অধিকার ও সত্যের পথে

‘উপাচার্যকে আর কোনও দুর্নীতি করতে দেওয়া হবেনা’

‘উপাচার্যকে নতুন করে আর কোনও দুর্নীতে করতে দেওয়া হবেনা। দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি সেক্টরকে নিজস্ব আখড়া বানিয়েছেন। এখন থেকে পদে পদে তাঁর সব ধরনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে রুখে দাঁড়াবো আমরা।’- বুধবার উপাচার্যের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে তৃতীয় দিনের মতো নিজেদের আন্দোলন চালানো অবস্থায় মানববন্ধন থেকে এসব কথা বলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।
জানা যায়, অবৈধ নিয়োগ-বাণিজ্য বন্ধ করা, প্রক্টরের পদত্যাগ, উপাচার্যকে দেওয়া বাড়তি ভাতা বিশ্ববিদ্যালয় কোষাগারে ফেরত দেওয়াসহ ১৪ দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য তৃতীয় দিনের মতো মানববন্ধন করেছে শিক্ষক সমিতি ও বঙ্গবন্ধু পরিষদ। মানববন্ধনে এতাত্মতা পোষণ করছে সাধারণ কর্মচারীবৃন্দ ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালের সামনে তারা এ মানববন্ধন করেন।
শিক্ষক সমিতির দাবিগুলো হলো- প্রক্টরের পদত্যাগ, অবৈধ নিয়োগ-বাণিজ্য বন্ধ করা, উপাচার্যকে দেওয়া বাড়তি ভাতা বিশ্ববিদ্যালয় কোষাগারে ফেরত দেওয়া, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিচার, উপাচার্যের অতিরিক্ত গাড়ি ব্যবহার রোধ, সান্ধ্যকালীন এমবিএ কোর্সের টাকা ফেরত, ৭ শিক্ষকের কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রত্যাহার, স্বাক্ষর জালিয়াতি করে বন্যা দুর্গতদের জন্য শিক্ষকদের এক দিনের বেতন-ভাতা প্রদানকারীদের শাস্তি, রেললাইনে নাশকতার মামলার আসামিকে চাকরি থেকে অব্যাহতি, চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি ও ১৭ মার্চ শিক্ষক সমিতির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে প্রক্টর, বঙ্গবন্ধু হলের প্রভোস্ট ও ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল (আইকিউএসি) বিভাগের পরিচালকের অসদাচরণের বিচার, নিম্নমানের আসবাব ক্রয়ের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি প্রদান ও ছাত্র হত্যার বিচার ।
মানববন্ধন শেষে শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন থেকে উপাচার্যের বাসভবন পর্যন্ত র‌্যালি করেন এবং উপাচার্যবিরুদ্ধ বিভিন্ন ব্যানার তাঁর বাংলোর প্রধান ফটকে টাঙিয়ে দেন।
শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. মোঃ আবু তাহের বলেন, ‘আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো। উপাচার্যকে নতুন করে আর কোন দুর্নীতি করার সুযোগ দেওয়া হবে না । নতুন করে কোন নিয়োগ কার্যক্রম চালালে আমরা রেজিস্ট্রার দপ্তরেও তালা ঝুলিয়ে দিবো।’
এদিকে চলমান আন্দোলনের প্রেক্ষিতে তৃতীয়দিনের (বুধবার) মতো অফিসে আসেননি উপাচার্য। এসব বিষয় নিয়ে উপাচার্য প্রফেসর ড. মো: আলী আশরাফের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন উঠাননি।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো