অধিকার ও সত্যের পথে

প্রতিবন্ধী ব্যক্তির কারিগরি শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান

আগামীকাল ৩ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস উপলক্ষে গত ১৫ নভেম্বর ২০১৭, প্রথম আলোর আয়োজনে ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তির কারিগরি শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত আলোচকদের বক্তব্য সংক্ষিপ্ত আকারে এই ক্রোড়পত্রে ছাপা হলো।

আলোচনায় সুপারিশ
* প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও প্রতিবন্ধীবান্ধব করতে এবং তাদের ভর্তির হার বৃদ্ধিতে মন্ত্রণালয়গুলোর বার্ষিক বাজেট বাড়াতে হবে
* প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য পরিবহনব্যবস্থাকে প্রতিবন্ধীবান্ধব করা প্রয়োজন
* প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান, নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান, সমাজকল্যাণ অধিদপ্তর ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠনগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধন করা জরুরি
* স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিবন্ধীদের প্রশিক্ষণ ও চাকরির ব্যবস্থা করতে হবে
* সব কারিগরি িশক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপাল ও ইনস্ট্রাকটরদের প্রতিবন্ধিতা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতে হবে

আলোচনা
আব্দুল কাইয়ুম: সাধারণত যাঁরা শারীরিকভাবে একটু অক্ষম, তাঁদের নিয়ে আমরা তেমন একটা চিন্তা করি না। তাঁদের সুবিধা-অসুবিধার বিষয়গুলো আমরা অনেক সময় খেয়াল করি না। কিন্তু প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদেরও সমাজে সবার মতো সমান সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার অধিকার রয়েছে।
প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁরা স্বাভাবিক মানুষের মতো অথবা অনেক সময় স্বাভাবিক মানুষের চেয়ে বেশি দক্ষ হয়ে থাকেন। তাঁদের যথাযথ সুযোগ তৈরি করে দিলে তাঁরা আমাদের অর্থনীতিতে বিরাট ভূমিকা রাখতে পারেন। দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্তির জন্য আমাদের কী কী সমস্যার মোকাবিলা করতে হবে, সেই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার জন্যই আমাদের আজকের এই আয়োজন। এ বিষয়ে এখন সূচনা বক্তব্য দেবেন কিশোর কুমার িসং।

কিশোর কুমার সিং: বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশ মানুষ প্রতিবন্ধী। তার মানে হলো আমাদের তরুণদের মধ্যেও ১০ শতাংশ তরুণ রয়েছে, যারা প্রতিবন্ধী। এই বিশালসংখ্যক জনশক্তিকে যদি আমরা কাজে না লাগাই, তাহলে প্রতিবছর আমাদের জিডিপির প্রায় ৩ থেকে ৭ শতাংশ ক্ষতি হয়।
বাংলাদেশ সরকার ২০০৭ সালে প্রতিবন্ধীদের অধিকার রক্ষা–বিষয়ক কনভেনশনে স্বাক্ষর করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৩ সালে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করা হয়। এই আইনে বলা আছে যে কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যদি তার মোট কর্মীর ১ শতাংশ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি নিয়োগ করে, তাহলে সেই প্রতিষ্ঠান কর সুবিধা পাবে।
বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কাজে লাগানোর বিশাল সুযোগ রয়েছে। সারা দেশে ৪০০ সংস্থা রয়েছে, যারা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়ে কাজ করছে এবং ইতিমধ্যেই প্রায় ৯৩টি কোম্পানি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়োগ করছে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দক্ষতা ও কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করার জন্য বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এই সব কটি উদ্যোগের মধ্যে এখন একটি সমন্বয়ের প্রয়োজন রয়েছে।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়ে যেসব সংস্থা কাজ করছে, তাদের সঙ্গে কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয়ের প্রয়োজন রয়েছে। আবার যেসব প্রতিষ্ঠান প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়োগ করতে আগ্রহী, তাদের সঙ্গেও একটি সমন্বয়ের প্রয়োজন রয়েছে। এর ফলে একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি প্রশিক্ষণ পাওয়ার পর যথাযথ কর্মক্ষেত্রে নিয়োগ পেতে পারবেন।

