অধিকার ও সত্যের পথে

মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উপায় সমূহ

 মোঃ সাইফুল ইসলামঃ

গণ-প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে বদ্ধপরিকর। সেই লক্ষ্যে প্রযুক্তি নির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য সরকার সর্বক্ষেত্রে তথ্য ও প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করার নানামূখী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছেন। বর্তমান সরকার ২০২১ সালে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালে বাংলাদেশকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার টার্গেট ঠিক করেছে । টার্গেটে পৌছার জন্য যারা মূল নিয়ামক হিসেবে কাজ করবে তারা হলো আমাদের নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থী। বর্তমানে দেশের মোট জন সংখ্যার বড় একটা অংশ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত। 

তাদেরকে উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করনের জন্য তথা প্রযুক্তি ভিত্তিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে পারলে তবেই আমরা আামদের লক্ষ্যে পৌছাতে পারবো। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই বর্তমান সরকার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এর Access to Information (a2i)এরআওতায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ( প্রাথমিক, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ এবং মাদ্রাসা ) Digital Content তৈরী করে Multimedia Class Room এ শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম ২০১০ থেকে প্রথমে পাইলট পর্যায়ে এবং পরবর্তীতে সকল প্রতিষ্ঠানে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে ।

 এতে সনাতনী পদ্ধতি তথা “শিক্ষক কেন্দ্রিক শিখন-শিক্ষণ “ পদ্ধতি পরিবর্তন করে শিক্ষার্থী বান্ধব পরিবেশ তৈরী করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুম কার্যক্রম শুরু করা হয়। এ কার্যক্রম শতভাগ বাস্তবায়নে অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ রয়েছে যা মোকাবেলা করে তথ্য –প্রযুক্তি ভিত্তিক জ্ঞান দান ও প্রযুক্তির ব্যবহারে শ্রেণিতে পাঠদান কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে হবে । চ্যালেঞ্জ গুলোর মধ্যে প্রথমে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক যারা ট্রেডিশনাল পাঠদান কার্যক্রম অতিক্রম করে তথ্য প্রযুক্তি ভিত্তিক পাঠদান কার্যক্রম আন্তরিকভাবে শুরু করেছেন এবং ধীরে ধীরে শিক্ষকদের আগ্রহী করে তোলার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাছাড়া আরো যে সমস্ত চ্যালেঞ্জ রয়েছে তা হলো : 


ক) আই সি টি জ্ঞান সম্পন্ন প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ / পদায়ন ।
খ) শিক্ষকদেরকে আই সি টি জ্ঞানে সমৃদ্ধ করাএবং দক্ষ ডিজিটাল কন্টেন্ট নির্মাতা শিক্ষক তৈরী করা এবং তাদেরকে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস পরিচালনায় সমৃদ্ধ করা ।
গ) মাল্টিমিডিয়া ক্লাস পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সুযোগ ও সুবিধা তৈরি করা ।
ঘ) মাল্টিমিডিয়া ক্লাস নিয়মিত পরিচালনার জন্য কয়েক সেট প্রজেক্টর , ল্যাপটপ এবং স্ক্রীণ
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সংরক্ষণ করা ।
ঙ) প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির সদস্যগণকে উক্ত কার্যক্রম সম্পর্কে সম্পৃক্ত করা এবং তাদেঁর সহযোগিতা নেওয়া
চ) শিক্ষকদের আন্ত: দ্বন্দ নিরসন করা ।
ছ)শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তাগণকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস বাস্তবায়নে আন্তরিক হওয়া ।

 

