপকরা’ মনে করেন।

এ ‘বিলম্বিত পদোন্নতি’ই সরকারী কলেজের শিক্ষকদের ‘একমাত্র সংকট’ বলে পদোন্নতিযোগ্য বিভিন্ন বিষয়ের সরকারী কলেজের শিক্ষকগণ তা বিশ্বাস করেন।বারবার হয় এ ’সংকট’ এলেও তা কারও নজর কাড়ে না। দেশের লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী প্রজন্মের মেধা বিকাশ এবং সৃজনশীলতা বৃদ্ধিতে অবদান রাখার পাশাপাশি শিক্ষা সংক্রান্ত ক্যাম্পাস ভিত্তিক এবং শিক্ষার্থী সংশ্লিষ্ট প্রতিটি ব্যবস্থাপনায় সক্রিয় দায়িত্ব পালন ছাড়াও জাতীয় এবং স্থানীয় ‘নির্বাচন কালীন’ বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ‘প্রিজাইডিং অফিসার’ হিসেবেও বিগত ২৪ বছরের সকল নির্বাচনেই সরকারী কলেজের শিক্ষক সম্প্রদায় তথা ১৪তম ব্যাচের ‘সহযোগী অধ্যাপকগণ’ ‘নিবেদিতপ্রান শিক্ষক’ হিসেবে ভূমিকা পালন করে এসেছেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতোমধ্যে নতুন নতুন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং একাডেমিক ইনষ্টিটিউট প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শিক্ষার ব্যাপক সম্প্রসারণ ঘটিয়েছেন। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও ‘একজন শিক্ষানুরাগী রাষ্ট্রনায়ক’ হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের ক্রমবর্ধমান শিক্ষার্থীদের চাহিদা পূরণে নতুন ভাবে কলেজ সরকারীকরণও করেছেন। যা তাঁর শিক্ষা দরদী মানসের সুদৃঢ় পরিচয় বহন করে।

বর্তমানে ১৪তম ব্যাচের প্রায় ২৬-২৭টি বিষয়ের ‘সহযোগী অধ্যাপকদের’ পদোন্নতি সর্বাধিক গুরুত্বের দাবীদার বলে ১৪তম ব্যাচের সকল শিক্ষক বিশ্বাস করেন যা ‘দাপ্তরিক প্রক্রিয়ায়’ সমন্বয়ের মাধ্যমে অতি সত্বর সমাধান করা যায়। আমরা বিশ্বাস করি মেধা সম্পদে ভরপুর বাঙালি জাতির শিক্ষার্থী প্রজন্মের জন্য মেধাবী অভিজ্ঞ এবং গবেষণায় নিয়োজিত বিশেষজ্ঞ শিক্ষকের উৎসাহিত করার কোনো বিকল্প নেই।
সরকার জাতির লক্ষ লক্ষ শিক্ষাথীর চাহিদা পূরণে রাস্ট্রের সার্থ্বে ই ‘যোগ্য অবকাঠামোগত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে অথবা যে কোন কলেজ সরকারীকরণ করতে পারেন তাতে সাধারণ শিক্ষকদের ভাব বার বিষয় নয়। পদোন্নতি প্রশ্নে বিসিএস এর ‘ব্যাচ ভিক্তিক’ শিক্ষক গন যাতে কোন ভাবেই ক্ষতিগ্রস্থ না হয়ে দেশোন্নয়নে শিক্ষা সেবা দিয়ে যেতে পারেন সেটাই মূুুুখ্য বিষয়।

বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, বর্তমানে সরকারী কলেজে কর্মরত ১৪ ব্যাচের শত শত ‘সহযোগী অধ্যাপকগণ’ আগামী ৪/৫ বছরের মধ্যে অবসরে যাবেন। কিন্তু ‘অধ্যাপক’ হিসেবে শিক্ষকতা পেশার সর্বোচ্চ আসন অলংকৃত করে ‘শিক্ষক জীবনের’ শেষ ‘মর্যাদার’ আশা পূরণ এখন তাদের কাছে সবচেয়ে বড় ‘মর্যাদার প্রশ্ন’ হয়ে দাঁড়িয়েছে যা শিক্ষামুখী রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বের একটি বড় উদারনেতিক অবদান বলে বিবেচিত হবে।

২৪টি ক্যাডারের মধ্যে এ পেশায় পদোন্নতি প্রক্রিয়ার ‘মন্থর গতিময়তা’ মেধাবীদেরকে নিরুৎসাহিত করে ; ফলে মেধাবীরা ‘বিসিএস শিক্ষা’ ক্যাডারে যোগ দানে উৎসাহিত বোধ করেন না বলে জাতির বুদ্ধিজীবি সমাজ বিশ্বাস করে।

মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ইতোমধ্যে শিক্ষার নানা উন্নয়ন কর্মকান্ডে নিজের দক্ষতার প্রমান দিয়েছেন। পদোন্নতি যোগ্য হয়েও ১৪ তম ব্যাচের শিক্ষকগণ হতাশায় পার করছেন প্রতিটি সৃজনশীল দিন।

দীর্ঘসূত্রীতা কারো কাম্য নয়। কবে ‘শূণ্য পদ’ তৈরী হবে বা ‘নতুন পদ সৃষ্ট’ হবে বা কোন দপ্তর সেই শূণ্য পদ বা নতুন পদ সৃষ্টির দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বা কারা দ্রুত পদোন্নতির স্বার্থে ‘বিবেকী সাহস’ নিয়ে এ নৈতিক দায় গ্রহণ করার মত দেশে কেউ আছেন কি সিদ্ধান্ত নেবার?
‘নিবেদিতপ্রান শিক্ষক’ হবার অন্যতম পূর্বশর্ত পদোন্নতি যা ২৫ বছর ধরে ১৪তম ব্যাচের উল্লেখিত ‘সহযোগী অধ্যাপকগনের’ নিরব আর্তনাদের প্রতীক্ষায় ‘অধ্যাপক’ পদে পদোন্নতির জন্য আর কত দিন তারা অপেক্ষমান থাকবেন তা হয়তো বিধাতাই জানেন!

শিক্ষকদের পদোন্নতি হলে শিক্ষকরা উৎসাহ পাবেন। শিক্ষার অগ্রগতি হলে অনিবার্যভাবে বিশ্বদরবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর মাথা উঁঁচু করে চলার ‘আত্মনিভরশীলতার দীক্ষা’ জাতির মানসপটে আসবেই! শিক্ষানুরাগী এবং শিক্ষক দরদী গণতন্ত্রের মানসকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ‘আত্মমর্যাদা সম্পন্ন জাতি গঠনের দৃঢ় প্রত্যয়ী’ অগ্রযাত্রায় শিক্ষকরা প্রতিদিনের সহযোগী আর তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অভিভাবকত্বে মাতৃসম করুণা হস্তেই তার সমাধান প্রার্থনা সমর্পণ করা সমীচীন বলে পদোন্নতিযোগ্য ‘সহযোগী অধ্যাপকগণ’ মনে করেন

একই ধরনের আরও সংবাদ