 

নাসিমা আক্তার: প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সুরক্ষা বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার যে কাজগুলো করছে, তা অবশ্যই প্রশংসনীয়।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য কর্মসংস্থান অত্যন্ত জরুরি। কারণ, একটি পরিবারে যখন একজন প্রতিবন্ধী জন্ম নেয়, তখন সেই পরিবার ধরেই নেয় যে সে পরিবারের জন্য একটি বোঝা। তাই প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হলে আমাদের আর পরিবারের বোঝা হিসেবে বেঁচে থাকতে হবে না।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য প্রশিক্ষণের সুবিধা তৈরি করা হচ্ছে। তবে এই প্রশিক্ষণের সুবিধাগুলো আমাদের স্থানীয় পর্যায়ে তৈরি করা উচিত। কারণ, একজন প্রতিবন্ধীর জন্য শহরে এসে বা দূরের প্রশিক্ষণকেন্দ্রে গিয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করাটা অনেক সময় অসম্ভব হয়ে থাকে। আবার যঁারা প্রতিবন্ধীদের প্রশিক্ষণ করাবেন, তাঁদেরও প্রথমে প্রশিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে। কারণ, একজন স্বাভাবিক মানুষকে প্রশিক্ষণ দেওয়া আর একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া এক বিষয় নয়।
সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়ে অনেক প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু সব প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সমস্যা ও চাহিদা এক রকম নয়। ফলে, যাঁরা বিভিন্ন নীতিনির্ধারণের কাজ করছেন, তাঁরা যদি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়ে যেসব সংস্থা কাজ করছে, তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করেন, তাহলে ফলাফল আরও কার্যকর হবে বলে মনে করি।

 

মহুয়া পাল: প্রশিক্ষণকেন্দ্রগুলোতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হলে প্রথম যে বিষয়টি নিশ্চিত করা প্রয়োজন, সেটি হলো সহজে সব জায়গায় চলাচলের সুযোগ। দেখা যায় যে খুব সুন্দর একটি ভবন, কিন্তু তার সামনে দুটি সিঁড়ি দেওয়া আছে, অথচ একজন প্রতিবন্ধীর জন্য কোনো র্যা ম্পের ব্যবস্থা নেই।
আরেকটি সমস্যার সম্মুখীন আমাদের প্রায় সব সময়ই হতে হয়, সেটি হলো প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ব্যবহারের উপযোগী শৌচাগার থাকে না। অনেক ক্ষেত্রে থাকলেও দরজা ছোট। ফলে হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী সেটি ব্যবহার করতে পারছেন না। এই বিষয়গুলোর দিকে আমাদের নজর দেওয়া প্রয়োজন।
প্রশিক্ষণকেন্দ্রগুলোতে প্রতিবন্ধী সহায়ক সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা উচিত। দেখা যায় যে, একজন হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী প্রতিবন্ধী ব্যক্তি একটি সাধারণ টেবিলে ঠিকমতো বসে কাজ করতে পারছেন না। সেখানে যদি টেবিলটি একটু নিচু করে দেওয়া হয়, তাহলেই তিনি স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করতে পারছেন।
প্রশিক্ষণ শেষে চাকরির ক্ষেত্রে যেন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সহজে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারেন, সে জন্য আরেকটি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা প্রায়ই ঘরের মধ্যে বা ছোট পরিসরের মধ্যে আবদ্ধ থাকেন। ফলে, বাইরের জগৎ সম্পর্কে অনেক সময়ই তাঁদের ঠিকমতো ধারণা থাকে না।
আর এর ফলে চাকরি করতে গিয়ে প্রথমেই সেই পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সমস্যা হয়। এ সম্পর্কে তাঁকে আগে থেকে একটু প্রশিক্ষণ দিলে এই বিষয়টি অনেক সহজ হবে বলে মনে করি।

 

