অধিকার ও সত্যের পক্ষে

সরকারি আজম খান কমার্স কলেজে ২৫৬ জন শিক্ষার্থীর জন্য ১ জন শিক্ষক

খুলনার আযম খান সরকারি কমার্স কলেজে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১০ হাজারেরও বেশি। প্রতি ২৫৬ জন শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছেন মাত্র একজন শিক্ষক। এ ছাড়া এই কলেজ আবাসনসহ নানা সংকটে জর্জরিত।

কলেজের প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, ১৯৫৩ সালের ১৪ আগস্ট খুলনা কমার্স কলেজ নামে কলেজটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। খুলনা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভবনে উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণির নৈশকালীন পাঠদানের মধ্য দিয়ে কলেজটির যাত্রা শুরু হয়। ১৯৬১ সাল থেকে দিনের বেলায়ও পাঠদান শুরু হয়। ওই বছর কলেজটির নাম পাল্টে করা হয় আযম খান কমার্স কলেজ। ১৯৬৩ সাল থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বাণিজ্য বিষয়ে স্নাতক পড়ানো শুরু হয়। ১৯৭২ সাল থেকে খুলনাঞ্চলের প্রথম কলেজ হিসেবে হিসাববিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে স্নাতকোত্তর চালু করা হয়। কলেজটির জাতীয়করণ হয় ১৯৭৯ সালে। এই কলেজের শুধুমাত্র কমার্স বিষয়গুলো পড়ানো হয়।
কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০১৬ সালে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে কলেজটি জেলার শ্রেষ্ঠ কলেজ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। ওই বছর মাস্টার্স পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১ হাজার ৩৯১ জনের মধ্যে প্রথম শ্রেণি পান ৬১৩ জন। পড়াশোনায় এগিয়ে থাকলেও কলেজে শিক্ষার্থীদের আবাসন-সংকট প্রকট। ১০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর বিপরীতে ছাত্রদের জন্য ৯৮ আসনের মাত্র একটি ছাত্রাবাস আছে। ছাত্রীদের জন্য কোনো ছাত্রীনিবাস নেই।
কলেজে শিক্ষকের পদ রয়েছে ৪৪টি। বর্তমানে শিক্ষক আছেন ৩৯ জন। গত ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সেখানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর অনুপাত ছিল ১: ২৫৬। ১৯৮৩ সালে করা প্রশাসনিক সংস্কার-সংক্রান্ত এনাম কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, যেসব বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) পড়ানো হবে, সেগুলোর প্রতিটির জন্য কমপক্ষে ৮ জন ও যেগুলোতে স্নাতকোত্তর পড়ানো হয়, সেগুলোতে ১২ জন করে শিক্ষক থাকার কথা। কিন্তু ২০০৪ সালে ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং এবং মার্কেটিং বিষয়ে স্নাতক ও ২০১৩ সালে দুই বিষয়ে স্নাতকোত্তর চালু হলেও এখন পর্যন্ত শিক্ষকের চারটি করে পদ সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিভাগে আবার ২ জন শিক্ষকের পদ শূন্য। এ ছাড়া হিসাববিজ্ঞান বিভাগের দুটি ও ইংরেজি বিভাগের একটি পদে কোনো শিক্ষক নেই।
