অধিকার ও সত্যের পথে

স্কুলের সময় পরিবর্তন করে খেলাধুলার সময় দিন

সকাল ৭ টায় স্কুলের জন্য বাসা থেকে বের হতে হবে তাই প্রতিটি মা’কে ভোর ৫ টায় ঘুম থেকে উঠতে হয়। রান্না বান্না করা, স্কুলের জন্য সোনামণিদের তৈরি করা। পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের জন্য কাজ করা সব মিলিয়ে গৃহিনীদের ব্যস্ততাপূর্ণ সময় কাটে রোজ সকালে। যেন সে নারী নয় রোবট! গত দুই দশক ধরে ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়েছে এই যান্ত্রিকতা।
উদ্দেশ্য একটাই সন্তানের ভাল রেজাল্ট। ভাল রেজাল্ট এর প্রত্যাশা মানুষকে এতোটাই অন্ধ করেছে যে ভাল মন্দ বুঝার সক্ষমতা হারিয়ে গেছে, নকল করে হোক কিংবা প্রশ্ন কিনে হোক অথবা শিক্ষকের সহায়তায় হোক, যে কোন মূল্যে জিপিএ-৫ পেতেই হবে। যে স্কুলে বেশি জিপিএ-৫ পাওয়া যায় সন্তানকে সেই স্কুলে ভর্তী করাতে যেন চলছে অসুস্থ প্রতিযোগিতা। আর তাতে সন্তানের শারিরিক বৃদ্ধি কতখানি হচ্ছে সেদিকে কোন নজরই নেই।
স্কুল-প্রাইভেট-কোচিং-প্রাইভেট এই করে কেটে যাচ্ছে দিনের ১২ ঘন্টা। একটা শিশুর মানসিক ও শারিরিক বিকাশ নিয়ে অভিভাবকরা যেন উদাসিন। কোন প্রয়োজন নেই খেলাধুলার! ভাল খাবার খাওয়ালেই স্বাস্থ্য ঠিক হয়ে যাবে! এই ধারণাটা আরো বেশি অনৈতিক করে তুলছে অভিভাবকদের।
মাঠ কি? এখানে কি হয়? এই জিজ্ঞাসা যে কোন শিশুকে করলে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে সে কি পারবে বলতে? বিভিন্ন টিভি চেনেল গুলোর রিপোর্ট এ দেখা যায়, জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সাধারণ কিছু প্রশ্ন করলেও তারা উত্তর দিতে পারছেনা। এমনকি বিজয় দিবস বলছে ২৬ এপ্রিল! এ থেকে প্রমাণ হয় কতটা দূর্বল ভীতে দাঁড়িয়ে আমাদের শিক্ষার্থী সমাজ। 
দুই দশক পূর্বেও ওয়ান ক্লাসে পড়া কোন শিক্ষার্থীদের সাথে যেতে হতোনা কোন অভিভাবককে আর এখন তা ভাবাই যায়না। যেন শিক্ষার্থী নয় বাবা-মা ই লেখাপড়া করছে। অন্তত স্কুলের আশেপাশে অভিভাবকদের উপস্থিতি এমনটাই ইঙ্গিত করে। এতে শিক্ষার্থীরা সৎসাহসী না হয়ে, হয়ে পরছে ভিতু আর নির্বোধ। এ থেকে দ্রুতই উত্তরণ না হলে বিকলাঙ্গের ন্যায় পরিণত হবে আগামীর যুবসমাজ।

 

একই ধরনের আরও সংবাদ