তাহসিনাহ আহমেদ: আমাদের প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ নিতে আসা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা একটি অভিযোগ প্রায়ই করে থাকেন। সেটি হলো, তাঁদের বাসা থেকে প্রশিক্ষণকেন্দ্রে আসার যে যাতায়াতব্যবস্থা, তা একেবারেই প্রতিবন্ধীবান্ধব নয়। আমাদের সাধারণ পরিবহনব্যবস্থা তাঁরা একেবারেই ব্যবহার করতে পারেন না। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ পরিবহনব্যবস্থা চালু করা যায় কি না, সেটি আমাদের ভাবতে হবে।
আমরা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি কিন্তু প্রশিক্ষণ গ্রহণের পরে তাঁরা যেন যথাযথ চাকরি পান, সে জন্য আমাদের চাকরিদাতা যেসব প্রতিষ্ঠান রয়েছে, তাদের আরও বেশি সম্পৃক্ত করতে হবে।
অনেক ভালো উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে এবং অনেক বড় কোম্পানি প্রশিক্ষিত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চাকরি দিচ্ছে। কিন্তু আরও বেশি কোম্পানিকে এই উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি তাঁদের প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়ে যেতে হবে।
এখানে দায়িত্বটা দুই দিকেই আছে। কোম্পানিগুলোর যেমন দায়িত্ব আছে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চাকরি দেওয়া, তেমনি আমরা যারা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণ দিতে কাজ করছি, তাদের দায়িত্ব হলো প্রশিক্ষিত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চাকরিদাতাদের কাছে নিয়ে যাওয়া।

 

ফারজানা কাশফি: প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সারা দেশে ছড়িয়ে–ছিটিয়ে আছেন। তাঁদের নিয়ে কাজ করতে হলে আমাদের একেবারে তৃণমূল পর্যায় থেকে কাজ করতে হবে। পরিবার এবং তৃণমূল সমাজে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করার জন্য আমাদের কাজ করতে হবে।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কল্যাণের জন্য নীতিমালা তৈরি হচ্ছে। আনুষ্ঠানিক অর্থনীতিতে তাঁদের যুক্ত করার জন্য অনেক উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতিতেও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের যুক্ত করার জন্য কাজ করতে হবে। কারণ, আমাদের দেশের মোট কর্মসংস্থানের ৮৭ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি তৈরি করছে। ফলে, এখানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের যুক্ত করার একটা বিরাট সুযোগ রয়েছে।
আমরা ব্র্যাক থেকে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে কাজ করার সময় ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিকদের প্রতিবন্ধীদের বিষয়ে সচেতন করে তুলেছি। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতি তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছি। এরপর ছোট ব্যবসায়ীরা নিজেরাই তাঁদের প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও প্রতিবন্ধীবান্ধব করে তুলছেন। তাঁরা প্রতিবন্ধী কর্মীদের জন্য র্যা ম্প তৈরি করে দিচ্ছেন, তাঁদের জন্য ব্যবহারের উপযোগী শৌচাগার তৈরি করে দিচ্ছেন।

 

সৈয়দ আবদুল আজিজ: প্রত্যেক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরই কোনো না কোনো কাজে দক্ষতা রয়েছে। ফলে, আমরা তাঁদের কাজ দেওয়ার সময় যদি তাঁর দক্ষতার জায়গাটা চিহ্নিত করে সে অনুসারে তাঁকে কাজ দিই, তাহলে সেটি অনেক বেশি কার্যকর ফল প্রদান করবে। তাই আমাদের বিভিন্ন খাতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির জন্য উপযোগী কাজগুলো চিহ্নিত করে সেখানে তাঁদের কাজ দিতে হবে।
আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে যেসব প্রতিবন্ধী ব্যক্তি প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকেন, তাঁরা সবাই কিন্তু স্থানীয় পর্যায়ে কাজ করতে চান। এর কারণ হলো, অনেক সময় শারীরিক অক্ষমতার কারণে তাঁদের পক্ষে দূরে গিয়ে কাজ করা সম্ভব হয় না। ফলে আমাদের স্থানীয় পর্যায়ে তাঁদের জন্য কাজের ব্যবস্থা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে অনানুষ্ঠানিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো একটি বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থান তৈরির ক্ষেত্রে আমাদের সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি একটি বিরাট বাধা হিসেবে কাজ করে। অনেক সময় দেখা যায়, পরিবারের লোকজন স্বীকার করতে চান না যে তাঁদের পরিবারে একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি রয়েছেন।
আবার আর্থিকভাবে একটু সচ্ছল পরিবার চায় না যে তাদের পরিবারের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিটি কোনো কাজ করুক। এই দৃষ্টিভঙ্গির বাধাকে অতিক্রম করার জন্যও আমাদের কাজ করতে হবে।

