অধিকার ও সত্যের পথে

ইবরাহিম আলাইহিস সালামের যে কথায় নমরুদ নির্বাক হয়েছিল

 অনলাইন ডেস্ক

কুরআনুল কারিমের মানুষের জন্য সর্বোত্তম নিষ্কলুষ ও নির্ভূল জীবন ব্যবস্থা। যে বা যারা কুরআনের আলোকে নিজেদের জীবনকে পরিচালিত করেছে; তাদের দুনিয়া ও পরকালীন জিন্দেগি সফলতায় পরিপূর্ণ।

এ কুরআনে আল্লাহ তাআলা জীবন ব্যবস্থার উত্তম নীতিমালার পাশাপাশি মানুষের জন্য রেখেছেন আগের অনেক নবি-রাসুলদের জীবনে ঘটে যাওয়া অসংখ্য ঘটনা। যা মানুষের তাওহিদের প্রতি বিশ্বাস স্থাপনে সহায়ক। মানুষের জন্য ইতিহাস, উপদেশ ও জীবন সমস্যার সমাধান।

মুসলিম জাতির পিতা হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম ও অত্যাচারী শাসক নমরুদের সঙ্গে আলোচিত কথাও ওঠে এসেছে পবিত্র কুরআনে। হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামের এক দাবির কাছে হতবুদ্ধি হয়ে যায় বাদশাহ নমরুদ। যা বর্ণনা করে আল্লাহ তাআলা বলেন-

আয়াত পরিচিতি ও নাজিলের কারণ
সুরা বাকারার ২৫৮নং আয়াতে আল্লাহ তাআলা হজরত ইবরাহিম আলাইহিসের সেই অসাধারণ দাবির বিষয়টি তুলে ধরেছেন। যা তাওহিদ তথা আল্লাহর একত্ববাদকে প্রমাণে অকাট্য দাবি। যে দাবির কাছে হেরে গিয়ে নির্বাক হয়েছিল অত্যাচারী বাদশাহ নমরুদ।

কথিত আছে যে, হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম-এর পিতা নমরুদের দরবারের কর্মকর্তা ছিল। ইবরাহিম আলাইহিস সালাম যখন প্রকাশ্য শিরকের বিরোধীতা ও তাওহিদের প্রচার শুরু করে এবং তাদের দেবালয়ে প্রবেশ করে দেব-দেবীর মূর্তিসমূহকে ভেঙ্গে ফেলেন তখন তাঁর পিতা নিজেই বাদশাহর কাছে ছেলের বিরুদ্ধে নালিশ করে।

বাদশাহ নমরুদ একত্ববাদের আহ্বানকারী হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামকে চ্যালেঞ্জ দিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘সে কেমন প্রভু? যার প্রতি তুমি মানুষকে আহ্বান করছ? আমাকে তাঁর কিছু বৈশিষ্ট্য শোনাও।

তখন হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম বললেন, ‘জীবন-মরণের সব শক্তি তারই হাতে। তিনি সমগ্র সৃষ্টির নিয়ন্ত্রণকর্তা ও পালনকর্তা। কারো সাধ্য নেই যে তাঁর এ ক্ষমতার মধ্যে কোনোরূপ হস্তক্ষেপ করবে। হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামের এ প্রশ্নের উত্তরেই নির্ধারিত হয়েছিল যে, একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারী শুধুই আল্লাহ তাআলা।

তারপরও নমরুদ নিজেকে জীবন-মৃত্যুর ক্ষমতার অধিকারী বলে দাবি করে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুজন কয়েদিকে ডেকে এনে একজনকে ফাঁসি আর একজনকে ক্ষমা করে মুক্তির নির্দেশ দেয়। আর বলে আমি নিজেও মানুষকে জীবন দান করি এবং মৃত্যু ঘটাই।

সঙ্গে সঙ্গে হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম বললেন, ‘জীবন-মৃত্যুর বিষয়টি থাকুক। মানুষের সাধারণ বুঝের প্রতি খেয়াল করে তিনি বললেন, ‘প্রকৃতির সাধারণ একটি ক্ষেত্রে তোমার শক্তি পরীক্ষা করে দেখাও। নমরুদ নিজেকে সূর্যদেবীর অবতার মনে করত।

সূর্যকে দেবতা মানার এ ভ্রান্ত আকিদার মূলে কুঠারাঘাত করতেই তিনি নমরুদকে বললেন, ‘(আমি যার দিকে মানুষকে আহ্বান করি সে আল্লাহ তাআলা পূর্ব দিক থেকে সূর্য উদিত করেন। তুমি যদি সত্যিই নিজেকে রব ও সূর্য দেবীর অবতার হিসেবে দাবি কর তবে, একবারের জন্য হলেও পশ্চিম দিক থেকে সূর্যকে উদিত করে দেখাও।

হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামের এ দাবির ফলে নমরুদ হতবুদ্ধি হয়ে যায়। তাঁর দাবি পূরণে অপারগ হয়ে যায়। তা করে দেখানো দূরের কথা হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামের কথা শুনেই নমরুদ নির্বাক ও হতবম্ভ হয়ে যায়। আর কুরআনে তা এভাবেই তুলে ধরা হয়েছে।

নমরুদ যে নিজেকে আল্লাহর সমকক্ষ দাঁড় করানোর নিষ্ফল চেষ্টা করে; হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামের এ দাবির ফলে সে চেষ্টা নিষ্ফল হয়ে যায়।

পড়ুন- সুরা বাকারার ২৫৭ নং আয়াত

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে কুরআনের যাবতীয় বিধি-বিধানের পাশাপাশি আগের সব নবি-রাসুলদের সঙ্গে সমকালীন বাদশাহদের কথা-বার্তাসহ যাবতীয় ঘটনা জানার তাওফিক দান করুন। ঈমানি চেতনা বৃদ্ধিতে ঐ সব ঘটনা থেকে অনুপ্রেরণা গ্রহণের তাওফিক দান করুন। আমিন।

একই ধরনের আরও সংবাদ