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস বাস্তবায়নের মূল দায়িত্ব প্রতিষ্ঠান প্রধান এর উপর। প্রতিষ্ঠানে যে বিষয়টি বাস্তবাযন করা হবে সে বিষয় সম্পর্কে যদি প্রতিষ্ঠান প্রধান এর ধারণা না থাকে তা হলে সেটা বাস্তবায়ন করা বড় চ্যালেঞ্জ ।প্রতিষ্ঠান প্রধান যদি মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুম বাস্তবায়নে আন্তরিক না হন তাহলে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুম বাস্তবায়ন করা কঠিন । এক্ষেত্রে বাস্তব অবস্থা হলো বেশী ভাগ প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠান প্রধানের আইটি জ্ঞান নেই অথবা ঘাটতি আছে। অনেকে শেষ বয়সে কম্পিউটার,ল্যাপটপ নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী নন। তাছাড়া তাঁর নিজের যেহেতু digital Content বিষয়ে কোনরুপ ধারণা নেই সেহেতু তিনি Multimedia Class মনিটরিং করার ক্ষেত্রে অনাগ্রহী হন। ফলে শ্রেণি শিক্ষকগণ digital Content ব্যবহার করে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করার ক্ষেত্রে তেমন কোনো সহায়ক পরিবেশ পান না, এ অবস্থায় প্রতিষ্ঠান প্রধানগণকে আইটি জ্ঞানে সমৃদ্ধ করার জন্য অন্তত এক মাস ব্যাপী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে।

 প্রশিক্ষণে প্রতিষ্ঠান প্রধানগণ কম্পিউটার এর মৌলিক ধারণা, digital Content এবং Multimedia Class বাস্তবায়ন বিষয়ে পরিপূর্ণ ধারণা নিবেন এবং সর্বোপরি সরকারের গৃহিত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে যে কোন মূল্যে আন্তরিকভাবে Multimedia Class Room বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে ,তাঁদের দৃষ্টিভংগি পরিবর্তন করতে হবে এবং নিয়মিত শ্রেণি শিক্ষকদের মাল্টিমিডিয়া ক্লাস মনিটরিং করতে হবে। নতুন করে প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ এর ক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে পরিপত্র জারি করতে হবে যেখানে অন্যান্য যোগ্যতার পাশাপাশি আই সি টি জ্ঞান সম্পন্ন ব্যক্তিকে প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ এর বাধ্যবাধকতা রাখার বিধিবিধান আন্তর্ভূক্ত করতে হবে ।

দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ হলো ডিজিটাল ক্লাস নিতে শিক্ষকদের অনাগ্রহ । অধিকাংশ বয়স্ক শিক্ষক আই সি টি জ্ঞানে নিজেকে সমৃদ্ধ করতে চান না। তাঁরা ট্রেডিশনাল পদ্ধতিতে পাঠদান করে কোন রকমে চাকুরীকাল শেষ করতে চান । তাছাড়া অনেক শিক্ষক কোচিং সেন্টার কিংবা ব্যক্তিগতভাবে টিউশনি নিয়ে ব্যস্ত থাকায় তাঁরা কন্টেন্ট তৈরীতে অনাগ্রহ দেখান এবং মাল্টিমিডিয়া ক্লাস নিতে চান না। আবার অনেকে আইসিটির উপর প্রশিক্ষণে গেলেও আই সি টি জ্ঞান সম্পূর্ণভাবে রপ্ত না করে কোন রকমে প্রশিক্ষণ শেষ করে চলে আসেন । ফলে অধিকাংশ প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত শিক্ষক কন্টেন্ট তৈরী করতে জানেন না এবং ডিজিটাল কন্টেন্ট ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতে অনাগ্রহ দেখান । 

এ জাতীয় শিক্ষক সংখ্যা প্রতিষ্ঠানে বেশী । তাছাড়া সম্মানিত শিক্ষকগণের মধ্যে বিশাল একটা অংশ পেশাগত দক্ষতা অর্জনের জন্য আধুনিক শিক্ষায় নিজেদেরকে সব সময় আপগ্রেড করতে চেষ্টা করেন না। এ অবস্থা থেকে উত্তোরণ হলো বড় চ্যালেঞ্জ ।
এ চ্যলেঞ্জ মোকাবেলায় প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটি, প্রতিষ্ঠান প্রধান, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তাকে বড় ভূমিকা নিলে তবেই চ্যলেঞ্জ মোকাবেলা সম্ভব হবে।

 প্রথমত প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত শিক্ষকগণকে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস নিতে বাধ্য করতে হবে প্রশাসনিকভাবে । এ ক্ষেত্রে যে সকল শিক্ষক আই সি টি জ্ঞানে সমৃদ্ধ তাদেরকে ব্যবহার করা যেতে পারে । প্রতিষ্ঠান প্রধান ইন্-হাউজ ট্রেনিং এর আয়োজন করবেন এবং ইন্-হাউজ ট্রেনিং এ প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত বা প্রশিক্ষণ বিহীন সকল শিক্ষক উপস্থিত থাকবেন ।