 

সাব্বির নাসির: আমি শারীরিকভাবে অক্ষম ব্যক্তিদের প্রতিবন্ধী বলে সম্বোধন করতে চাই না। তাঁদের বলতে চাই ‘ভিন্নভাবে সক্ষম’, কারণ, আমরা দেখেছি যে তাঁরা সবাই কোনো না কোনো কাজে স্বাভাবিক মানুষদের চেয়ে বেশি পারদর্শী।
ভিন্নভাবে সক্ষম শিশুদের নিয়ে কাজ করার সময় আমরা লক্ষ করেছি যে বাহ্যিক বাধা মোকাবিলা করার আগে আমাদের অভ্যন্তরীণ বাধা দূর করার জন্য কাজ করতে হয়েছে। আমাদের অন্যান্য কর্মী, যাঁরা ভিন্নভাবে সক্ষম মানুষের সঙ্গে কাজ করবেন, তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের জন্য আমাদের আগে কাজ করতে হয়েছে।
অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে এই ভিন্নভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের কর্মী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করতে হবে। সেটি শুধু কর সুবিধা দিয়ে করা যাবে না। এর জন্য তাঁদের অন্যভাবে উৎসাহিত করা যেতে পারে। সেটি হতে পারে কোনো পুরস্কার দেওয়ার মাধ্যমে বা কোনো রকম স্বীকৃতি প্রদান করার মাধ্যমে।
আরেকটি বিষয় হলো, যাঁরা ভিন্নভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণ দেন, তাঁরা যদি আমাদের মতো প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে চাহিদাগুলো জেনে নিয়ে তাঁদের প্রশিক্ষণ দেন, তাহলে সেটি ভিন্নভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া আমাদের জন্য অনেক বেশি সুবিধাজনক হবে।

 

মিজানুর রহমান: আমাদের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য যে প্রতিষ্ঠানগুলো রয়েছে, সেগুলোর প্রায় সবই শহরকেন্দ্রিক গড়ে উঠেছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্থানীয় পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে, যেন স্থানীয় পর্যায়ে বসবাসকারী প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা তাঁদের নিজেদের বাড়ি থেকেই এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে পারেন।
আমাদের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়ে একটি পরিপূর্ণ ডেটাবেইস তৈরি করা দরকার। এই ডেটাবেইসে তাঁদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। এতে করে আমরা যারা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়ে কাজ করছি, তাদের জন্য কাজটি আরও সহজ ও কার্যকর হবে।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়ে অনেক বেসরকারি সংস্থা বিক্ষিপ্তভাবে কাজ করে। এদের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে সবাইকে জেলা বা উপজেলা অনুসারে কাজ বণ্টন করে দেওয়া যেতে পারে। এতে সারা দেশেই সমানভাবে কাজ হবে।

 

ডেভিড হাসানাত: সমাজে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের যদি যথাযথ সুযোগ-সুবিধা প্রদান না করি, তাহলে তাঁরা সমাজের মূলধারায় আসতে পারবেন না। কিন্তু তাঁদের যদি আমরা যথাযথ সুযোগ-সুবিধা প্রদান করে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিই, তাহলে তাঁরা আমাদের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবেন।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির জন্য এবং তাঁদের উপযোগী কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য ভালো ভালো উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে অনেক নীতিমালা তৈরি করা হচ্ছে। কিন্তু এই নীতিমালা প্রণয়নের পাশাপাশি সচেতনতা তৈরির দিকেও নজর দিতে হবে।
দেশে প্রায় চার হাজার পোশাকশিল্প কারখানা রয়েছে। প্রতিটি কারখানায় ১০ জন করে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির চাকরি দিলে প্রায় ৪০ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। মনে হয় কোনো প্রতিষ্ঠানের মালিক মাত্র ১০ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে নিয়োগ দিতে অসম্মতি জানাবেন না।
আমরা যদি নীতিনির্ধারণের পাশাপাশি সচেতনতা তৈরির কাজটিতেও গুরুত্ব দিই, তাহলে প্রণীত নীতি খুব সহজে ও দ্রুত বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।

