অধিকার ও সত্যের পথে

ডেন্টালে ভর্তিতে কোটা পেয়েছে ‘উপজাতি’রা

সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোর ডেন্টাল ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষার ফলাফলে পাঁচ ‘উপজাতি’ কোটায় যে চারজন বাঙালি শিক্ষার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল, তা বাতিল করা হয়েছে। চার কোটাতেই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীরা মনোনয়ন পেয়েছেন।

তবে মেধাতালিকায় এগিয়ে থাকা সত্ত্বেও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর এক শিক্ষার্থী ফলাফলে এই কোটায় মনোনয়ন পাননি। অথচ মেধাক্রমে তাঁর চেয়ে ৩২৫ অবস্থান পিছিয়ে থাকা আরেক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীকে কোটায় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

৯ ডিসেম্বর প্রথম আলোতে ‘উপজাতি কোটায় চার বাঙালি’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়। তিন দিন পর ১২ ডিসেম্বর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অপেক্ষমাণসহ ফলাফলের তালিকা সংশোধন করে এক নির্দেশ জারি করে। সংশোধনের পর ‘উপজাতি’ কোটায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা হলেন উবা চিং মারমা, সামান্তা চাকমা, দীপিকা বর্মণ মুন, পার্থ জ্যাকব হেমব্রম ও নিনিয়ন চাকমা।

এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (চিকিৎসা, শিক্ষা ও জনশক্তি উন্নয়ন) অধ্যাপক মো. আবদুর রশিদ  বলেন, ‘এটা সাময়িক একটা ভুল ছিল। পরে সংশোধন করা হয়েছে। সব কটি সংরক্ষিত আসনেই উপজাতিদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। ভর্তির প্রচলিত নিয়মের বাইরে আমাদের যাওয়া সম্ভব না।’

এবারের ডেন্টালের ভর্তি পরীক্ষায় পাস নম্বর ছিল ৪০। খাগড়াছড়ির নিনিয়ন চাকমা পরীক্ষায় পেয়েছেন ৪৬ দশমিক ২৫ নম্বর। তাঁর অবস্থান ১৩ হাজার ৮২৬। আর রাঙামাটির পোলমী চাকমা পেয়েছেন ৪৯ দশমিক ৭৫ নম্বর। মেধাতালিকায় অবস্থান ১৩ হাজার ৫০১। পোলমী ৩২৫ অবস্থানে এগিয়ে থাকলেও মেধাতালিকার ‘উপজাতি’ কোটায় ভর্তির জন্য মনোনয়ন পাননি।

পোলমীর বাবা রমেশ বিকাশ চাকমা  কাছে অভিযোগ করেন, তাঁর মেয়ে ভর্তি পরীক্ষার ফলাফলে মেধাক্রমে এগিয়ে থাকলেও কোটায় মনোনয়ন পায়নি। অথচ এ কোটায় তাঁর মেয়ের অবস্থানের (পজিশনের) চেয়ে অনেক পেছনের দিকে থাকা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের জেলা আলাদা হওয়া সত্ত্বেও আমার মেয়ে মনোনয়ন পায়নি।’

জিজ্ঞেস করা হলে অধ্যাপক মো. আবদুর রশিদ বলেন, পাঁচটি উপজাতি কোটার তিনটি আসন পাহাড়িদের ও দুটি সমতলের জন্য। পাহাড়ি কোটা পূরণ হলে অপেক্ষায় থাকা চতুর্থ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী শিক্ষার্থী বেশি নম্বর পেলেও মনোনীত হন না। তবে সমতল বা অ-পাহাড়িদের উপজাতি কোটায় কেউ কম নম্বর পেলেও নির্বাচিত হয়ে যান। নিনিয়নের ক্ষেত্রে তা–ই হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই পরিচালক আরও জানান, সিলেট মেডিকেল কলেজে ‘উপজাতি’ কোটায় মনোনয়ন পাওয়া ফারজানা মুনমুন চৌধুরী ভর্তি হয়েছেন। ওই কলেজ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানত না বলে এমন হয়েছে। তবে অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে চিঠিতে কলেজকে জানানো হয়েছে, ওই শিক্ষার্থী সাত দিনের মধ্যে সনদ দেখাতে না পারলে তাঁর ভর্তি বাতিল হয়ে যাবে। সুত্র প্রথম আলো

একই ধরনের আরও সংবাদ