অধিকার ও সত্যের পথে

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যবেক্ষক অন্তর্ভুক্তির সুপারিশ ইউজিসির

বেশিরভাগ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়মিত সিন্ডিকেট ও একাডেমিক সভা আহ্বান করে না। আচার্য কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ নেই। প্রতি বছর নিরীক্ষিত বার্ষিক হিসাবও দাখিল করে না। এতে করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০ স্পষ্ট লঙ্ঘন হচ্ছে। তাই আইন সংশোধন করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাংকের মতো ট্রাস্টি বোর্ডে একজন সরকারি পর্যবেক্ষক রাখার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন বলে মনে করছে দেশের উচ্চশিক্ষা তদারকি প্রতিষ্ঠান বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। প্রতিষ্ঠানটির ৪৩তম বার্ষিক প্রতিবেদনেও এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

ইউজিসি বলছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে এই সুপারিশ আগেও করা হয়েছে। এখনো বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে।

ইউজিসি বলছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বোর্ড অফ ট্রাস্টিজের ক্ষমতার ভারসাম্য আনতে কমিশনের একজন সদস্য অথবা কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যূন ২০ বছরের শিক্ষকতাসহ গবেষণা বা প্রশাসনিক কাজে অভিজ্ঞতা রয়েছে এমন একজন ব্যক্তিকে পর্যবেক্ষক মনোনয়ন দেয়া যেতে পারে। বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশ ব্যাংক যেমন একজন পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিতে পারে তেমনি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন করে পর্যবেক্ষক দেয়া যেতে পারে। এজন্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০ এর সংশোধনী আনা প্রয়োজন।

বর্তমানে দেশে ৯৫টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। তবে ২০১৬ সালে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম চলমান ৮৬টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আচার্য কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত উপাচার্য ৪৪ জন, উপউপাচার্য ১৪ জন এবং কোষাধ্যক্ষ ৩৪ জন। এর মধ্যে মাত্র পাঁচটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য, উপউপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষের তিনটি পদই পূরণ করেছে।

আইন অনুযায়ী অধিকাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অডিট রিপোর্ট দাখিল করছে না। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের তালিকাভুক্ত সিএ ফার্ম হতে সরকার মনোনীত একটি ফার্মকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব নিরীক্ষা করাতে হবে। কিন্তু সিএ ফার্ম মনোনয়নের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রস্তাবিত তিনটি ফার্মের মধ্যে সরকার একটি প্রতিষ্ঠানকে মনোনয়ন দেয়। এক্ষেত্রে আর্থিক বিষয়ে প্রকৃত তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। সেজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাব না নিয়ে শুধুমাত্র শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিরপেক্ষ কোনো ফার্ম নিয়োগ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব নিরীক্ষা করানো যেতে পারে বলে মনে করছে ইউজিসি।

স্নাতক পর্যায়ে প্রতি সেমিস্টারে ন্যূনতম তিনটি কোর্স আবশ্যিক করার সুপারিশ করেছে ইউজিসি। বর্তমানে শিক্ষার্থীরা একটি সেমিস্টারে শুধুমাত্র ২টি কোর্স নিতে পারছে। শিক্ষার্থীরা প্রচুর অবসর সময় পাচ্ছে। এতে করে পড়াশোনার বাইরে জঙ্গি তৎপরতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান সন্তোষজক পর্যায়ে উন্নীত করতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধিকাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চতর পদে স্থায়ী শিক্ষকদের সংখ্যা আশানুরূপ নয়। উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে মেধাবীদের দেশত্যাগ নিরুৎসাহিত করতে উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।সুত্র মানবকণ্ঠ

একই ধরনের আরও সংবাদ