অধিকার ও সত্যের পক্ষে

প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়া হোক

 কোন জতিীকে ধ্বংস করতে হলে ঐ জাতীর শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দাও। একমাত্র শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংসের মাধ্যমে জাতীকে ধ্বংস করা সম্ভব। বারবার  প্রশ্নপত্র ফাঁসের যে মহোস্বব দেখে মনে হচ্ছে আমরা কি ধ্বংস হতে চলেছি। কিছুদিন আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, ক্রীড়া কর্মকর্তাসহ ১০ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। রাজধানীর একটি ছাপাখানার এক কর্মচারীও প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের সঙ্গে জড়িত।  শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, এসএসসি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা ও শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে একাধিক চক্রের জড়িত থাকার কথা জানতে পেরেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ। গত অক্টোবরে ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার আগের রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আবাসিক হল থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। সর্বশেষ বরগুনাতে প্রাথমিকের প্রশ্ন ফাস হওয়ায় ১৪০ স্কুলের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রশ্ন ফাস করা হচ্ছে । কেউ যেন দেখার নেই।

শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার। কিন্তু প্রশ্নপত্র ফাঁসের মাধ্যমে অনেকের এই অধিকার হরণ করা হচ্ছিল। টাকার বিনিময়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র কিনে অনেক দুর্বল শিক্ষার্থীও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উচিত এই শিক্ষার্থীদের শনাক্ত করে অবিলম্বে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা। অন্যদিকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ব্যাপারে নিজেদের কোনো দুর্বলতা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের মাধ্যমে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার দিকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া হয়েছিল।
এই অপকর্মের সঙ্গে জড়িত সবাই দেশ ও জাতির শত্রু। তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো বিকল্প নেই। এসব জালিয়াত চক্রের সব সদস্যকে অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করা হোক। তাদের কঠোর শাস্তিই আমাদের কাম্য।

একই ধরনের আরও সংবাদ