অধিকার ও সত্যের পক্ষে

শিক্ষকদের অবহেলায় থমকে যাচ্ছে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা

 নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

একদিকে সহকারী শিক্ষকগণেরা বেতন বৈষম্য নিয়ে আন্দোলন করছি অন্য দিকে আমাদের সহকারী শিক্ষকদের জেষ্ঠ্যতা নির্ধারন ও সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে দীর্ঘ ৯ বছর সময় ধরে বন্ধ থাকা পদোন্নতি নিয়ে তুঘলগি কান্ড চলছে তো চলছেই। ২০১৫ খ্রিঃ থেকে পদোন্নতির জন্যে অসংখ্যবার জেষ্ঠ্য সহকারী শিক্ষক থেকে এসিআর সংগ্রহ করে গ্রেডেশান প্রেরন করা হলেও বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে মাঠ পর্যায়ে বার বারই ফেরৎ পাঠানো হয়েছে।

পদোন্নতি নামক নিয়ামকটি ২০০৯ খ্রিঃ এর পরে এখন পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি। ইতিমধ্যে গ্রেডেশানভুক্ত অনেক শিক্ষক বেদনাহত হৃদয় রক্তক্ষরিত হয়ে পদোন্নতি না পেয়েই পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন। নিয়োগবিধি সংশোধন জটিলতা দেখিয়ে চলমান মে ২০১৭ খ্রিঃ চেয়ার বদলের আদলে পদোন্নতির প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে চলতি দায়িত্ব নামীয় কার্যক্রমটি শুরু হলেও বারবার সদ্য জাতীয়করণকৃত বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মহামান্য উচ্চ আদালতে রীটের প্রেক্ষিতে এবং বিভাগীয় দীর্ঘসূত্রিতায় ৮ মাসে ৪ টি জেলায়ও চলতি দায়িত্বের কার্যক্রম সুসম্পন্ন হতে পারে নি।

দীর্ঘ সময়ে কখনও পদোন্নতির জন্যে কিংবা চলতি দায়িত্বের নামে জেষ্ঠ্যদের তালিকা, কখনো সম্বলিত তালিকা নামে গ্রেডেশান নেয়া হলেও সেটিও বিভিন্ন অসংগতিহেতু বার বারই ফেরৎ এসেছে তৃণমূল পর্যায়ে । সর্বশেষ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ৮ অক্টোবর – ২০১৭ তারিখের স্মারক নং ৩৮.০১.০০০০. ৪০০.১২.০২০.১৭.৩০ এর প্রেক্ষিতে সারা দেশের সকল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার গণকে পর্যায়ক্রমিক ভাবে ৭ কার্যদিবসে সম্মিলিত গ্রেডেশানের প্রক্রিকার সুনির্দিষ্ট ধারনা দিয়ে ব্রিফিং করেছিলেন।

গ্রেডেশান করণের সব কয়টি পত্রে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগবিধিমালা ২০১৩, অধিগ্রহণকৃত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক ( চাকুরীর শর্তাদি নির্ধারন) বিধিমালা -২০১৩ ও জেষ্ঠ্যতা নির্ধারণ বিধিমালা -২০১১ এর ভিত্তিতেই গ্রেডেশান করার নির্দেশনা থাকলেও ১৮ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়ের বেসরকারি শিক্ষক কল্যাণ ট্রাস্ট নামীয় সদ্য জাতীয়করণকৃত বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংগঠনের নেতার আবেদনে ৩৩ তম সভার সিদ্ধান্তে সদ্য জাতীয়করণকৃত শিক্ষকদের ৫০% হিসেবে করে জেষ্ঠ্যতা নির্ধারণের পত্র জারি করানোর সুযোগকে কাজে লাগিয়ে চলতি দায়িত্ব প্রদানের জন্যে শতভাগ প্রস্তুত হওয়া প্রায় ১৪ জেলার কার্যক্রম থমকে আছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়ে।

