অধিকার ও সত্যের পথে

ইভটিজিং একটি সামাজিক ব্যাধি ও এর প্রতিকার

মানুষ সামাজিক জীব, শুধু সামাজিক নয়, সর্বশ্রেষ্ঠ, আমাদের আছে নিজস্ব সমাজ ও সংস্কৃতি, বুদ্ধি, বিবেক, মনুষ্যত্ব, আমরা নিজেকে সভ্য হিসেবে দাবি করি, কিন্তু আমাদের চারপাশে প্রতিনিয়ত কি ঘটছে? পত্র-পত্রিকা খুলতেই, টিভিতে সংবাদ দেখা শুরু করলেই, অনলাইনে পত্র-পত্রিকা পড়তেই দেখছি অনেক ভয়াবহ সংবাদ। তাঁর একটি হল “ইভটিজিং” এটা আমাদের জন্য লজ্জার বিষয়। সাম্প্রতিক কালে আমাদের দেশে এটি প্রবল ভাবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। ইভটিজিং এ শিকার হয়ে দেশব্যাপী হত্যা-আত্মহত্যার মতো ঘটনাও ঘটেছে অনেক। দেশের ত্রুমবর্ধমান ইভটিজিং সমস্যার প্রকৃত কারণ সমূহ চিহ্নিত করে সম্ভাব্য প্রতিকার খূঁজে বের করা আমাদের সকলের দায়িত্ব।

ইভটিজিং এর  পেছনে রয়েছে অনেকগুলো মৌলিক কারণ, যা সামষ্টিক ভাবে এ সামাজিক ব্যাধির জন্য দায়ী। এর অন্যতম কয়েকটি কারণ হলো- সুস্থ বিনোদনের অভাব, একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের অভাব, চলচ্চিত্রসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে অশ্লীলতা , ধর্মীয় অনুশাসনের প্রতি উদাসীনতা, অশালীন পোশাক, আইন ও বিচারব্যবস্থার দুর্বলতা, নেশা ও মাদক দ্রব্যের সহজলভ্যতা, সন্তানের প্রতি অভিভাবকগণের চরম উদাসীনতা, ইন্টারনেট (তথ্য-প্রযুক্তি) এর অপব্যবহার, নারীর প্রতি পুরুষদের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি (আমাদের পুরুষতান্ত্রিক  সমাজে নারীরা সঠিক মর্যাদা পায়না), বেকারত্ব, মাতা-পিতার অবাধ্যতা ও দায়িত্বহীনতা  ইভটিজিং এর মতো অপরাধে দায়ী কম নয়।

ইভটিজিং এর সাথে যারা জড়িত তাদের অধিকাংশই তরুণ। তাই তরুণরা যাতে বিপথগামী না হয় সে জন্য অভিভাবক, শিক্ষক, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন, নারী সংগঠন, সুধীজনসহ রাষ্ট্রীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সচেতন হতে হবে, এর পাশাপাশি সামাজিক কুসংস্কারও দূর করতে হবে।

অভিভাবকগণও অনেক সময় নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে ব্যস্ত থাকার কারণে ছেলে-মেয়েদের প্রতি  অনেকেই সঠিকভাবে নজর রাখতে পারে না। তাই সামাজিক সচেতনতাই পারে ইভটিজিং এর মত জঘন্য অপরাধকে প্রতিরোধ করতে। অপরদিকে সচেতন অভিভাবকরাও পারে ইভটিজিং প্রতিরোধ করতে, কারণ সচেতন অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের কে ওই ভাবেই গড়ে তুলেন। তাই ঐ সন্তানরা সামাজিক অবস্থার কথা চিন্তা করে ইভটিজিং এর মত অপরাধ থেকে দুরে থাকেন। তাই দরকার প্রত্যেকটি অভিভাবককে সচেতন হওয়া, পাশাপাশি শিক্ষক/শিক্ষিকাদেরকেও সচেতন হতে হবে কেননা দিনের সিংহভাগ সময় ছাত্র/ছাত্রীরা শিক্ষালয়ে অবস্থান কালে শিক্ষক শিক্ষিকাদের সংস্পর্শে থাকে।

দেশের নারী সংগঠনগুলোও পারে ইভটিজিং প্রতিরোধ করতে, নারী অধিকার সংরক্ষণ ও অধিকার নিশ্চিত করার জন্য আমাদের দেশে রয়েছে বেশ কিছু নারী সংগঠন, তাদেরকে আরও সচেতন হতে হবে। এছাড়া নারী নির্যাতন বন্ধে বাংলাদেশে অনেক আইন রয়েছে তা যথাযথভাবে প্রয়োগ করতে হবে।

সর্বোপরি রাষ্ট্রীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সচেতন হতে হবে এবং দূর করতে হবে সামাজিক ব্যাধি নারীদের প্রতি পুরুষদের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি, গড়ে তুলতে হবে সামাজিক আন্দোলন, তবেই হবে আমাদের সমাজ ইভটিজিং মুক্ত।

লেখকঃ শামছুল হক

সিনিয়র সহকারি শিক্ষক

সৈয়দপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ

সৈয়দপুর-নীলফামারী।

একই ধরনের আরও সংবাদ