অধিকার ও সত্যের পথে

সাম্প্রদায়িক গণহত্যার শিকার রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে হবে

সভ্য পৃথিবীর মানুষের আচরন দেখে মনে হচ্ছে রোহিঙ্গারা ভিনগ্রহ থেকে এসেছে। এদের এলিয়ন বলে, এরা রক্ত মাংসের মানুষ নয়। এরা আঘাতে ব্যথা পায়না। আগুনে পুড়ালেও মরেনা, এতো বড় আয়তনের মিয়ানমারে এদের যায়গাও হয়না। আর কত কি!!!
হায়রে স্যুট কুট পরা ভদ্রলোক, মানবাধিকার সংস্থা, হলিউড, বলিউডে সর্ট পোষাকে ঝড় তোলা মডার্ন অভিনেতা অভিনেত্রী, বিশ্বনেতার তকমা লাগানো ক্ষমতাবান মানুষ আরো নিরব হয়ে জান, চোখ খোলবেন না। আপনাদের সমষ্টিগতভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেয়া হবে। কেননা এই শান্তি পুরস্কার নিয়ে সুচি আজ যেভাবে গনহত্যা করছে আর তার সমর্থনে বিশ্ব নেতারা তাকে যেভাবে সমর্থন করে যাচ্ছে তাতে আমার মতো কয়েকজন সাধারণ মানুষ এই তামাশা দেখা ছাড়া আর কি বা করতে পারবে?
বস আপনাদের সেলুট, আপনারাই পারবেন অসাম্প্রদায়িক মিয়ানমার বানাতে। মানে রোহিঙ্গা নিধন করলে যখন আর কোন মুসলিম রোহিঙ্গা থাকবেনা তখন শুধু উগ্র, ডাকাত, খুনি মগ বৌদ্ধ থাকবে নিশ্চয় আপনাদের ভাষায় এটাকেই অসাম্প্রদায়িক বলে!
 ৩৫০০ বছর ধরে যে জাতি আরাকানে বাস করছে তারা আজ রোহিঙ্গা নামের নির্যাতিত মানব গোষ্ঠী। নির্লজ্জভাবে রোহিঙ্গাদের বাড়ি ঘর পুড়িয়ে, মেয়েদের ধর্ষণ করে, গলা কেটে যেভাবে হত্যা করা হচ্ছে তা আইয়্যামে জাহেলিয়াকেউ হার মানিয়েছে। আরাকানের ভূমিপুত্রদের উপর যে অত্যাচার করা হচ্ছে তা বর্বরোচিত, বন্ধ করুন এ অমানবিক, নৃসংশ হত্যাকান্ড। নির্যাতিত মানুষ সাহস নিয়ে একবার ঘুরে দাঁড়ালে ৩য় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হতে সময় লাগবেনা।
সুকৌশলে আন্তর্জাতিক চক্র বাংলাদেশে যেভাবে কয়েক লক্ষ রোহিঙ্গাকে পুশ করেছে তার মোকাবিলা শক্ত হাতে করতে হবে। বাংলাদেশ সরকার মানবিক বোধ থেকে এই আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছে যার প্রশংসা করতে গর্ব বোধ করি। তবে আরো সতর্কভাবে কাজ করে যেতে হবে। এতো লোক একসাথে বাংলাদেশের ভূখন্ডে আশ্রয় নিয়েছে যাদের নিয়ন্ত্রণে রাখা কষ্ট সাধ্য। এদের থেকে অনেকেই অপরাধে জড়িয়ে পরছে। ক্ষুধার্ত মানুষগুলি মানবেতর জীবনযাপন করছে, এই ঘটনা দেখে এদেশের লাখো জনতা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে প্রমাণ করেছে আমরা বাঙালি, আমরা বীরের জাতি, আমরা মানবিক।
অনেকদিন হেটে, বৃদ্ধা বাবা মাকে কাধে করে বয়ে নিয়ে এসেছে রোহিঙ্গা যুবকেরা যা মুসলিমদের প্রিয় নবীজি শিখিয়েছেন। কিছু দালাল জিম্মি করে এসব শরণার্থীদের থেকে টাকা নিচ্ছেন তাদের বলছি মহান আল্লাহকে ভয় করুন। সংকটে মুসলমান মুসলমানের পাশে দাঁড়াতে হবে।
চার লক্ষাধিক রোহিঙ্গা যারা দেশ ছেড়ে আসতে বাধ্য হয়েছেন তারা সবাই কি মিথ্যে বলছে? না এতোগুলো মানুষ মিথ্যে বলতে পারেনা। এরা রাজনীতি বুঝেনা, প্রেসিডেন্ট হওয়ার স্বপ্নও দেখেনা। তাহলে মিয়ানমার সাম্প্রদায়িক গণহত্যা করছে এটাই সত্য। যার জন্য সংবাদ কর্মী বা মানবাধিকার কর্মীদের প্রবেশ করতে দিচ্ছেনা। বাংলাদেশের পাশে থাকতে যে সকল বন্ধু রাষ্ট্রের এগিয়ে আসার কথা সেই সব দেশ নিরব সময় পার করছে। নিরবতা তাই ভাবিয়ে তুলছে, এ কোন আঞ্চলিক চক্রান্ত নয়তো? ভালভাবে খতিয়ে দেখতে হবে। বিজনেস জোন রাখাইন প্রদেশ ভৌগোলিকভাবে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তাই সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলকে কুটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়ে বন্ধুরাষ্ট্রদের সাথে নিয়ে মিয়ানমারকে বাধ্য করতে হবে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে।
কফি আনান কমিশনের প্রতিবেদন যত দ্রুত সম্ভব বাস্তবায়ন করতে হবে। এখনো মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী রোহিঙ্গাদের হত্যা ও বসতবাড়ি জালিয়ে ধ্বংস করছে যা অমানবিক। ছোট রাষ্ট্র বাংলাদেশ মানবিক দায়িত্ব থেকে ২০০০ একর জমি বরাদ্দ দিয়েছে রোহিঙ্গা মুসলিমদের আশ্রয়ের জন্য। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সকল দেশের রাষ্ট্রদুতদের নিয়ে রোহিঙ্গা বিষয়ে জনমত সৃষ্টির প্রচেষ্টা চালাচ্ছে যা ইতিবাচক। প্রধান মন্ত্রী যাবেন রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দুঃখ দুর্দশা দেখতে, নিরাপত্তা যেন বিঘ্নিত না হয় সেজন্য যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। সারা বিশ্বের গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করাতে হবে। সকল বন্ধু রাষ্ট্রকে সাথে নিয়ে সফলভাবে রোহিঙ্গাদের শতভাগকে মিয়ানমারে প্রত্যাবর্তন করাতে সফল হবে মানবিক বাংলাদেশ এই প্রত্যাশা করি।
একই ধরনের আরও সংবাদ