অধিকার ও সত্যের পক্ষে

সহকারিদের বৈষম্য বনাম পর্যায়ক্রমিক বাস্তবায়ন

 নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মহোদয় বলেছেন,প্রধান শিক্ষকের সাথে সহকারিদের বেতন বৈষম্য পর্যায়ক্রমে কমিয়ে এক গ্রেড ব্যবধানে নিয়ে আসা হবে।এতে একটাই প্রতীয়মান যে, মন্ত্রী মহোদয় ও কর্তারা বুঝতে পেরেছেন যে বৈষম্য আছে আর তা প্রকট! ধন্যবাদ মন্ত্রী মহোদয়কে যদিও তা বুঝতে উনারা সক্ষমতা লাভ করেছেন “আমরণ অনশন”এর কল্যাণে যদিও বিশৃঙ্খলা ছিল,মাইক টানাটানি ও হুল্লোড় হয়েছে। আর এই কার্য ঘটেছে মহাজোট নামে সবাই এক হওয়ায় পরে, অনলাইনের প্রচার, বিভিন্ন শিক্ষক গ্রুপ ও সর্বোপরি শিক্ষা বিষয়ক অনলাইন নিউজ পত্রিকা শিক্ষাবার্তার কল্যাণে। শুধু তাই নয়, দেশের আপামর জনগণ বুঝতে পেরেছে।
পরবর্তীতে মন্ত্রী মহোদয়ের “পর্যায়ক্রমিক” শব্দটি শিক্ষক সমাজে ভাইরাল হয়ে গেছে। তার অর্থ হল, আমি স্বীকার করে গেলাম কিন্তু বাস্তবায়ন করলাম না পর্যায়ের স্ববিরোধী নীতিতে যা কাম্য নয়। আমরা সহকারি শিক্ষকেরা বিদ্যালয়ের সকল কর্মকান্ড ধারাবাহিক ও যথাযথভাবে পালন করছি। এখন আমরাও যদি কর্মকান্ড পর্যায়ক্রমিক করি তবে প্রাথমিক শিক্ষা কোথায় যাবে? আমাদের বিবেক তা মানবে না সুতরাং আপনাদের বিবেক মানবে কেন? নতুন করে আন্দোলন যেন না হয় সেদিকে ইতিবাচক দৃষ্টি দিতে হবে। বিচার মেনে তালগাছ আমার বলা শোভিত হবেনা অথচ আপনারা সেদিকেই হাঁটছেন।

আগডুম বাগডুম কি মন্তব্য করেছে তার কোন ভিত্তি আছে? এভাবে তার আলোচনার ফলে সেও নেতা বনে যাচ্ছে। মাত্র কয়েক হাজার সরাসরি প্রধান শিক্ষক আছে যাদের মধ্যে গুটিকতক শিক্ষক প্রলাপ বকছে আর সহকারি চার লক্ষ প্রায়! সহকারি প্রধান শিক্ষক পদ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অযাচিত সমস্যা তৈরি করবে।যেখানে প্রধান ছাড়া বিদ্যালয় চলে,পাঠদানের পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই সেখানে সহকারি প্রধান শিক্ষক পদ মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধক হবে।কারণ সহকারিদের ধারণা এবং তা-ই বাস্তব যে,কিছু ব্যক্তি সহকারিদের সাথে ব্যবধান রাখতে আইনি প্রক্রিয়া পোক্ত করতে চাচ্ছে। যদিও এমন কিছু পদ আছে যেখানে আলাদা পদের স্কেল একই শুধুই অতিরিক্ত ইনক্রিমেন্ট বা ভাতা দেয়া হয় উপরের পদে যা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগেও আছে। এখন যদি আমরা বলি, প্রত্যেক বিদ্যালয়ে একজন করে সিনিয়র প্রধান শিক্ষক দেয়া হোক এবং তিনি পিএসসির নিয়োগপ্রাপ্ত হবেন তবে কেমন হয়? তখন উনারা মানবেন না,কেন?
সহকারি শিক্ষকদের অজস্র সংগঠনের  সহস্র খন্ড।সবাই ক্রেডিট নিতে মরিয়া। অধিকাংশ শুধুই ফেইসবুকিং ও মিডিয়ায় হাজির হতে আগ্রহী কারণ,প্রচারে প্রসার। বিচ্ছিন্ন ও হোমওয়ার্ক ছাড়া গিয়ে সহকারিদের ভাগ্য বিলম্বিত করতে পারেন।সংগঠনের ভিতরে বাকপটু নেতাদের পাঠান,সবখানে শুধুই সভাপতি যাবে কেন?
নিজেদের ন্যায্য মর্যাদা ও অধিকারের ব্যাপারে স্বপ্রণোদিত হয়ে আলোচনার ব্যবস্থা করতে হবে।একক প্রচার বন্ধ করতে হবে। তবেই খুব শীঘ্রই অধিকার ফিরে পেতে পারি।

একই ধরনের আরও সংবাদ