 

সালাউদ্দিন কাশেম খান: জনসংখ্যার ১০ শতাংশ যদি প্রতিবন্ধী ব্যক্তি হয়, তাহলে দেশে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি রয়েছেন। এই সংখ্যাটা কিন্তু একেবারেই কম নয়। আর আমাদের মনে রাখতে হবে যে আমরা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য যে সুযোগ-সুবিধা প্রদানের কথা বলছি, সেটি কিন্তু তাঁদের সাংবিধানিক অধিকার।
তাঁদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে আমরা তাঁদের প্রতি কোনো করুণা করছি না, তাঁদেরও আমার বা আপনার মতো সমান অধিকার রয়েছে।
২০২১ সালের মধ্যে যদি আমরা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে চাই, তাহলে সরকার যে নীতিমালা ইতিমধ্যেই প্রণয়ন করেছে তার সঠিক বাস্তবায়ন করতে হবে। আর এই বাস্তবায়ন শুধু শহরকেন্দ্রিক হলে হবে না। স্থানীয় পর্যায়ে এই নীতিমালাগুলো বাস্তবায়নের দিকে নজর দিতে হবে।
আর একটি আশার কথা হচ্ছে যে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে তাঁদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে যথেষ্ট আন্তরিক।
শুধু সরকারিভাবে বা বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতে চাকরি দিয়ে এই প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ প্রতিবন্ধী ব্যক্তির কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব হবে না। এর জন্য অবশ্যই দেশের যে ছোট ছোট অনানুষ্ঠানিক শিল্প ও ব্যবসাগুলো রয়েছে, সেখানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির ব্যবস্থা করতে হবে।
আমরা যদি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে যদি অর্থনীতিতেও তাঁদের সক্রিয় অবদান নিশ্চিত করতে পারি, তাহলে আমাদের জিডিপির প্রবৃদ্ধি প্রায় ১ দশমিক ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। সুতরাং শুধু প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমেই আমরা আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দুই অঙ্কের জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারব।

 

মুর্তজা রাফি খান: যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিকেরা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়োগ দিতে আগ্রহী, কিন্তু এই বিষয়ে তাঁদের কোনো ধারণা নেই, তাঁদের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণ, দক্ষতা, কর্মক্ষমতা ও সম্ভাবনার বিষয়ে জানাতে কাজ করে যাচ্ছি আমরা। তার পাশাপাশি প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর যেন একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি তাঁর জন্য উপযোগী কাজে যোগ দিতে পারেন, সেই পথটিও সুগম করার জন্য আমরা কাজ করছি।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থান তৈরির জন্য শুধু চাহিদা বৃদ্ধির দিকটি দেখলেই হবে না, পাশাপাশি যাঁরা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণ প্রদান করছেন, তাঁদের সঙ্গে যাঁরা চাকরিদাতা রয়েছেন, তাঁদের একটি সমন্বয় সাধন করে দিতে হবে।
আর সে লক্ষ্যেই আমরা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য একটি চাকরি মেলা আয়োজন করতে যাচ্ছি, যেখানে সারা দেশের ছোট–বড় সব প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে। সেখানে তারা সম্ভাব্য চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাবে এবং তাদের চাহিদা অনুসারে সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারবে।
আর এ বছর মেলাটি ঢাকায় অনুষ্ঠিত হলেও পরের বছর আমরা এটি চট্টগ্রামে আয়োজনের চিন্তাভাবনা করছি এবং পর্যায়ক্রমে এটিকে দেশের অন্যান্য জেলায়ও নিয়ে যাওয়া হবে।