কলেজে বর্তমানে স্নাতকে (সম্মান) প্রতিবছর হিসাববিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে ৩৭৫ জন ও স্নাতকোত্তরে ৫৫০ জন করে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। মার্কেটিং ও ফিন্যান্সে স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে ১৯০ করে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। এ ছাড়া স্নাতকে (পাস) প্রতিবছর ৫০০ জন করে ও উচ্চমাধ্যমিকে ৪০০ জন করে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। পাঠদান উপযোগী শ্রেণিকক্ষ আছে ১৯টি। সর্বোচ্চ ১৭০ জনের বেশি পড়ানোর মতো কোনো শ্রেণিকক্ষ নেই। কিছু কক্ষে বসানো যায় মাত্র ৬০ জন।
কলেজের শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বলেন, কলেজের শ্রেণিকক্ষ-সংকটের পাশাপাশি ফিন্যান্স, মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষক স্বল্পতার সমস্যা প্রকট। এসব বিভাগে শূন্যপদ পূরণ ও নতুন পদ সৃষ্টি হওয়াটা জরুরি।
শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া বিভিন্ন ধরনের ফির হিসাব পর্যালোচনা করে দেখা যায়, কলেজ কর্তৃপক্ষ প্রতিবছর ২৫-২৬ ধরনের ফি আদায় করে। এর মধ্যে কিছু কিছু খাত আছে, যেগুলোর কোনো কার্যক্রম নেই। ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (পাস) শ্রেণিতে ভর্তির সময় ২৬ ধরনের ফি নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চতুর্থ খাত ছাত্র সংসদ বাবদ একেকজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে ২৫ টাকা করে। অথচ ছাত্র সংসদ এক যুগের বেশি সময় ধরে বন্ধ। কমপক্ষে চার বছর কোনো সাময়িকী (ম্যাগাজিন) বের করা না হলেও এ খাতে ফি নেওয়া হয় ৩০ টাকা করে। ‘উন্নয়ন তহবিল’ ফি নামে নেওয়া হয়েছে শিক্ষার্থীপ্রতি ২০০ টাকা। চিকিৎসা ফি নেওয়া হচ্ছে ২০ টাকা করে, কিন্তু কোনো চিকিৎসাকেন্দ্র নেই। কোনো খেলার মাঠ নেই।
অধ্যক্ষ কালিপদ মজুমদার বলেন, যানবাহন কেনার জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে যে টাকা নেওয়া হয়েছে, তা তহবিলে আছে। কিন্তু তা বাস কেনার জন্য যথেষ্ট নয়। তিনি বলেন, দিন দিন শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ছে। এ জন্য দ্রুত শিক্ষকের পদ সৃষ্টি জরুরি। আবাসনসহ বিভিন্ন সংকট নিরসনে কলেজ প্রশাসনের পাশাপাশি সরকারকেও এগিয়ে আসতে হবে।

