অধিকার ও সত্যের পথে

শিক্ষায় মিলবে মুক্তি, তবে কেন খন্ডকালীন শিক্ষকের বেতন দুই-তিন হাজার টাকা?

“ শিক্ষায় মিলে মুক্তি” এই প্রবাদ বাক্যটি অন্ধকার যুগের অবসান ঘটানো একটি কালজয়ী কথামালা। সময়ের বিবর্তনে পৃথিবী ও মানুষ আধুনিক হয়েছে, আধুনিক হয়েছে সেই শিক্ষা ব্যবস্থার অনেক কিছুই। শিক্ষার আতুর ঘর হলো প্রাথমিক শিক্ষা। এই প্রাথমিক থেকেই শুরু হয় শিক্ষা নামের অমিয় সুধা পানের হাতেখড়ি। যে অমিয় সুধা পান করলে মুক্তি মিলবে বলেই ধারণা সাধারণ মানুষের। প্রথমিককে অনেকেই শিক্ষার মেরুদন্ড বলে আখ্যায়িত করেছে। দেশ জুড়ে সরকারী ও বেসরকারী মিলে মোট ৮২৯২১ টি প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এছাড়াও রেজিস্ট্রেশন ছাড়া রয়েছে বহু প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সব মিলিয়ে সরকারী হিসাব মতে ২ কোটি ১৯ লক্ষাধিক শিক্ষার্থী পাঠ গ্রহণ করছে এই সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। এই শিক্ষার্থীরা আগামীর ভবিষ্যৎ কান্ডারী তাই সরকার গ্রহণ করেছে নানামূখী কর্মকান্ড এর পরও যেন শিক্ষার মান নিয়ে দুঃচিন্তা কমছেনা। প্রতিষ্ঠান গুলোতে যেমন রয়েছে স্থায়ী শিক্ষক তেমনি রয়েছে বহু সংখ্যক খন্ডকালীন শিক্ষক। খন্ডকালীন শিক্ষকদের মধ্যে বেশিরভাগই এইচ এস সি বা সম্মান ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী। আবার এদের নিয়োগ অস্থায়ী এবং বেতন ২০০০-৩০০০ টাকা যা একজন দিনমুজুরের একমাসের আয়ের তিনভাগের একভাগ, ভাবনাটা এখানেই, কতটা যোগ্য এই শিক্ষক? এতো কম উপার্জনে তাদের কতটুকু মনোযোগ থাকে ক্লাসে? থাকেনা বলেই তিন/চার মাস অন্তর শিক্ষক পরিবর্তন হয় ফলে ব্যহত হয় পাঠদান। এতে ক্ষতি হয় শিক্ষার্থীর এবং ক্লাসে বাড়ে অমনোযোগ। এক বছরে এক ক্লাসে তিন/চার বার শিক্ষক পরিবর্তন হলে কতটা মান সম্পন্য পাঠদান হতে পারে তা গভীরভাবে ভাবতে হবে। অনেক বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের থেকে ১২০০-১৮০০ টাকা মাসিক বেতন গ্রহণ করলেও সেই শিক্ষার্থীকে পড়াতে যে শিক্ষক নিয়োজিত করে তার বেতন দেয় দুই/তিন হাজার টাকা। ফলে তারা স্বাভাবিক উপার্জনের জন্য শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়াতে উদ্যোগী হয় এবং নানা কথায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বাধ্যও করে থাকে। কেননা ১ জন শিক্ষার্থীকে ১ ঘন্টা করে পড়ালে মাসে চার/পাঁচ হাজার টাকা নেয়া যায়। সুতরাং কম বেতন হলেও শিক্ষকতাকে অনেক তরুণ/তরুণি বেছে নিচ্ছে নিছক প্রাইভেট পড়ানোর সুযোগ হিসাবে। যা গোটা শিক্ষার জন্য কতটা ক্ষতিকর তা দৃশ্যমান। তুচ্ছ তাচ্ছিল্যে এই শিক্ষক অনেক ক্ষেত্রে অমানবিক মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে যা নিজেদের কিছুটা উপার্জনের জন্য মুখ বুজে সহ্যও করছে অনেকেই। গুরুত্বপূর্ণ এই মহান পেশায় নজরদারি বাড়াতে হবে। আইন করে হলেও সরকারী ও বেসরকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এই ধরণের অসামঞ্জস্য কর্মকান্ড বন্ধ করাতে হবে। নয়তো দুই/তিন হাজার টাকা বেতনের শিক্ষকের হাতে ভবিষ্যৎ কান্ডারীদের ছেড়ে দেয়া হবে আত্মঘাতী।এজন্য স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগ সহ বর্তমানে যাদের খন্ডকালীন নিয়োগ দেয়া আছে তাদের কিভাবে স্থায়ী করা যায় সেদিকেও নজর দিতে হবে।মানসিক চাপমুক্ত যুবসমাজ গড়তে বাড়াতে হবে কর্মসংস্থান তবেই শিক্ষায় মিলবে মুক্তি।

একই ধরনের আরও সংবাদ