অধিকার ও সত্যের পক্ষে

বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সেলফলেসলি কাজ করতে হবে

২০০৬ সালে ত্রিশালের নামাপাড়ায় প্রতিষ্ঠিত হয় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত যে কয়জন উপাচার্যের আগমন হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন বর্তমান উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহীত উল আলম। তাকে অন্যতম বলার যথাযোগ্য কারণও আছে অনেক।

দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে জাতীয় কবির নামে প্রতিষ্ঠিত ‘জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়’ এর চতুর্থ উপাচার্য হিসেবে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

২০১৩ সালের ১৩ আগস্ট তিনি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে যোগদানের পর দক্ষতার সাথে বিশ্ববিদ্যালয়টি সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত করে আসছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম অত্যন্ত দক্ষতার সাথে পরিচালনা করছেন, এমনকি শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় যেন ব্যাঘাত না ঘটে সে জন্য নিজে ক্লাস নিয়েছেন।

দায়িত্ব গ্রহণকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ অবস্থা থেকে উন্নয়নের লক্ষ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশে আধুনিক মানের বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার জন্য তিনিই প্রথম উপাচার্য যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের অগ্রযাত্রা আমূল পরিবর্তন সাধন করেছেন। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর অবকাঠামোসহ বিভিন্ন দিক উন্নয়নের ছোয়া লাগে। তার মধ্যে অন্যতম হলোঃ

দশতলা বিশিষ্ট দুটি একাডেমিক ভবন (নির্মাণাধীন), দশতলা বিশিষ্ট ছাত্র/ছাত্রীদের আবাসিক সুবিধার জন্য দুটি হল, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল (নির্মাণাধীন), বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল (নির্মাণাধীন), শিক্ষক, কর্মকর্তা আবাসনের জন্য ডরমেটরি (ব্রহ্মপুত্র নিকেতন) নির্মাণ করা হয়েছে আধুনিক মানের একটি কেন্দ্রীয় লাইব্রেরী নির্মাণ করা হয়েছে, উপাচার্যের জন্য মনোমুগ্ধকর বাসস্থান নির্মাণ করা হয়েছে, ছাত্র-ছাত্রীদের পরিবহন সুবিধার জন্য এই উপাচার্যের সময়ে অগ্রণী ব্যাংকের একটি নিজস্ব বাস এবং ৩টি (ভাড়া) যুক্ত নতুন পরিবহন, আধুনিক এম্বুলেন্স এবং শিক্ষকদের জন্য ১টি মাইক্রোবাস ১টি (সিভিলিয়ান) নতুন যুক্ত হয়েছে।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে ভালভাবে জানার জন্য এবং গবেষণার জন্য প্রতিষ্ঠিত করেন ‘ইন্সটিটিউট অব নজরুল স্টাডিজ’, চারু দ্বীপ নামক স্থানে চারুকলা বিভাগের জন্য একটি আউটডোর সৃষ্টি করেছেন, ৫ একর জলাশয় ভরিয়ে শেখ রাসেল কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ নামে একটি বিশাল খেলার মাঠ তৈরি করছেন, বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় কবির মোড়াল স্থাপন করেছেন, খোলা জায়গায় ‘গাহি সাম্যের সান মুক্ত মঞ্চ’ কে তিনিই প্রথম ছাদ করে একটি পূর্নাংজ্ঞ মঞ্চে রূপ দেন।

তাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ১২টি বিভাগ থেকে ১৯টি বিভাগে বৃদ্ধি করা হয়েছে, যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ণের জন্য ঢাকা-ময়মনসিংহ রোডের সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংযোগ রাস্তা ও বিশ্ববিদ্যলয়ের ভিতরে চলাচলের জন্য নতুন রাস্তা তৈরি করেন, নতুন নামফলক গেইট নির্মান করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে আধুনিকমানের চিকিৎসা সেবার জন্য ৫তলা (প্রস্তাবিত) একটি আধুনিক মেডিকেল সেন্টার স্থাপন, বিশ্ববিদ্যালয় বাসষ্ট্যান্ড সংলগ্ন মহান স্বাধীনতায় নিহত শহীদদের প্রতি সম্মান জানানোর জন্য মনোমুগ্ধকর স্মৃতিসৌধ চির উন্নত মম শির নির্মান, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে উন্নত করার লক্ষ্যে ১১.০০০ কে.বি (ভোল্টের) একটি ‘সাব-স্টেশন’ স্থাপন (নির্মাধীন), সোনালী ব্যাংকের পূর্নাংজ্ঞ শাখা স্থাপন, কবি নজরুল প্রাক প্রাথমিক স্কুল স্থাপন, বর্তমান উপাচার্যের সময়ে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী সকলে অত্যন্ত দক্ষ, অভিজ্ঞ ও উচ্চ শিক্ষিত এবং বঙ্গবন্ধু আদর্শে গড়া সৈনিক।

এছাড়া, অডিটরিয়াম, জিমনেসিয়াম, একাডেমিক ভবন, ইনস্টিটিউট ভবন ও আইটি ভবন, মসজিদ, শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য আবাসিক ভবন, শিক্ষার্থীদের জন্য হলসহ অন্যান্য উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের জন্য ৪৮০ কোটি প্রাক্কলিত ব্যয়ে একটি প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনে অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এদিকে এই উপাচার্য প্রথমবারের মত সমাবর্তন উপহার দেন এবং জাকজমকপূর্ন অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে মহামান্য রাষ্ট্রপতি কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪শত গ্র্যাজুয়েটের মধ্যে সনদ ও ৩২ জন মেধাবী গ্র্যাজুয়েটকে স্বর্ণপদক প্রদান করেন।

সময়ের ব্যবধানে অনেকেই নানান অজুহাত ইস্যুতে তার কার্যক্রম বাধাগ্রস্থ করেছে। এ রকমভাবে ৪ বছরে নানা প্রতিবন্ধকতার বিষয়ে তিনি বলেন, আমার সহকর্মীরা আমাকে আন্তরিক সহযোগিতা করছেন। মূলত এসব প্রতিবন্ধকতার মাঝেও সকলের অনেক সহযোগিতা পেয়েছি, যার কারণে এখনও কোন বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি।

সামনে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আরো অনেক উপাচার্য আসবে, বিশ্ববিদ্যালয়কে আরো উচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তাদের প্রতি আপনার পরামর্শ কি জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাদের নিজের মধ্যে একটা তাগিদ থাকতে হবে যে আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়টার জন্য সর্বোচ্চ দিয়ে যাব সব ধরনের সীমাবদ্ধতার মধ্যেই।

সেক্ষেত্রে তার মধ্যে একটা ভিশন এবং কর্মদক্ষতা থাকতে হবে। শুধু নিজের ব্যাপারে নয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সেলফলেসলি কাজ করতে হবে। সবাইকে এক সাথে কাদে কাঁদ মিলিয়ে আলসতা বর্জন করে এবং নিরলসভাবে কাজ করতে হবে ।

একই ধরনের আরও সংবাদ