অধিকার ও সত্যের পথে

নারীর প্রতি সহিংসতা- প্রবল সামাজিক প্রতিরোধ প্রয়োজন

এই বৈশ্বিক সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে জাতিসংঘ ২৫ নভেম্বর নারীর প্রতি সহিংসতা অবসানে আন্তর্জাতিক দিবস ঘোষণা করেছে। প্রতিবছর ২৫ নভেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ পক্ষ পালন করা হয়, ১৬ দিন ধরে প্রচারাভিযান চলে। ২৫ নভেম্বর থেকে এই প্রচারাভিযান শুরু হয়েছে; বাংলাদেশে এই প্রচারাভিযানের স্লোগান হলো ‘কেউ রবে না পিছে: নারী ও মেয়েশিশুর নির্যাতনমুক্ত জীবন চাই’।

আমাদের দেশে নারীর প্রতি সহিংসতার বিষয়টি বিশেষ মনোযোগের দাবি রাখে। কারণ, এটি অত্যন্ত গুরুতর একটি জাতীয় সমস্যা। অত্যন্ত কঠোর আইন থাকা সত্ত্বেও এ দেশে নারী ও মেয়েশিশুদের ওপর নির্যাতন বেড়ে চলেছে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের প্রতিবেদন অনুযায়ী চলতি বছরের ১০ মাসে ৮৩৪টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। গত বছর ১২ মাসে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছিল ৭০৫টি। বর্বরতার বড় দিকটা হলো ধর্ষিতদের প্রায় ৭০ শতাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েশিশু। দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা এবং ধর্ষণের পর হত্যা করার প্রবণতাও মারাত্মকভাবে বেড়ে গেছে। গত বছর দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ২১২টি, ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৩১ জনকে। ধর্ষণসহ নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এমন নারী ও মেয়েশিশুর সংখ্যা এ বছরের প্রথম ১০ মাসেই ১ হাজার ৭৩৭। গত বছরের ১২ মাসে সংখ্যাটি ছিল ১ হাজার ৪৫৩।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৬ শতাংশ মেয়েশিক্ষার্থী নানা ধরনের হয়রানির শিকার হন। ৮০ শতাংশের বেশি নারী স্বামীর দ্বারা শারীরিক, মানসিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হন। যৌতুকের দাবি মেটাতে না পেরে অনেক নারীকে দিনের পর দিন নির্যাতন সয়ে যেতে হয়, অনেককে প্রাণও দিতে হয়।

নারী নির্যাতনের প্রকাশিত পরিসংখ্যানে সঠিক চিত্র ফুটে ওঠে না। কারণ, বিভিন্ন গবেষণা জরিপ থেকে জানা গেছে, ৭০ শতাংশ ধর্ষণের ঘটনা সংবাদমাধ্যম ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষের অজানা থেকে যায়। সামাজিক মর্যাদাহানির আশঙ্কায়, ধর্ষণকারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, এমনকি হত্যার হুমকিসহ নানা কারণে ধর্ষণের শিকার নারী ও মেয়েশিশুদের, তাদের পরিবারের সদস্যদের অনেকে চুপ করে থাকেন।

এই দুঃসহ পরিস্থিতির অবসান ঘটানো একান্ত প্রয়োজন। এ জন্য আইনের প্রয়োগ আরও কার্যকর করতে হবে। কিন্তু তা যথেষ্ট নয়, প্রতিটি পরিবারে, প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে নারী ও মেয়েশিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

একই ধরনের আরও সংবাদ