অধিকার ও সত্যের পথে

বাগেরহাটে অবৈধ কোচিং বাণিজ্য বন্ধে ঝটিকা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করলেন সদর ইউ এন ও

আজ ১৮ বাগেরহাট সদর ইউ এন ও জনাব মো: নুরুল হাফিজ মহোদয়ের নেতৃত্বে অবৈধ কোচিং বাণিজ্য বন্ধে ঝটিকা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। সকাল ১০ঘটিকার সময় এ অভিযান শুরু হয়। সর্বপ্রথম অভিযান চলে বাগেরহাট সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে। সেখানে বিভিন্ন ক্লাস পরিদর্শন করা হয়। শিক্ষার্থীদের সাথে কথা হয়। শিক্ষকবৃন্দকে সরকারের জারীকৃত পরিপত্র অনুযায়ী কোচিং পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়। স্যার বলেন ক্লাসের পড়া ক্লাসেই প্রস্তুত করতে হবে, কোন শিক্ষকই কোচিং বানিজ্যে জড়াতে পারবে না। কোন শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এরপর অভিযান চলে নেপচুন কোচিং এ। এখানে কোচিং সেন্টারটি তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। পরবর্তীতে বাগেরহাট সরকারী গার্লস স্কুলে যায় মোবাইল টিম। সেখানে বিভিন্ন শ্রেণীকক্ষ ঘুরে শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে কিছু অভিযোগ পাওয়া যায়। অভিযোগটি হলো স্কুল ছুটির সময় কিছু বখাটে ছেলে, মেয়েদেরকে বিরক্ত করে। ইউএনও স্যার ছাত্রীদের অভিযোগ আমলে এনে বিষয়ের সত্যতা যাচাই করেন। এবং অভিযুক্ত কয়েকজন বখাটেকে তাৎক্ষনিক শাস্তির ব্যবস্থা করেন। পুলিশ সদস্য এ কাজে স্যারকে সহযোগীতা করেন। পরবর্তীতে অভিযান চলে ঢাকা কোচিং এ। এখানে গিয়ে দেখা যায় কোচিং চলছে। তবে তারা কারেন্ট স্টুডেন্ট নয়। ভার্সিটি ও জব কোচিং পরিচালনা করতে দেখা যায়। স্যার কোচিং এর পরিচালককে সাবধান করে দেন। তিনি বলেন নীতিমালার বাইরে যদি আপনারা কোচিং পরিচালনা করেন তাহলে আপনার শাস্তি পেতে হবে এবং কোচিং এ তালা ঝুলবে। পরিচালক অঙ্গীকার করেন স্যার আমরা নীতিমালার বাইরে কিছু করব না। সর্বশেষ অভিযান চলে রেনেসা কোচিং এ। এ কোচিং এ তালা ঝোলানো থাকলেও তাদেরকে পাওয়া যায় সরকারী গার্লস স্কুলের গেটে। এখানে পরিচালকসহ কয়েকজনকে দেখা যায় লিফলেট বিলি করতে। ইউএনও মহোদয় পরিচালককে ডেকে কোচিং এর বিষয়ে খোজখবর নেন এবং যোগ্য শিক্ষক দিয়ে সরকারী নীতিমালা অনুযায়ী কোচিং পরিচালনার নির্দেশ দেন। বাগেরহাট সদরের মত এরকম দেশের প্রতিটি উপজেলা জেলায় যদি ঝটিকা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয় তাহলে অচিরেই দেশ থেকে অবৈধ কোচিং বাণিজ্য বন্ধ হবে। শিক্ষকরা পাঠদানে মনোযোগী হবে, পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল আরও সন্তোষজনক হবে বলে আশা করে সচেতন মহল।
মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় ইউ এন ও মহোদয়ের সাথে ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জনাব মাছুদা আক্তার, একাডেমিক সুপারভাইজার জনাব এস এম হিশামুল হক, সরকারী গার্লস কলেজের একজন প্রতিনিধি, বিশিষ্ট শিক্ষাবীদ অধ্যাপক মোজাফফার হোসেন, সুপার মো: মুশাররাফ হুসাইন, শিক্ষা বার্তা ডট কম পত্রিকার খুলনা ব্যুরো চীফ মো: মোজাহিদুর রহমান।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো