অধিকার ও সত্যের পথে

ঐতিহ্যের ধারক বাহক কাজি আজহার আলি কলেজ

 শিক্ষাবার্তা ডেস্কঃ

বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার জিরো পয়েন্টে অবস্থিত কাজি আজহার আলি কলেজ (ফকিরহাট কলেজ)। ১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দে কিছু জ্ঞানপিপাসু ব্যক্তি তাঁদের সম্মিলিত প্রয়াশ, নিরন্তর প্রচেষ্টা আর অদম্য মনোবলকে সম্বল করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ তাদের দোরগোরায় পৌঁছে দেয়ার মহৎ লক্ষ্য নিয়ে ফকিরহাটে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠার চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হন।

এরই ফলশ্রুতিতে ১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দের ২৬ ডিসেম্বর তারিখে তৎকালীন বাগেরহাটের এস.ডি.ও জনাব এম.কে আলীর সভাপতিত্বে বিকেল ৫ টার সময় ফকিরহাট ইউনিয়ন কাউন্সিলের হল কক্ষে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় ফকিরহাটের কৃতি সন্তান তৎকালীন রংপুরের জেলা প্রশাসক জনাব কাজি আজহার আলি উপস্থিত ছিলেন। এটিই ছিল কাজি আজহার আলি কলেজ(সাবেক ফকিরহাট কলেজ) প্রতিষ্ঠার প্রথম আনুষ্ঠানিক সভা এবং এই সভাতেই ফকিরহাটে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত ও রূপরেখা চুড়ান্ত হয়।

উল্লেখ্য যে, এই মহতী সভায় এলাকার বিশিষ্টজনদের মধ্যে সর্ব জনাব কাজি আজহার আলি, খান আব্দুল জব্বার, নওয়াব আলি ফকির, কাজী মোজাহার আলি, শেখ নূর মোহাম্মদ, আব্দুল হাসিব, এস.এম নূরুল ইসলাম, খলিলুর রহমান সরদার, শেখ আলি আহম্মেদ, খান ইলিয়াস হাসান, এস.এম খাদেমুল ইসলাম, এবং শেখ আনোয়ার উদ্দিন সহ মোট ২৯ জন সদস্য উপস্থিত থাকেন।

১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দের ২৬ ডিসেম্বর কলেজ প্রতিষ্ঠার দিন ঠিক রেখে পরবর্তী সময়ে কাজি আজহার আলি মহোদয় প্রস্তর ফলকের মাধ্যমে কলেজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ০১/০৭/১৯৬৯ খ্রিঃ তারিখে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক অধিভূক্তি প্রাপ্ত হয়ে ১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দের আগস্ট মাসে উচ্চ-মাধ্যমিক শ্রেণির মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগে মোট ২৬৯ জন ছাত্র-ছাত্রী ভর্তির মাধ্যেমে সাবেক ফকিরহাট কলেজ বর্তমানে কাজি আজহার আলি কলেজ আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। এই সময় অফিসিয়েটিং প্রিন্সিপালের দায়িত্ব পালন করেন জনাব খান ইলিয়াস হাসান।

পরবর্তীতে ০১/০৭/১৯৭০ খ্রিঃ তারিখে কলেজের প্রথম অধ্যক্ষ হিসেবে জনাব সাদ্ জগলুল দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। এভাবেই হাটি হাটি পা পা করে  প্রতিষ্ঠানটি তার শৈশবাবস্থা অতিক্রম করতে থাকে এবং কলেবর বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ৬.৫ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত এই কলেজটিতে উচ্চ-মাধ্যমিক, স্নাতক (পাস) ও স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে অভিজ্ঞ ও সুদক্ষ শিক্ষক-মণ্ডলীর তত্ত্বাবধানে পাঠদান করা হয়।

শিক্ষাবৃত্তঃ-  কলেজে উচ্চ-মাধ্যমিক, স্নাতক(পাস) এবং স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে পাঠদান করা হয়। উচ্চ-মাধ্যমিক পর্যায়ে মানবিক শাখা (বাংলা, ইংরেজি, তথ্য প্রযুক্তি, অর্থনীতি, পৌরনীতি ও সুশাসন, সমাজকল্যাণ, সংস্কৃত, ইসলাম শিক্ষা, ইতিহাস, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি এবং কৃষিশিক্ষা), ব্যবসায় শিক্ষা শাখা (বাংলা, ইংরেজি, তথ্য প্রযুক্তি, হিসাব বিজ্ঞান, ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা, উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপনন, পরিসংখ্যান এবং সাচিবিক বিদ্যা) এবং বিজ্ঞান শাখায় (বাংলা, ইংরেজি, তথ্য প্রযুক্তি, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন বিদ্যা, উচ্চতর গণিত এবং  উদ্ভিদ বিদ্যা) পাঠদান করা হয়।

স্নাতক (পাস) পর্যায়ে বি.এ/বি.এস.এস শাখা (বাংলা, ইংরেজি, অর্থনীতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, সংস্কৃত, ইসলাম শিক্ষা, ইতিহাস, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি), বি.বি.এ (বাংলা, ইংরেজি, হিসাব বিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা ও মার্কেটিং) এবং বি.এস.সি (বাংলা, ইংরেজি, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন বিদ্যা, উচ্চতর গণিত এবং  উদ্ভিদ বিদ্যা) শাখায় পাঠদান করা হয়। স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে বি.বি.এ (সম্মান) মার্কেটিং এবং বি.এ (সম্মান) ইংরেজি বিষয়ে পাঠদান করা হয়। এছাড়াও রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা, হিসাব বিজ্ঞান এবং ইতিহাস বিষয়ে সম্মান শ্রেণি খোলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে।

অর্জনঃ- উচ্চ-মাধ্যমিক ও স্নাতক পর্যায়ে বোর্ড এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার ফলাফলে প্রায়শই উপজেলার মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেছে। দক্ষিণ বাংলায় সর্ব প্রথম মার্কেটিং বিষয়ের মত সম্মান কোর্স চালু করার গৌরব অর্জন করেছে, ফলশ্রতিতে কাজি আজহার আলি কলেজ (সাবেক ফকিরহাট কলেজ)-এ যারা একদিন বিদ্যার্থী হয়ে এসছিলেন তাঁদের অনেকেই ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, সচিব, স্থপতি, ব্যরিস্টার ও রাজনীতিবিদ হয়ে আজ শুধু ফকিরহাটই নয়, সমগ্র বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা, রাজনীতি, সমাজনীতি, অর্থনীতিসহ প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁদের যোগ্যতা, মেধা ও মননশীলতার পরিচয় প্রদানের মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানের নাম সমুজ্জ্বল করে চলেছেন।

একই ধরনের আরও সংবাদ