অধিকার ও সত্যের পক্ষে

শিক্ষাক্ষেত্রে অস্থিরতা নিরসনে উদ্যোগ নিন

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বছরে এসে দেশের শিক্ষা খাতে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষকদের অনশনের পর এখন অনশনে আছেন নন-এমপিও শিক্ষকরা। নতুন বছরের প্রথম দিন থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান করছেন ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষকরা। দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের দাবিতে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ১০ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ধর্মঘট ও অনশন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে। ৬, ৭ ও ৮ জানুয়ারি দেশের সব সরকারি কলেজ ও শিক্ষাসংশ্লিষ্ট দপ্তরে কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়ে রেখেছে বাংলাদেশ বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতি। জাতীয়কৃত কলেজগুলোর শিক্ষকরাও ক্যাডারভুক্তির দাবিতে কর্মসূচি পালন করবেন বলে জানা গেছে। শিক্ষক-কর্মচারী সংগ্রাম কমিটিও দেশের সব উপজেলা সদর ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে ৯ থেকে ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত কর্মসূচি পালন করবে। ৩৪ তম বিসিএস থেকে নিয়োগ প্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকরাও আন্দোলনের প্রস্তুতিতে । চারিদিকে শুধু আন্দোলন আর আন্দোলন।

দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষকদের দাবি নতুন নয়। ২০১০ সাল থেকে সরকার সব ধরনের প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তি বন্ধ রেখেছে। নন-এমপিও অনেক শিক্ষকই ১৫ থেকে ২০ বছর বিনা বেতনে চাকরি করছেন। ওদিকে রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ হলেও বাইরে থেকে যায় ইবতেদায়ি মাদরাসা। এসব মাদরাসার প্রধান শিক্ষকের সর্বোচ্চ বেতন দুই হাজার ৫০০ টাকা। সহকারী শিক্ষকরা পান দুই হাজার ৩০০ টাকা। প্রশ্ন হচ্ছে, শিক্ষাক্ষেত্রে, বিশেষ করে শিক্ষকদের বেতন-ভাতার এ বৈষম্য কেন।

শিক্ষকরা দাবি আদায়ে রাজপথে অনশন করছেন, এই দৃশ্য জাতির জন্য সম্মান বয়ে আনে না। নন-এমপিও শিক্ষকদের অনশনস্থলে শিক্ষামন্ত্রী গিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি শিক্ষকদের আশ্বস্ত করতে পারেননি। শিক্ষকরা সুনির্দিষ্ট ঘোষণা চেয়েছেন। সংশ্লিষ্ট দপ্তর এমপিওভুক্তির বিষয়ে কাজ করছে বলে জানা গেছে। কিন্তু তারও একটি নির্দিষ্ট সময় থাকা প্রয়োজন। শিক্ষকদের দাবি বিবেচনা করতে হবে।

আমরা আশা করি, সরকার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েই বিবেচনা করবে। শিক্ষকদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরিয়ে নিতে হবে। একই সঙ্গে তাঁদের মান উন্নত করার বিষয়টিও বিবেচনা করতে হবে। দক্ষ ও যোগ্য শিক্ষকরাই মেধাবী প্রজন্ম গড়ে তুলতে মূল ভূমিকা পালন করবেন—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

একই ধরনের আরও সংবাদ