অধিকার ও সত্যের পথে

বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ম বর্ষ থেকে গবেষণার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে হবে-ডঃ বেলাল হোসাইন

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) মৎস্য ও সমুদ্র বিজ্ঞান বিভাগের প্রথিতযশা শিক্ষক বিজ্ঞানী ডঃ বেলাল হোসাইন, যিনি ইতোমধ্যে দুইটি নতুন প্রজাতির প্রাণী আবিষ্কার করে পুরো বিশ্বে আলোচনায় এসেছেন তার একান্ত সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে তার বর্তমান ব্যস্ততা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা থেকে শুরু করে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও পারিবারিক বিষয়।
শিক্ষাবার্তা ডটকম : স্যার কেমন আছেন?

ডঃ বেলাল : ভালো, তুমি কেমন আছো?

শিক্ষাবার্তা ডটকম : জ্বী স্যার ভালো, বর্তমানে কি নিয়ে ব্যস্ত আছেন?

ডঃ বেলাল : বর্তমানে এমফিপোড ও পলিকিটের আরো কিছু প্রজাতি নিয়ে কাজ করতেছি।

শিক্ষাবার্তা ডটকম : আপনার এই যে নতুন প্রজাতি আবিষ্কার এগুলো মানব কল্যাণে কিভাবে অবদান রাখবে?

ডঃ বেলাল : সৃষ্টিকর্তা এই পৃথিবীতে যতো প্রাণী সৃষ্টি করেছেন সব কিছুই মানব কল্যাণে ব্যবহৃত হয়। আমি কাজ করি মূলত এক্যুয়েটিক (জলীয়) ইকো সিস্টেম নিয়ে, এক্যুয়েটিক ইকো সিস্টেম এ সবচেয়ে নিচের স্তরের প্রাণী হলো ব্যাক্টেরিয়া আর উপরের স্তরের প্রাণী বলা যায় মাছ। এরা একে অপরের উপর খাদ্যের জন্য নির্ভরশীল। যেমন বড় মাছ নির্ভরশীল ছোট মাছের উপর, ছোট মাছ নির্ভরশীল অন্য কোনো ছোটো মাছ বা জুয়োপপ্ল্যাঙ্কটন (প্রাণিকনা) এর উপর জুয়োপ্ল্যাঙ্কটন নির্ভরশীল ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন এর উপর।আবার সমুদ্রের নীচে যদি পর্যাপ্ত পুষ্টি না থাকে ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন জন্মাবে না, এটা একটা চেইন। এই চেইনের কোনো একটি উপাদান যদি না থাকে খাদ্যচক্র ভেঙ্গে পড়বে এবং জীববৈচিত্রের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।

শিক্ষাবার্তা ডটকম : নোবিপ্রবিতে গবেষণা খাতে তেমন বরাদ্দ থাকে না বিষয়টা আপনি কিভাবে দেখেন?

ডঃ বেলাল : নোবিপ্রবিতে গবেষণায় খুবি কম অর্থ বরাদ্দ থাকে এটা দুঃখজনক তবে এই বছর বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বছর ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে আশা করি সামনের বছর আরো বেশী বরাদ্দ দেওয়া হবে।

শিক্ষাবার্তা ডটকম : প্রশাসনের সাথে বড় আকারের বাজেট নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে?

ডঃ বেলাল : মাননীয় উপাচার্য ডঃ এম অহিদুজ্জামান আমাকে আশ্বাস দিয়েছেন ভবিষ্যতে বড় আকারের বাজেট দিবেন গবেষণার জন্য। ইউজিসি, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বড় বড় অর্থ সহায়তা দিয়ে থাকে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে। নোবিপ্রবিতে কোনো বড় আকারের বরাদ্দ আসলে বড় কোনো গবেষণা প্রকল্প নেওয়া যাবে।

শিক্ষাবার্তা ডটকম : বাংলাদেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নোয়াখালীর প্রত্যন্ত অঞ্চলে সাগর উপকূলে অবস্থিত, এটা আপনার জন্য অসুবিধা কিনা?

ডঃ বেলাল : আমার বিষয় হলো মৎস ও সমুদ্র বিজ্ঞান, আমি সামুদ্রিক জীব বৈচিত্র্য নিয়ে কাজ করি, বিশ্ববিদ্যালয় উপকূলে হওয়াতে আমার জন্য যথেষ্ট সুবিধা হয়েছে, আমি চাইলেই সমুদ্রে যেতে পারি, বিশেষ করে নোয়াখালী হাতিয়া, নিঝুম দ্বীপ ও সন্দীপে সহজে গবেষণা কাজ করতে পারি। তবে অসুবিধা হলো যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না।

শিক্ষাবার্তা ডটকম : বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের মাঝে গবেষণার প্রতি আগ্রহ কেমন পৃথিবীর অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায়?

ডঃ বেলাল : এটা আসলে নির্ভর করে পরিবেশের উপর। বাহিরের দেশে যা হয় যখন একজন শিক্ষার্থী ১ম বর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয় তখন থেকে তাদের কে গবেষণার প্রতি আগ্রহী করে তুলা হয়, উৎসাহ দেওয়া হয় এবং পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা দেওয়া হয়। আমাদের দেশের শিক্ষার্থীরা এই রকম সুযোগ সুবিধা পায় না, আমি মনে করি আমাদের দেশের শিক্ষার্থীদের কে ১ম বর্ষ থেকে গবেষণার প্রতি আগ্রহী করে তুলা উচিৎ।

একই ধরনের আরও সংবাদ