 ইন-হাউজ ট্রেনিং এ আই সি টি জ্ঞানে যে সকল শিক্ষক অভিজ্ঞ বা কন্টেন্ট তৈরীতে দক্ষ সেই সব শিক্ষকদেরকে প্রশিক্ষক হিসেবে ব্যবহার করে কন্টেন্ট তৈরীর বিভিন্ন ধাপ সমূহ এবং কন্টেন্ট সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা দিতে হবে এবং কিভাবে কন্টেন্ট দিয়ে ক্লাস নিতে হবে তা বুঝিয়ে দিতে হবে। প্রয়োজনে অভিজ্ঞ শিক্ষক না থাকলে অন্য স্কুল থেকে অভিজ্ঞ শিক্ষককে এনে ইন-হাউজ ট্রেনিং এর আয়োজন করা গেলে তাতে সকল শিক্ষক পর্যায়ক্রমে কন্টেন্ট তৈরীতে দক্ষ হবেন এবং কন্টেন্ট দিয়ে ক্লাস নিতে তখন আর কোন সমস্যা হবে না। 

এ ক্ষেত্রে শিক্ষকগণ যদি আন্তরিক হন এবং তাঁরা যদি দৃষ্টিভংগি পরিবর্তন করেন তাহলে শিক্ষকগণ আশা করা যায় কন্টেন্ট ব্যবহার করে ক্লাস নিতে পারবেন। তারপর ও যে সকল শিক্ষক কন্টেন্ট তৈরীতে দক্ষতা অর্জন করতে পারছেন না তাঁরা একদিকে কন্টেন্ট তৈরী শিখবেন অন্য দিকে শিক্ষক বাতায়ন থেকে কন্টেন্ট ডাউনলোড করে ক্লাস চালিয়ে যেতে পারেন । বাতায়নে এই মূহুত্বে মডেল কন্টেন্ট ৯৪৪ সহ মোট কন্টেন্ট সংখ্যা ১,২৪,৪০৬ টি । 

সেজন্য সকল শিক্ষক বাতায়ন এর সদস্য হলে সবাই বাতায়ন থেকে প্রয়োজনে কন্টেন্ট ডাউনলোড করে শ্রেণি কক্ষে MMC ব্যবহার করে পাঠদান করতে পারবেন।

মাল্টিমিডিয়া ক্লাস পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে কিংবা অতিরিক্ত কক্ষ না থাকার অজুহাতে অনেক সময় MMC ক্লাস না করার প্রবণতা দেখা যায় । এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা খুবই সহজ । যে সকল প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা ভাল এবং অতিরিক্ত কক্ষ স্থাপন করার নিজস্ব জায়গা আছে সে সকল প্রতিষ্ঠান এর কর্তৃপক্ষ যদি আন্তরিক হয় তাহলে মানসম্মত সুসজ্জিত একটি মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুম স্থাপন করতে পারে। 

তাছাড়া যে সকল প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত ক্লাস রুম নেই কিংবা আর্থিকভাবে অসচ্চল যে সকল প্রতিষ্ঠান যে কোন একটি রুমকে ইউনিক ধরে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুম স্থাপন করতে পারে। উক্ত রুম এ যখন যে ক্লাসের MMC ক্লাস হবে সে শ্রেণির শিক্ষার্থীরা MMC ক্লাসে চলে আসবে অন্যরা তাদের কক্ষে ক্লাস করবে। এতে MMC ক্লাস এবং স্বাভাবিক ক্লাসের কোন হেমপার হবে না।

অনেক সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রজেক্টর কিংবা ল্যাপটপ অচল হয়ে যেতে পারে তখন MMC ক্লাস নেয়া সমস্যা হয়ে যায় । বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় MMC ক্লাস এর হেমপার হয়। এ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান প্রধান উদ্যোগী হয়ে আর্থিকভাবে সচ্চল না হলে স্থানীয়ভাবে ম্যানেজ করে আর এক সেট মাল্টিমিডিয়া সরঞ্জামাদি সংগ্রহে রাখলে MMC ক্লাস নিতে আর কোন সমস্যা হবে না। এত প্রয়োজনে প্রতিদিন দ্বি-গুণ ক্লাস নেয়া যাবে।

