অধিকার ও সত্যের পক্ষে

আগামীকাল শুরু বিশ্ব ইজতেমা দলে দলে আসছেন মুসল্লি

 অনলাইন ডেস্ক

গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগ তীরে আগামীকাল শুক্রবার শুরু হচ্ছে ৫৩তম বিশ্ব ইজতেমা। মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম এ ধর্মীয় গণজমায়েতকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা বলয়। সিসিটিভি, ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ ও নানা নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা ছাড়াও পুলিশ ও র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এরই মধ্যে ইজতেমা ময়দানে অবস্থান নিয়েছেন। আসছেন দেশ-বিদেশের লাখো মুসল্লি।

তাদের ইজতেমা ময়দানে সমবেত ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা টঙ্গীকে রূপ দিয়েছে ধর্মীয় নগরীতে। শুক্রবার বাদ ফজর আম বয়ানের মধ্য দিয়ে ৫৩তম বিশ্ব ইজতেমার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। রবিবার আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের ইজতেমার প্রথম পর্ব।সরেজমিনে দেখা গেছে, তবলিগ জামাতের উদ্যোগে তুরাগতীরে নির্মাণ করা হয়েছে বিশাল শামিয়ানা। রাস্তাঘাট মেরামত, মাঠ সমতল করাসহ নানা প্রস্তুতিমূলক কাজ এরই মধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। ময়দানের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে প্রস্তুত রয়েছে বিদেশিদের জন্য আলাদা নিবাস। তাদের থাকা, খাওয়া ও অবস্থানে যেন কোনো ধরনের সমস্যা না হয়, সেজন্য ইজতেমার নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবকরা দিনরাত কাজ করছেন। তাদের রান্নাবান্নার জন্য গ্যাস সংযোগ, বিদ্যুৎ সংযোগসহ সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া এবারের ইজতেমায় ৩২ জেলার প্রত্যন্ত এলাকা থেকে লাখো মুসল্লি অংশগ্রহণ করবেন। ইজতেমায় আগত এসব মুসল্লির সুবিধার্থে গভীর নলকূপ থেকে পানি সরবরাহ, স্থায়ী টয়লেট ও সার্বক্ষণিক বিদ্যুতের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ময়দানের পশ্চিম প্রান্তে বয়ানমঞ্চ, দোয়া মঞ্চ, তুরাগ নদীতে ভাসমান সেতু নির্মাণ করা হয়েছে।

আসছেন দেশ বিদেশের লাখো মুসল্লি : দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ইজতেমা ময়দানে এরই মধ্যে মুসল্লিদের আগমন শুরু হয়েছে। বাস, মিনিবাস, ট্রেনে চড়ে দলে দলে আসছেন মুসল্লিরা। এ ছাড়া ভারত, পাকিস্তান, সৌদি আরব, মরক্কো, সুদান, মিসর, ইরাক, ইরানসহ অন্তত ১৩৫ দেশের মুসল্লিরা ইজতেমা ময়দানে আসতে শুরু করেছেন।

এসব দেশ থেকে এবার সহস্রাধিক মুসল্লি অংশ নেবেন বলে আশা আয়োজকদের।লাখ লাখ মুসল্লির সমাগমকে সামনে রেখে ইজতেমা ময়দানে গতবারের চেয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও বাড়ানো হয়েছে। স্থায়ী সিসিটিভি বসানোসহ থাকছে ১৫টি ওয়াচ টাওয়ার, পুলিশ, র্যাবের আলাদা কন্ট্রোল রুম। ইজতেমা মাঠে একটি কেন্দ্রীয় এবং পাঁচটি সাব কন্ট্রোল রুম থাকছে।গাজীপুর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন-অর-রশিদ বলেন, ইজতেমা উপলক্ষে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। গত ইজতেমায় সাড়ে পাঁচ হাজার পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করেছিল। এবার সাত হাজার পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবে।

