অধিকার ও সত্যের পক্ষে

ধর্ষণ রোধে সামাজিক মূল্যবোধ ও পারিবারিক অনুশাসন প্রয়োজন

প্রথম শেণীর শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে শিক্ষিকা পর্যন্ত ধর্ষিত হচ্ছে সারা দেশে। প্রতিদিন গড়ে ৫/৬ টি নিউজ আসছে গনমাধ্যমে যা ব্যথিত করছে প্রতিনিয়ত। এ কোন অসভ্য যোগে আমরা বাস করছি? কিছুক্ষণ আগেই প্রিয় সহকর্মী জানাল আরো একটি ধর্ষণের খবর, এভাবেই কি চলবে?

আজকাল চলন্ত বাস, ট্রেন কিংবা নৌকা প্রতিটি জনপদেই নারী ও শিশু ধর্ষিত হচ্ছে যা নিয়ে তেমন কোন প্রতিক্রিয়াই নেই প্রশাসনের। আত্মীয়ের বাসা, বোনের বাসা, অনেক সময় নিজ বাড়িতেই ধর্ষিত হচ্ছে অনেক শিশু। এমন কি পালিত বাবাও হয়ে যাচ্ছে ধর্ষক যা নোংরা ও বর্বর মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। এসব ঘটনা একবারই হচ্ছে তা কিন্তু নয়! একই ধরণের অনেক ঘটনা বার বার হওয়ায় নারী নিরাপত্তা নিয়ে একটু ভাবতেই হবে। শিক্ষক দ্বারা শিক্ষার্থী যৌন হয়রানীর ঘটনা অনেক পুরনো। ইদানিং ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হচ্ছে অনেক অসহায় মেয়ে।
বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গনধর্ষণ করা হচ্ছে মেয়েদের যা নৃসংশ। পারিবারিক শত্রুতার জেরে অনেক সময় নারী নির্যাতন হচ্ছে। এসব নিয়ে আরো দায়িত্বশীল হতে হবে প্রশাসনকে। সামাজিক মূল্যবোধ একেবারেই শূন্যের ঘরে, ধর্মীয় অনুশাসন চোখেই পরেনা। এই সব অবক্ষয় এখনই রুখে না দিলে সামনে ভয়াবহ অধ্যায় রচীত হতে পারে তাই প্রতিটি মানুষকেই সোচ্চার হতে হবে।
ক্রাইম পেট্রোল বা সত্য ঘটনার অবলম্বনে নির্মিত অনেক টিভি অনুষ্ঠানে ধর্ষণের ভিডিও চিত্র দেখানো হয় যা প্রকাশ্যে যৌনাচারই বলা চলে। এসব টিভি প্রোগ্রাম আবার ইউটিউব বা ফেইসবুকে পেইজ তৈরি করে সেখানে আপ্লুড করা হয় যা যৌনতাকেই উস্কে দেয়। এই সব অনুষ্ঠানে দেখানো হয় একা একটি মেয়ে বাড়িতে থাকলে কি কি কৌশলে তাকে ধর্ষণ করা হয়, বন্ধুরা মিলে কিভাবে গনধর্ষণ করে, হত্যা করা হয় ধর্ষিতাকে তারও উপায় দেখানো হয়। এছাড়াও ইন্টার্নেট এর সহজ লভ্যতা গুগলে যেকোন ধরণের ভিডিও সার্চ করে পেয়ে যায় উঠতি বয়সের ছেলেরা এবং মানুষ মাত্রই অনুকরণ প্রিয় এই মন্ত্রে কু কাজ করতে তাদের বিবেকে বাধে না।
আইসিটি মন্ত্রণালয় অবশ্যই পারে এই সব ডোমেইনকে ফিল্টারিং করতে, তবে কেন এই সাইটগুলো ফিল্টারিং হচ্ছেনা, তা নিয়ে তারা একটু ভাববেন এই প্রত্যাশা করি। কিছু টিভি চেনেল রয়েছে যা প্রতিবেশি দেশ থেকে পরিচালিত হয় ঐ চেনেলে সাধারণত পরকিয়াকেই হাইলাইটস করা হয় আর এসবের একটা প্রভাবতো আছেই।
যেভাবে চলছে তাতে ধর্ষণে সারা বিশ্বে ১ নাম্বার হতে খুব বেশি সময় লাগবে বলে মনে হয়না। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে প্রয়োজন পারিবারিক অনুশাসন, ধর্মীয় শিক্ষার বাস্তবায়ন, আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করণ। অশ্লিল ওয়েব সাইট ফিল্টারিং ও অপসংস্কৃতি প্রচার করে এমন টিভি চেনেল বন্ধ করা এবং ধর্ষণের কৌশল দেখানো হয় এমন টিভি প্রোগ্রাম বন্ধ করলে অনেকটাই রোধ করা যাবে সামাজিক এই ব্যাধিকে। সকলেই সমন্বিতভাবে মূল্যবোধ সৃষ্টি করে সমাজ থেকে ধর্ষণ নামের ভয়াল, ঘৃণীত অপকর্মটিকে দূর করে নিরাপদ সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনের প্রত্যাশাটা বাঁচিয়ে রাখলাম।
প্রকৌশলী সাব্বির হোসেন খোকন, শ্রীপুর, গাজীপুর।
একই ধরনের আরও সংবাদ