অধিকার ও সত্যের পথে

অতিথি পাখির আগমনে মুখরিত জনপদ

 অনলাইন ডেস্ক

প্রতিবছরই অতিথি পাখির অভয়ারণ্য হয়ে ওঠে মিরসরাইয়ের মহামায়া। পাখিগুলো পর্যটকদেরও বেশ আকৃষ্ট করে। অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারলে এটিও হতে পারে পাখির বড় অভয়াশ্রম। তবে শিকারির শ্যেন দৃষ্টিতে এসব প্রকৃতির অতিথির সংখ্যা কমেও যাচ্ছে বছর বছর। বিস্তারিত জানাচ্ছেন : এনায়েত হোসেন মিঠু, মিরসরাই 

সাত সাগর তের নদী পেরিয়ে শীতের আগমনী বার্তায় বেড়াতে আসতে শুরু করেছে পরিযায়ী পাখি। চট্টগ্রামের বিভিন্ন জলাশয়, খাল, নদী ও বঙ্গোপসাগর উপকূলে এসব অতিথি পাখি আশ্রয় নিয়েছে।

নানা প্রজাতির পাখির কলকাকলিতে মুখরিত সমগ্র জনপদ।

তবে শিকারিদের শ্যেন দৃষ্টি আর পরিবেশ দূষণের কারণে ধীরে ধীরে অতিথি পাখির এ জনপদে আগমন কমে আসছে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কোনো প্রকার সরকারি ঘোষণা ছাড়াই একসময় পাখির অভয়ারণ্য হয়ে ওঠেছিল মিরসরাইয়ের মুহুরী প্রজেক্ট এলাকার সুবিশাল বিল আর জলাশয়। এখন এ অঞ্চলে কমে আসছে অতিথি পাখির আগমন।

শিকারিদের শ্যেন দৃষ্টি আর মাছের প্রকল্পে কীটনাশক ব্যবহারের কারণে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে ছুটে আসা পাখির বিচরণ কমতে শুরু করেছে বলে ধারণা করছেন এলাকার লোকজন।

পাখিপ্রেমিদের জন্য আনন্দের খবর, এখন অতিথি পাখির অভয়ারণ্য হয়ে ওঠছে মিরসরাইয়ের মহামায়া ইকোপার্ক ও লেক। প্রায় ১১ বর্গকিলোমিটার লেক এখন পরিযায়ী পাখির দখলে।

শীতের শুরুতে এরা এখানে আসতে শুরু করে। বর্তমানে পাখির কিচিরমিচির ডাকে মুখরিত পুরো এলাকা।

মহামায়ায় আগত পর্যটকরাও মন ভরে উপভোগ করছেন পাখির

উড়া-উড়ি, কালকাকলি আর কিচিরমিচির ডাক। অনেকে পাখির অবাধ বিচরণ আর ডানা মেলে উড়ে বেড়ানো কিংবা দলবেঁধে পানিতে ভেসে চলার ছবি ধারণ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

ডিঙি নৌকায় লেকের কাফতলি এলাকায় গিয়ে দেখা মেলে পরিযায়ীদের। ক্যামেরায় ক্লিক পড়তেই ঝাঁক বেঁধে কিচিরমিচির শব্দে উড়তে শুরু করে আকাশে। লেকের চারদিক চেয়ে নানা প্রজাতির ছোট-বড় অসংখ্য পাখির দেখা মেলে।

মহামায়ায় ঘুরতে আসা পর্যটক ও পাখিপ্রেমি আমজাদ রুবেল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বরাবরের মতো আমি পাখিপ্রিয় মানুষ। একসময় বাসায় পাখি লালন-পালন করতাম। সম্প্রতি এসব পাখি মুক্ত করে দিয়েছি। গত বছর শীতের সকালে পাখি দেখব বলে মহামায়ায় এসেছিলাম। এমন ঝাঁকে ঝাঁকে অতিথি পাখির দেখা মেলেনি। তবে এবার সত্যিই এদের দল বেঁধে আকাশে উড়ে বেড়ানো আর কলকাকলি দেখে ভালো লাগছে। ’

লেকে চলা ডিঙি নৌকার মাঝি নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘মাঝে মাঝে বন্দুক নিয়ে অনেকে পাখি শিকারে আসেন এখানে। ইদানীং শিকারিরা খুব একটা আসে না। ’

স্থানীয় দুর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সুফিয়ান বিপ্লব কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রতিবছর পাখির অভয়ারণ্য হয়ে ওঠে মহামায়া। পর্যটকদের বেশ আকৃষ্ট করে এটি। পাখি গবেষকের সঙ্গে যোগাযোগ করে এখানে

একটি অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারলে এটিও হতে পারে পাখির বড় অভয়াশ্রম। ’

এদিকে একসময় শীত এলেই উপজেলার উপকূলীয় মুহুরী প্রকল্প থেকে শাহেরখালী অঞ্চল পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকার খাল-বিল আর জলাশয় নানা রং আর আকৃতির অতিথি পাখির কূজনে মুখরিত হত। এখন কমতে শুরু করেছে প্রকৃতির পরিযায়ীদের আগমন।

একসময় বালিহাঁস, পানকৌড়ি, ডাহুক, কানা বক, লেন্জা, সরালি, মাছরাঙা, গাঙচিলসহ অসংখ্য পরিযায়ী পাখির আগমন ঘটত এখানে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বর্তমানে গাঙচিল আর লেন্জা প্রকৃতির পাখি ছাড়া আর কোনো প্রজাতির পাখি এখানে চোখে পড়ে না। তাঁরা এজন্য শিকারিদের শ্যেন দৃষ্টি আর মাছের প্রকল্পে পাখির জন্য ক্ষতিকারক কীটনাশক (বিষ) ব্যবহারকে দায়ী করেন।

মুহুরী প্রকল্প এলাকার বাসিন্দা বশির আহম্মদ জানান, একসময় শীতের শুরুতেই দলে দলে অতিথি পাখির আগমন ঘটত মুহুরী প্রকল্প এলাকায়। বিকেল বেলায় পাখির কিচিরমিচির শব্দে এখানকার গ্রামগুলো মুখরিত হয়ে ওঠতো। কিন্তু এখন সেই দৃশ্য কমে এসেছে।

জানা গেছে, সাধারণত শীতপ্রধান দেশ সাইবেরিয়া, চীন, মঙ্গোলিয়া, নেপালসহ আরো অনেক দেশ থেকে এখানে আসে এসব অতিথি পাখি। এদের মধ্যে রয়েছে বালিহাঁস, পানকৌড়ি, ডাহুক, কানা বক, লেন্জা, সরালি, মাছরাঙা, গাংচিল অন্যতম। শীতকালে বাংলার আলো বাতাসের সঙ্গে এই পাখিগুলোর রয়েছে এক ধরনের আত্মিক সম্পর্ক। যে কারণে এরা বাংলাদেশের প্রকৃতিকে নিরাপদ ভেবে শীত মৌসুমে এসে ভিড় জমায়।

একই ধরনের আরও সংবাদ