 প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটি উদ্যোগী হলে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা খুবই সহজ।
কোন কোন প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের আন্তঃ দ্বন্দ্ব ,কলহ এবং একে অপরকে শিখানোর ক্ষেত্রে আন্তরিকতার অভাব পরিলক্ষিত হয়। কোন কোন শিক্ষক এর বিরুদ্ধে যারা আইসিটিতে ভাল তাঁরা অন্য শিক্ষককে আইসিটি শিখানোর ক্ষেত্রে অসহযোগিতার কথা শুনা যায়। তাঁদের ধারণা তাঁরাই আইসিটিতে দক্ষ থাকবে অন্যরা দক্ষ না হউক এতে তাঁদের কদর বাড়বে।শিঁক্ষকগণকে এই মানুষিকতা পরিহার করে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে । 

এ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান প্র্রধানকে সহকর্মীদের সাথে আন্তরিকতাপূর্ণ অবস্থান তৈরী করে সবাইতে নিয়ে টীম ওয়ার্কের মত কাজ করলে mmc ক্লাস বাস্তবায়ন করা খুবই সহজ কবে। 

উল্লেখিত সকল চ্যালেঞ্জগুলো খুবই সহজভাবে সমাধান করার জন্য মূল ভুমিকা নিয়ে হবে শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তাকে। তিনি যদি এ ক্ষেত্রে আন্তরিক এবং সক্রিয় হন তা হলে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুম বাস্তবায়ন অনেকটা সহজ হতে বাধ্য । এ ক্ষেত্রে তিনি ক্ষেত্র মতে জেলা প্রশাসক কিংবা উপজেলা চেয়ারম্যান ,উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে নিয়ে মিটিং করে সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়মিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুম বাস্তবায়ন করতে পারেন। সংশ্লিষ্ট জেলা শিক্ষা অফিসার / উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটি,প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সাথে সমন্বয় এবং নিয়মিত মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুম ক্লোজলি মনিটরিং করেন তা হলে ডিজিটাল কন্টেন্ট এর মাধ্যমে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস এ শিক্ষার্থীদের পাঠদান শতভাগ নিশ্চিত করা যাবে। এতে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে সু-নাগরিক হয়ে বাংলাদেশকে ২০২১ সালে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করা এবং রাষ্ট্রকে পরিচালনা করার জন্য যোগ্য নাগরিক হিসেবে নেতৃত্ব দিবে এতে কোন সন্দেহ নেই। 

পাদটীকা: মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুম বাস্তবায়নে যে সকল চ্যালেঞ্জসমূহ উল্লেখ করা হলো এবং যে ভাবে মুকাবেলা করার কথা উল্লেখ হলো তা উল্লেখিত উপায়ে মুকাবেলা করা সম্ভব । কারণ আমি শিক্ষা প্রশাসনের একজন সচেতন কর্মকর্তা হিসেবে (লেখক) মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুম এ ডিজিটাল কন্টেন্ট এর মাধ্যমে পাঠদান প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শতভাগ বাস্তবায়ন করতে গিয়ে উল্লেখিত চ্যালেঞ্জ সমূহের মুখামুখি হয়েছি এবং তা আমি উল্লেখিত উপায়ে মুকাবেলা করে আমার কর্মস্থল চট্টগ্রাম এর রাউজান উপজেলায় ৭৯ টিশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ( স্কুল ,কলেজ এবং মাদ্রাসায়) মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুম শতভাগ বাস্তবায়ন করেছি এবং ২/৩ টি প্রতিষ্ঠান ছাড়া প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা সম্ভব হয়েছে।

বর্তমানে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে কম বেশী ডিজিটাল কন্টেন্ট ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা সহ সকল কিছু আমি নিয়মিত মনিটরিং করে আসছি এবং আশা করছি এ ধারা ভবিষতে ও অব্যাহত থাকবে। আমার বিশ্বাস একদিন আমরা সকল সমস্যাকে উপেক্ষা করে সত্যিকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারবো সকলের সার্বিক সহযোগীতা ও আন্ততিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে।

লেখক-মোঃ সাইফুল ইসলাম,উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ,রাউজান, চট্টগ্রাম।

একই ধরনের আরও সংবাদ