অধিকার ও সত্যের পথে

মানসম্মত শিক্ষা-মানসম্মত শিক্ষক ও মানসম্মত প্রশিক্ষণ

 মো: ফজলে রাব্বিঃ

বর্তমানে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য অনেক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। টেস্ট পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণদের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণে বাধা প্রদান এই মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করারই অংশবিশেষ। শুধু তাই নয় পূর্ববর্তীতে বেসরকারি শিক্ষক সমাজের জন্য প্রশিক্ষণ খুব একটা নিয়মিত পরিসরে হত না।

সেটা বর্তমানে অনেকটা নিয়মিত পরিসরেই হচ্ছে। সম্প্রতি চালু করা হয়েছে নিরীক্ষা ও পরিদর্শন অধিদপ্তরের পিয়ার ইন্সপেকশন সফটওয়্যার যেখানে অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা অনলাইনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করতে পারবেন শুধু তাই নয় একজন প্রতিষ্ঠান প্রধান তাঁর পার্শ্ববর্তী প্রতিষ্ঠানও পরিদর্শন করতে পারবেন। মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম এর এন্ড্রয়েড এপ ডেভেলপ করা হয়েছে। শিক্ষক বাতায়ন ও মুক্তপাঠে শিক্ষকদের পুরস্কৃত করা হয়েছে। অনেক কিছুই হচ্ছে কিন্তু যেখানে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষকেরা পিছিয়ে আছে সেটা হচ্ছে প্রশিক্ষণ। দক্ষ শিক্ষক তৈরিতে প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই।

কিন্তু মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রশিক্ষণ বেশিরভাগই প্রকল্পকেন্দ্রিক। সরকারকে এ দিকে আরো নজর না দিলে মানসম্মত শিক্ষা পরিপূর্ণভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। প্রাথমিক শিক্ষার জন্য জেলা পর্যায়ে প্রাইমারি ট্রেনিং ইন্সটিটিউট ও উপজেলা/থানা পর্যায়ে উপজেলা/থানা রিসোর্স সেন্টার রয়েছে কিন্তু মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য শুধুমাত্র টিচার্স ট্রেনিং কলেজ ছাড়া থানা/উপজেলা পর্যায়ে প্রতিষ্ঠান নেই। যেসব উপজেলায় ব্যানবেইসের ভবন আছে সেসব উপজেলার শিক্ষকগণ আইসিটি বিষয়ে উপজেলাতেই প্রশিক্ষণ পাচ্ছেন কিন্তু প্রতিটি উপজেলায় ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন করা মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য একান্ত জরুরি।

জেলা পর্যায়ে প্রশিক্ষণ হওয়াতে অনেক শিক্ষক যারা মহিলা, সন্তান সম্ভবা/ অসুস্থ থেকে শুরু করে অনেক পুরুষ শিক্ষকও প্রশিক্ষণ এড়িয়ে যান, অনেক প্রকল্পের প্রশিক্ষণে আবাসনের ব্যবস্থা থাকেনা। এ জন্য আসলে সঠিকভাবে সকল শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেয়া যাচ্ছেনা। সেইসাথে জেলা পর্যায়ে হওয়াতে যারা যাচ্ছেন তারাও ফিরে এসে মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নের করছেন না। ফলশ্রুতিতে প্রশিক্ষণের আসল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ব্যহত হচ্ছে।

সেই সাথে প্রশিক্ষক হিসেবে যারা কাজ করছেন তাদেরও পর্যাপ্ত বিষয়গত জ্ঞানের অভাবে তারা অনেক সময়ই শিক্ষকদের ধারণা পাকাপোক্ত করতে পারছেন না, সেজন্য বিভিন্ন শিখন-শেখানো সংক্রান্ত বিষয়ে শিক্ষকগণের অস্পষ্ট ধারণা থেকে যাচ্ছে কেননা টিটিসি গুলোতে পেডাগোজি এক্সপার্ট হয়ত ১ জন, অনেকজায়গায় তাও নেই। এভাবে আসলে মাধ্যমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে মানোন্নয়ন আশা করাটা খুব একটা যৌক্তিক নয়।

কাজেই দক্ষ মানসম্মত শিক্ষার জন্য চাই মানসম্মত শিক্ষক এবং মানসম্মত শিক্ষকের জন্য চাই মানসম্মত প্রশিক্ষক এবং প্রতিটি উপজেলায় মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষকগণের জন্য রিসোর্স এন্ড ট্রেনিং সেন্টার স্থাপিত হওয়া একান্ত জরুরি এবং সেখানে স্থায়ীভাবে ইন্সট্রাক্টর এরও ব্যবস্থা করতে হবে। তবেই মানসম্মত শিক্ষা সম্ভবপর বলে আমি মনে করি।

লেখক-উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার হোমনা,কুমিল্লা ।

একই ধরনের আরও সংবাদ