অধিকার ও সত্যের পথে

আমরণ অনশন এবং একটি পর্যালোচনা

মোহাম্মদ আজাদ মিয়া, সহকারী শিক্ষক, সিলেট।

সারাদেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের মধ্যে বেতন বৈষম্য নিয়ে চরম ক্ষোভ এবং হতাশা বিরাজ করছে।

দুই দফা প্রধান শিক্ষকদের ২/৩ গ্রেড করে বেতন বাড়ানো হলো কিন্তু সহকারী শিক্ষকদের বাড়ানো হল এক গ্রেড করে।

একসাথে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকরা আন্দোলন করলেন, সরকারকে সমিতিগুলোর সাথে আলোচনায় বসতে বাধ্য করা হল।

সরকার দাবি মেনে নিল।কিন্তু ২০০৬ সালে প্রশিক্ষণবিহীন প্রধান শিক্ষকদের বেতন গ্রেড এক লাফে ৩ গ্রেড এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের বেতনগ্রেড ২ ধাপ বাড়লেও সহকারী শিক্ষকদের বেতন বাড়ে মাত্র এক গ্রেড।

কিন্তু একই আন্দোলনের দুইরকম ফসলের হেতু কী? এখানে কেন বৈষম্য সৃষ্টি করা হল? প্রধান শিক্ষকদের ২/৩ গ্রেড বাড়ানোর যুক্তি কী?

আর সহকারীরা কি দোষ করেছিল যে তাদের সাথে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হল? ২০১৪ সালে একই সিচুয়েশন হয়েছিল।

আবার বিমাতাসুলভ আচরণ করা হয়।প্রধান শিক্ষকদের বেতন গ্রেড বাড়ানো হয় ২ ধাপ এবং সহকারীদের এক ধাপ।

এটা কর্তৃপক্ষের চরম বৈষম্য।কাউকে ২ধাপ আর কাউকে একধাপ, কিন্তু কেন?কেন এই বিমাতাসুলভ আচরণ? কে এই প্রশ্নের উত্তর দেবে?

গত ৪ বছর যাবত সহকারী শিক্ষকরা তাদের বেতন বৈষম্য কমিয়ে দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার অনুনয় বিনয় করেছেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী থেকে অর্থমন্ত্রী পর্যন্ত গিয়েছেন।আশ্বাস ছাড়া আর কিছু পাওয়া যায়নি।

এমতাবস্থায় সহকারী শিক্ষকরা আন্দোলনের বিকল্প আর কিছু দেখছেন না। সেই লক্ষ্যে গত ১লা ডিসেম্বর কয়েকটি সহকারী শিক্ষক সংঘটন একটি মহাজোট গঠন করে ২৩ ডিসেম্বর থেকে কেন্দ্রীয় শহীদমিনারে আমরণ অনশনের ডাক দেয়।

কিন্তু হুট করে আমরণ অনশনের ডাক দেওয়াতে অনেক সহকারী শিক্ষকরা আন্দোলনের সফলতা নিয়ে শংকিত হয়ে পড়েছেন।

সাতপাঁচ না ভেবে কোন রকম হোমওয়ার্ক ছাড়াই হার্ডলাইনে গেলে সফলতা কতটুকু অর্জন হবে তা ভেবে দেখা দরকার।

আন্দোলনের ফিল্ড তৈরি না করে কঠোর কর্মসুচি কতটুকু সফল করতে পারবেন তা মহাজোটের নেতৃবৃন্দ কী চিন্তা করে দেখেছেন?

এর আগেও এরকম হার্ডলাইনের কর্মসুচি দিয়ে শুন্যহাতে ফেরত আসতে হয়েছিল।

২৩ শে ডিসেম্বরকে কেন বেছে নেওয়া হল তা বোধগম্য হচ্ছে না।

শীতকালীন ছুটি শুরু হবে ২৩ শে ডিসেম্বর থেকে। ছুটির দিনে আন্দোলন না পিকনিক তা বোধগম্য হচ্ছে না। আবেগ দিয়ে আন্দোলন হয় না।

আমরণ অনশন ছাড়াও আন্দোলন করা যায়।আমরণ অনশন হল আন্দোলনের শেষ ধাপ।শেষ দিয়ে কি শুরু করতে যাচ্ছে মহাজোট?

আমরণ অনশনের মত কর্মসুচি সফল করার জন্য শিক্ষকরা কি প্রস্তুত? ধুমধাড়াক্কা টি টুয়েন্টি খেলা যায় কিন্তু বোল্ড হওয়ার সম্ভাবনা বলে বলে থাকে।

মাঠের তৃণমুল শিক্ষকদের সর্বাত্বক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায় এমন কর্মসুচী যেমন উপজেলা পর্যায়ে মিটিং করে উপজেলা নির্বাহি অফিসারের মাধ্যমে স্মারকলিপি প্রদান, জেলায় জেলায় সমাবেশ করে ডিসির মাধ্যমে স্মারকলিপি প্রদান, বিভাগীয় সমাবেশ, ঢাকায় মহাসমাবেশ করে আলটিমেটাম দিয়ে আমরণ অনশনের ডাক দিলে আন্দোলন সফল হত।

আন্দোলনের জন্য উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে কোন লিয়াজোঁ কমিটিই করা হয়নি।

এক জায়গায় বসে আমরণ অনশনের ডাক দিলেই হয়ে যাবে?

অনেকেই ভাবতে পারেন আমি এই মহাজোটের বিরুধীতা করার জন্য লিখছি। আসলে তা নয়।

আমি মনে প্রাণে চাই, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের নিচের ধাপে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের বেতন নির্ধারণ করা হোক।

আন্দোলন সফল হোক তাও মনে প্রাণে চাই।কিন্তু চাইলেই সবকিছু হয়ে যাবে তা কিন্তু নয়।

আমি বুঝিনা কেন মহাজোট এত তাড়াহুড়া করে আনকোরা টাইপের কর্মসুচি ঘোষণা দিল। আরো সময় নিলে অসুবিধা কি ছিল?

বন্ধের সময় কিভাবে আন্দোলন হয়? সহকারী শিক্ষক নেতৃবৃন্দের মধ্যে ম্যাচুরিটির যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে।ভাবিয়া কাজ করতে হয়, করিয়া ভাবিলে কিন্তু ক্ষতি ছাড়া লাভ নেই।

আমি অনুরোধ করবো, তারা নতুন করে ভেবে দেখবেন পাশাপাশি অন্যন্য সংঘটনগুলো যারা মহাজোটের বাহিরে রয়েছে সেগুলোকে জোটে নিয়ে আসার চেষ্টা করবেন

একই ধরনের আরও সংবাদ