লনা আযম খান সরকারি কমার্স কলেজে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১০ হাজারেরও বেশি। প্রতি ২৫৬ জন শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছেন মাত্র একজন শিক্ষক। এ ছাড়া এই কলেজ আবাসনসহ নানা সংকটে জর্জরিত।
কলেজের প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, ১৯৫৩ সালের ১৪ আগস্ট খুলনা কমার্স কলেজ নামে কলেজটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। খুলনা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভবনে উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণির নৈশকালীন পাঠদানের মধ্য দিয়ে কলেজটির যাত্রা শুরু হয়। ১৯৬১ সাল থেকে দিনের বেলায়ও পাঠদান শুরু হয়। ওই বছর কলেজটির নাম পাল্টে করা হয় আযম খান কমার্স কলেজ। ১৯৬৩ সাল থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বাণিজ্য বিষয়ে স্নাতক পড়ানো শুরু হয়। ১৯৭২ সাল থেকে খুলনাঞ্চলের প্রথম কলেজ হিসেবে হিসাববিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে স্নাতকোত্তর চালু করা হয়। কলেজটির জাতীয়করণ হয় ১৯৭৯ সালে। এই কলেজের শুধুমাত্র কমার্স বিষয়গুলো পড়ানো হয়।
কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০১৬ সালে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে কলেজটি জেলার শ্রেষ্ঠ কলেজ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। ওই বছর মাস্টার্স পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১ হাজার ৩৯১ জনের মধ্যে প্রথম শ্রেণি পান ৬১৩ জন। পড়াশোনায় এগিয়ে থাকলেও কলেজে শিক্ষার্থীদের আবাসন-সংকট প্রকট। ১০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর বিপরীতে ছাত্রদের জন্য ৯৮ আসনের মাত্র একটি ছাত্রাবাস আছে। ছাত্রীদের জন্য কোনো ছাত্রীনিবাস নেই।
কলেজে শিক্ষকের পদ রয়েছে ৪৪টি। বর্তমানে শিক্ষক আছেন ৩৯ জন। গত ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সেখানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর অনুপাত ছিল ১: ২৫৬। ১৯৮৩ সালে করা প্রশাসনিক সংস্কার-সংক্রান্ত এনাম কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, যেসব বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) পড়ানো হবে, সেগুলোর প্রতিটির জন্য কমপক্ষে ৮ জন ও যেগুলোতে স্নাতকোত্তর পড়ানো হয়, সেগুলোতে ১২ জন করে শিক্ষক থাকার কথা। কিন্তু ২০০৪ সালে ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং এবং মার্কেটিং বিষয়ে স্নাতক ও ২০১৩ সালে দুই বিষয়ে স্নাতকোত্তর চালু হলেও এখন পর্যন্ত শিক্ষকের চারটি করে পদ সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিভাগে আবার ২ জন শিক্ষকের পদ শূন্য। এ ছাড়া হিসাববিজ্ঞান বিভাগের দুটি ও ইংরেজি বিভাগের একটি পদে কোনো শিক্ষক নেই।
কলেজে বর্তমানে স্নাতকে (সম্মান) প্রতিবছর হিসাববিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে ৩৭৫ জন ও স্নাতকোত্তরে ৫৫০ জন করে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। মার্কেটিং ও ফিন্যান্সে স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে ১৯০ করে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। এ ছাড়া স্নাতকে (পাস) প্রতিবছর ৫০০ জন করে ও উচ্চমাধ্যমিকে ৪০০ জন করে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। পাঠদান উপযোগী শ্রেণিকক্ষ আছে ১৯টি। সর্বোচ্চ ১৭০ জনের বেশি পড়ানোর মতো কোনো শ্রেণিকক্ষ নেই। কিছু কক্ষে বসানো যায় মাত্র ৬০ জন।
কলেজের শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বলেন, কলেজের শ্রেণিকক্ষ-সংকটের পাশাপাশি ফিন্যান্স, মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষক স্বল্পতার সমস্যা প্রকট। এসব বিভাগে শূন্যপদ পূরণ ও নতুন পদ সৃষ্টি হওয়াটা জরুরি।
শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া বিভিন্ন ধরনের ফির হিসাব পর্যালোচনা করে দেখা যায়, কলেজ কর্তৃপক্ষ প্রতিবছর ২৫-২৬ ধরনের ফি আদায় করে। এর মধ্যে কিছু কিছু খাত আছে, যেগুলোর কোনো কার্যক্রম নেই। ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (পাস) শ্রেণিতে ভর্তির সময় ২৬ ধরনের ফি নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চতুর্থ খাত ছাত্র সংসদ বাবদ একেকজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে ২৫ টাকা করে। অথচ ছাত্র সংসদ এক যুগের বেশি সময় ধরে বন্ধ। কমপক্ষে চার বছর কোনো সাময়িকী (ম্যাগাজিন) বের করা না হলেও এ খাতে ফি নেওয়া হয় ৩০ টাকা করে। ‘উন্নয়ন তহবিল’ ফি নামে নেওয়া হয়েছে শিক্ষার্থীপ্রতি ২০০ টাকা। চিকিৎসা ফি নেওয়া হচ্ছে ২০ টাকা করে, কিন্তু কোনো চিকিৎসাকেন্দ্র নেই। কোনো খেলার মাঠ নেই।
অধ্যক্ষ কালিপদ মজুমদার বলেন, যানবাহন কেনার জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে যে টাকা নেওয়া হয়েছে, তা তহবিলে আছে। কিন্তু তা বাস কেনার জন্য যথেষ্ট নয়। তিনি বলেন, দিন দিন শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ছে। এ জন্য দ্রুত শিক্ষকের পদ সৃষ্টি জরুরি। আবাসনসহ বিভিন্ন সংকট নিরসনে কলেজ প্রশাসনের পাশাপাশি সরকারকেও এগিয়ে আসতে হবে।

সূত্র প্রথম আলো।

একই ধরনের আরও সংবাদ