অথচ যে তিনটি প্রজ্ঞাপনের ভিত্তিতে সহকারী শিক্ষকদের গ্রেডেশান করার নির্দেশনা রয়েছে তার মধ্যে, প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগবিধি মালা ২০১৩ এর সহকারি শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কমপক্ষে ৭ বছরের অভিজ্ঞতা শর্তটি আবশ্যিকভাবে রয়েছে, আবার জেষ্ঠ্যতা নির্ধারণ বিধিমালায় উম্মুক্ত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কমিশন কিংবা কমিটির মাধ্যমে নিয়োগকৃত দুই বা ততোধিক ব্যক্তির জেষ্ঠ্যতা পারস্পারিক মেধাক্রম অথবা বয়সের জেষ্ঠ্যতার ভিত্তিতে নির্ধারণে নির্দেশ থাকায় এবং সদ্য জাতীয়করণকৃত বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দের এই শর্তগুলো ঘাটতিজনিত কারনে তারা ৫০% চাকুরীকাল হিসেব করে গ্রেডেশান তালিকায় জেষ্ঠ্য দাবী করার সুযোগ না থাকা সত্ত্বেও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষকদের ন্যায্য পাওনা প্রধান শিক্ষকের চলতি দায়িত্বটি স্থবির রাখা হয়েছে।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির ব্যানারে জাতীয়করণকৃত শিক্ষক নেতারা মাঠ পর্যায়ে সহকারি / প্রধান শিক্ষদের ৫০% চাকুরী সুবিধা বঞ্চিত করা হচ্ছে এ অজুহাতে বড় আকারে চাঁদা সংগ্রহ করে একদিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের চলতি দায়িত্ব বাঁধাগ্রস্থ করছে অন্যদিকে দীর্ঘ সময় সরাসরি নিয়োগ পেয়ে সরকারি চাকুরীতে শিক্ষক হিসেবে চাকুরী করা সহকারী শিক্ষকদের জেষ্ঠ্যতা ক্ষুন্ন করার জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

সারা দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা যখন বেতন বৈষম্যের জন্যে আন্দোলনে ছিলো সে সুযোগে সদ্য জাতীয়করণকৃত শিক্ষকরা একাট্টা ৫০% আর্থিক সুবিধার সুযোগ কে জেষ্ঠ্যতার সুযোগ হিসেবে কাজে লাগিয়ে ২০০৩ সালের পর থেকে সরাসরি নিয়োগ পাওয়া বিপুল সংখ্যক সহকারী শিক্ষকের সিনিয়রয়িটি ক্ষুন্ন করে নিজেদের অনিয়মতান্ত্রিকভাবে জেষ্ঠ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা এবং চলতি দায়িত্বের কার্যক্রম দীর্ঘ সময়ের জন্যে বন্ধ করে দেয়া।

সেই নিরিখে তারা ইতেমধ্যে বিভিন্ন উপজেলায় গোপন সভা সম্পন্ন করে আজ ঢাকায় একটি হোটেলে গোপন সভায় বসছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিপুল সংখ্যক সহকারী শিক্ষক বেতন বৈষম্যের চেয়ে এ বিষয়টিকে অধিক গুরুত্ব দেয়া জরুরী। এমনিতে সারা দেশে প্রায় ২১ হাজার প্রধান শিক্ষকের পদশূন্য তন্মধ্যে অধিকাংশই ৩/৪ শিক্ষক কর্মরত বিদ্যালয় সে ক্ষেত্রে চলতি দায়িত্বে অচলবস্থা সৃষ্টি হলে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষায় স্থবিরতা সৃষ্টি হবে, শিক্ষকদের মাঝে চরম অসন্তোষ তৈরি হবে ন্যায়সঙ্গত সুবিধা বঞ্চিত হওয়ার কারণে। তাই সকল শিক্ষক সংগঠনকে এ বিষয়টি অনুধাবন করে কর্তৃপক্ষ কে যৌক্তিক ও বিধিবদ্ধ বিবেচনায় চলতি দায়িত্বের কার্যক্রমটি দ্রুততম সময়ে শেষ করার জন্য জোরালো দাবী প্রদানের অনুরোধ করছি।

একই ধরনের আরও সংবাদ