 

মো. জেহাদ উদ্দিন: প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থান করলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পক্ষ থেকে সেই প্রতিষ্ঠানকে কিছু কর সুবিধা দেওয়া হয়ে থাকে।
কোনো কোম্পানি যদি প্রতিবন্ধী কর্মীদের কর্মসংস্থান বা তাঁদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির জন্য কোনো বিনিয়োগ করে, তাহলে সেই বিনিয়োগের সবটাই সেই কোম্পানির করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার খরচ হিসেবে দেখানোর সুযোগ রয়েছে। আর কোনো প্রতিষ্ঠান যদি শুধু প্রতিবন্ধী কর্মীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান চালু করে, তাহলে সেই প্রতিষ্ঠানকে পুরোপুরি করের আওতামুক্ত রাখার বিধান রয়েছে।
আমরা জানি, আমাদের উপজাতিদের জন্য একটি বিধান রয়েছে, তারা যদি তাদের ঐতিহ্যগত কোনো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে অর্থ উপার্জন করে, তাহলে সেই উপার্জন পুরোপুরি করমুক্ত হবে। আমার মনে হয়, আমাদের প্রতিবন্ধী কর্মীদের জন্যও এই বিধান চালু করা যায় কি না, সেটি আমাদের ভেবে দেখা দরকার।
কর সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে প্রতিবন্ধী কর্মীদের কর্মসংস্থান তৈরির জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে। কিন্তু এর পাশাপাশি বিশেষ কিছু সুবিধা বা প্রণোদনার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও উৎসাহিত করে তোলা যায় কি না, সেটি চিন্তা করে দেখতে হবে।
আমরা যেমন প্রতিবছর আয়কর মেলা করি, সর্বোচ্চ করদাতাকে সম্মানিত করি, একইভাবে যেসব প্রতিষ্ঠান প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থান করছে, তাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে কোনো স্বীকৃতির ব্যবস্থা করলে আরও অনেক প্রতিষ্ঠান প্রতিবন্ধী কর্মী নিয়োগে এগিয়ে আসবে বলে আমি মনে করি।

 

জাওয়াদুল করিম খান
জাওয়াদুল করিম খান: বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অন্তর্ভুক্তকরণের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেক উন্নতি হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ বিজনেস অ্যান্ড ডিজঅ্যাবিলিটি নেটওয়ার্কের প্রতিষ্ঠা একটি বিরাট পদক্ষেপ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির ক্ষেত্রে আমাদের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হচ্ছে, পাশাপাশি তাঁদের প্রশিক্ষণের দিকে আমাদের আরও গুরুত্বসহকারে নজর দেওয়া দরকার।
প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে বেশ কিছু সমস্যা ও বাধা ইতিমধ্যেই আমাদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। আরেকটি বিষয় হলো, প্রশিক্ষণ দেওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই চাকরিদাতাদের চাহিদা অনুসারে তাঁদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। প্রশিক্ষণদাতা ও চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় জরুরি।
আরেকটি বিষয় হলো, যেসব প্রতিষ্ঠান প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ সহায়তা প্রদান করে থাকে, সেসব প্রতিষ্ঠানকে প্রশিক্ষণ ও নিয়োগ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত করলে এই প্রক্রিয়াটি আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ হবে বলে আমি মনে করি।

 

তানিয়া ফেরদৌস: আমরা এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংকের পক্ষ থেকে সুবিধাবঞ্চিত মানুষ এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য একটি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করি। এই প্রশিক্ষণে আমরা দেখতে পাই যে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ আশানুরূপ ছিল না। এর কারণ হতে পারে, যাতায়াতের অসুবিধার কারণে হয়তো স্থানীয় অনেক প্রতিবন্ধী অংশ নিতে পারেননি।
আমরা অনেক প্রশিক্ষণদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করে থাকি। তারা আমাদের কাছে একটি অভিযোগ প্রায়ই করে থাকে যে সব ধরনের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার মতো দক্ষতা ও অবকাঠামো তাদের নেই। ফলে তারা অনেককেই যথাযথ প্রশিক্ষণ প্রদান করতে পারছে না। প্রশিক্ষণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির দিকে আমাদের নজর দেওয়া উচিত।
আমাদের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ আগের চেয়ে অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। এটিকে আরও বৃদ্ধি করতে হবে। আর এর জন্য আরও সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করা প্রয়োজন। দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ছাড়া প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি পুরোপুরি নিশ্চিত করা কষ্টকর হবে।

