অধিকার ও সত্যের পক্ষে

ঘুমিয়ে পড়া শিক্ষিকার ছবি ফেসবুকে, এটা কতটা শোভনীয় ও আইনসংগত

শিক্ষা যদি জাতির মেরুদণ্ড হয় তাহলে শিক্ষার মেরুদণ্ড শিক্ষক। শিক্ষকসমাজ স্বার্থপরতার কাছে পরাজিত না হয়ে দেশের বৃহত্তম কল্যাণে, দেশগড়ার কাজে সমাজের মঙ্গলে মানবসভ্যতার অগ্রগতিতে চিরকাল শিক্ষা বিস্তারে নবশক্তির উদ্বোধক হিসেবে শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়ায় জ্ঞানের আলো, গড়ে তোলে শিক্ষাথীদের স্বপ্নময় উজ্জল ভবিষ্যৎ, সততা ও নৈতিকতার অনুশীলন এবং আদর্শ চরিত্রের গুণাবলী অর্জনে সহায়ক হিসেবে কাজ করে এই শিক্ষক সমাজ। কিন্তু এখন চরমভাবে অবহেলিত, লাঞ্ছিত, নির্যাতিত এই শিক্ষক সমাজ।

সম্প্রতি সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার খলাছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণীর মডেল টেস্ট পরীক্ষা চলাকালীন সময় টেবিলের ওপর মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়া শিক্ষিকার (উপজেলা চেয়ারম্যানের সহকারীর তোলা) ছবি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করে শুধু ওই শিক্ষিকাকেই নয় বরং গোটা শিক্ষক সমাজকে কলুষিত করেছে। উক্ত শিক্ষিকার ফেসবুকের তথ্য অনুযায়ী তিনি ছিলেন অসুস্থ্য, তাই তিনি ছুটি নিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ছুটি না নিয়ে নিজের দায়িত্বের প্রতি সম্মান আর সহকর্মীদের সহযোগিতার জন্য অসুস্থ্য শরীর নিয়ে বিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন। এতে তিনি তাঁর উপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথ পালনের চেস্টা করেছেন, আর এতেই ঘটে বিপত্তি।

তিনি নিজের অজান্তেই এই অসুস্থ্য শরীর নিয়ে ক্লাসে টেবিলে (পরীক্ষার কক্ষ) মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়ে, সেই ঘুমিয়ে পড়া শিক্ষিকার ছবি ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম সহ বিভিন্ন পত্রিকায়, আর ক্লাসে ঘুমানোর অপরাধে সেই শিক্ষিকার আলোচনা সমালোচনা করছি আমরা অনেকেই, একবারও ভাবিনি তিনিও একজন মানুষ, একজন শিক্ষিকা, একজন মমতাময়ী মা, হঠাৎ অসুস্থ হতে পারে একজন মানুষ, আজ হয়ত তাঁর সমস্যা কাল আমারও হতে পারে।

একজন শিক্ষিকা (সরকারি চাকুরীজীবী) ক্লাস রুমে ঘুমানোর কারণে তাঁর দায়িত্বে অবহেলার দায়ে সরকারী চাকুরীর বিধান অনুযায়ী শিক্ষিকার শাস্তি হতে পারত, দেশেতো প্রচলিত আইন আছে, কিন্তু সেটা না করে তাঁর ক্লাসে ঘুমন্ত অবস্থার ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া হল। তাহলে কি কেউ দায়িত্বে অবহেলা করলে তার ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করতে হবে? এটা কতটা শোভনীয় ও আইনসংগত, এমন একটা প্রশ্ন রয়েই যায়। দায়িত্বে অবহেলা করলে কেনইবা ছবি তোলা হবে, আর কেনইবা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়বে।

আগামী দিন হবে শিক্ষা, কৃৎ-কৌশল, তথ্য ও প্রযুক্তি নির্ভর সমৃদ্ধ সোনার বাংলা, আর এটি সম্ভব হবে একমাত্র শিক্ষক দ্বারাই, যা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।(ছবি-সংগৃহীত)

লেখকঃ শামছুল হক
সিনিয়র সহকারি শিক্ষক
সৈয়দপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ
সৈয়দপুর-নীলফামারী।

 

একই ধরনের আরও সংবাদ