এ ছাড়াও সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্যের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। ইজতেমা ময়দান ও এর আশপাশের এলাকায় ৪১ সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এ সিসি ক্যামেরাগুলো স্থায়ীভাবে স্থাপন করা হয়েছে। যাতে সারা বছর ইজতেমা ময়দানের আগত তবলিগ জামাতের মুসল্লিদের নিরাপত্তার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা যায়। গত বারের মতো এবারেও ইজতেমায় ড্রোন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। এ ছাড়া বিদেশি মেহমানখানায় সাদা পোশাকে পুলিশ কাজ করবে। আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশির ব্যবস্থা থাকবে। থাকবে নৌটহলও, যাতে ময়দানের পশ্চিম পাশ দিয়ে কোনো দুষ্কৃতকারী প্রবেশ করতে না পারে।গাজীপুর ট্রাফিক পুলিশ ইন্সপেক্টর সোহরাব আহমেদ মজুমদার বলেন, ইজতেমা উপলক্ষে ৭১৯ জন ট্রাফিক পুলিশ ও ৩০০ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। বুধবার বিকাল পর্যন্ত ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের কোথাও যানজটের খবর পাওয়া যায়নি।

গাজীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ডিএকেএম নাহীন রেজা বলেন, ইজতেমা উপলক্ষে টঙ্গী স্টেশনরোড ও টঙ্গী বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকার ফুটওভারব্রিজ দুটি মেরামতের পাশাপাশি রাতে বাতির ব্যবস্থা করা হয়েছে।জিসিসির প্রধান নির্বাহী কেএম রাহাতুল ইসলাম বলেন, বিশ্ব ইজতেমার সার্বিক কার্যক্রম মনিটর করার জন্য ৫টি কন্ট্রোলরুম স্থাপন করা হয়েছে। ইজতেমায় আগত দেশি-বিদেশি মেহমানদের অভিনন্দন ও স্বাগত জানিয়ে ১৩টি তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে। ইজতেমা ময়দানের সার্বিক নিরাপত্তা মনিটরিং কাজে পুলিশের জন্য ১৫টি ও র্যাবের জন্য ৯টি ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে। ইজতেমায় নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত সদস্যদের জন্য ১৫৪টি অস্থায়ী টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে। মুসল্লিদের ওজু-গোসল, পয়ঃনিষ্কাশন ও সুপেয় পানি সরবরাহের জন্য ইজতেমা ময়দানে ১৩টি গভীর নলকূপ দ্বারা ১৮.৫০ কিলোমিটার পাইপ লাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন ৩ কোটি ৫৪ লাখ গ্যালন সুপেয় পানির সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। ইজতেমা আয়োজক কমিটির চাহিদা মোতাবেক ১০০ ড্রাম ব্লিচিং পাউডার সরবরাহ করা হয়েছে। এ ছাড়া ২১টি গার্বেজ ট্রাকের মাধ্যমে দিন-রাত বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম নিশ্চিত করা হয়েছে।

ইজতেমা ময়দান ও এর আশপাশের এলাকায় ২৬টি ফগার মেশিন দিয়ে মশক নিধন করা হবে। ইজতেমা ময়দানের চারপাশে ৪৯৬টি বৈদ্যুতিক বাতির ব্যবস্থা করা হয়েছে। সুষ্ঠু ও সফলভাবে ইজতেমা পালনের জন্য গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সমন্বয়ে ১২টি কমিটি গঠন করে দায়িত্ব বণ্টন করে দেওয়া হয়েছে। মুসল্লিদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে ৪৫টি কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। বিদেশি মেহমানদের রান্নার জন্য ১৩৬টি গ্যাসের চুলা স্থাপন করা হয়েছে।জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ইজতেমা ময়দানে আগত মুসল্লিরা একসঙ্গে ৯ হাজার শৌচাগার ব্যবহার করতে পারবেন।

একই ধরনের আরও সংবাদ