কিশোর কুমার সিং: বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার জন্য আমাদের সবাইকে আলোচনা, সমন্বয় এবং কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে কাজ করতে হবে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণের জন্য কাজ করা সংস্থাগুলো, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং নিয়োগকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে যাচ্ছে। এখন এই সব পক্ষের মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজন।
অনেক বেসরকারি কোম্পানি প্রশিক্ষিত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কাজ দেওয়ার জন্য আগ্রহী থাকলেও তারা চাহিদামতো লোক পাচ্ছে না। কারণ, তাদের সঙ্গে কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর যথাযথ সমন্বয় নেই। এই সমন্বয় সাধন করা অত্যন্ত জরুরি।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে দেশের অনেক প্রতিষ্ঠানের অনেক ভালো উদ্যোগ রয়েছে। এই উদ্যোগগুলোর কথা আমাদের আরও ছড়িয়ে দিতে হবে। এতে অন্যান্য প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষ সচেতন হবে এবং নিজেরা উদ্যোগ গ্রহণ করতে উদ্বুদ্ধ হয়ে উঠবে। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।

আব্দুল কাইয়ুম: প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে হবে। তাহলে তাঁরা আমাদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে অবদান রাখতে পারবেন।
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায়ও বলা হয়েছে, কেউ যেন পেছনে পড়ে না থাকে। এসব বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উন্নয়নে আরও গুরুত্বসহকারে কাজ করবে বলে আশা করি। সবাইকে প্রথম আলোর পক্ষ থেকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।

যাঁরা অংশ নিলেন
মিজানুর রহমান : পরিচালক, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন,
কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর
মো. জেহাদ উদ্দিন : জয়েন্ট কমিশনার অব ট্যাক্সেস,
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড
সালাউদ্দিন কাশেম খান : কো-চেয়ারম্যান, এক্সিকিউটিভ কমিটি অব
ন্যাশনাল স্কিলস ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিল
সৈয়দ আবদুল আজিজ : প্রিন্সিপাল, যশোর, টিএসসি
ফারজানা কাশফি : হেড অব স্কিলস ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম, ব্র্যাক
তানিয়া ফেরদৌস : প্রজেক্ট অ্যানালিস্ট, এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংক
তাহসিনাহ আহমেদ : প্রধান নির্বাহী অফিসার, ইউসেপ বাংলাদেশ
ডেভিড হাসানাত : চেয়ারম্যান, ভিয়েলাটেক্স গ্রুপ
মহুয়া পাল : ভাইস চেয়ারপারসন, অ্যাকসেস বাংলাদেশ
সাব্বির নাসির : নির্বাহী পরিচালক, স্বপ্ন
জাওয়াদুল করিম খান : প্রোগ্রাম ম্যানেজার (এসডিসি),
এমবেসি অব সুইজারল্যান্ড ইন বাংলাদেশ
নাসিমা আক্তার : সভাপতি, ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর
ডিজঅ্যাবিলিটি উইমেন
মুর্তজা রাফি খান : কো-চেয়ার অব এক্সিকিউটিভ কমিটি, বাংলাদেশ
বিজনেস অ্যান্ড ডিজঅ্যাবিলিটি নেটওয়ার্ক
কিশোর কুমার সিং : চিফ টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার,
বাংলাদেশ স্কিলস ফর এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড
প্রোডাক্টিভিটি প্রকল্প, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা
সঞ্চালক
আব্দুল কাইয়ুম : সহযোগী সম্পাদক, প্রথম আলো :সুত্র প্রথম আলো

একই ধরনের আরও সংবাদ