অধিকার ও সত্যের পথে

পীরগাছায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মাসে লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ

পীরগাছা(রংপুর)প্রতিনিধিঃরংপুরের পীরগাছায় কুটিপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জায়গা ভাড়া দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যোগসাজসে প্রতিমাসে লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধ। ফলে উচ্চ শব্দ ও জায়গা সংকট হওয়ায় ছাত্রছাত্রীদের চলাফেরাসহ খেলাধুলা ও লেখাপড়ার চরম ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে।
অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার কুটিপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৪২ সালে প্রতিষ্টিত হওয়ার পর থেকে শিক্ষা কার্যক্রম সুনামের সাথে পরিচালিত হয়ে আসছে। বর্তমানে বিদ্যালয়টি সংলগ্ন নিজস্ব জায়গায় খেলার মাঠ দোকানঘর ও ভবনের ছাদ ভাড়া দিয়ে প্রতিমাসে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। ৮৮ শতাংশ জমির মধ্যে ৫৮ শতাংশ জমির উপর বিদ্যালয়টি স্থাপন করা হয়। অবশিষ্ট ৩০ শতাংশ জমির উপর অবৈধভাবে ১৫টি দোকান ঘর নির্মাণ করা হয়। প্রধান শিক্ষক শাহ মোঃ সাদেকুল ইসলাম দোকান ঘর প্রতি ১লাখ ৫০ হাজার টাকা জামানত ও প্রতিমাসে ভাড়া বাবদ ৩ হাজার টাকা করে আদায় করে আসছেন। এছাড়াও বিদ্যালয় সংলগ্ন স্থানে তফশীল ভূক্ত হাটের জায়গায় দোকান না বসিয়ে বিদ্যালয়ের মাঠে সপ্তাহে দুদিন হাট বসানো হচ্ছে। সপ্তাহে দুদিন সময়ের আগে বিদ্যালয় ছুটি দিয়ে মাঠে হাট বসানোর জন্য প্রতিমাসে ১০ হাজার টাকা আদায় করে পকেটস্থ করছেন প্রধান শিক্ষক শাহ মোঃ সাদেকুল ইসলাম। বিদ্যালয়ের ভবনের ছাদ ডিস ব্যবসায়ীর নিকট ভাড়া দিয়ে প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা আদায় করছেন। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে প্রধান শিক্ষকের উদ্যোগে কোচিং ব্যবসা জমজমাটভাবে পরিচালিত হচ্ছে। সব মিলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যোগসাজসে প্রতিমাসে লক্ষাধিক টাকা আয় করে আসছেন। বিদ্যালয়টিতে লেখাপড়ার মান নিম্নমানের হওয়াসহ শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও পড়ালেখায় চরম ব্যাঘাত সৃষ্টি হওয়ায় এলাকাবাসী একাধিক বার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট অভিযোগ দাখিল করেন। ইতিপূর্বে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধ বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করেন। ওই প্রধান শিক্ষক স্বেচ্ছায় গত ২০১৪ সালে চরছাওলা কামারের হাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলির জন্য আবেদন করেন। কিন্তু তার এ দূর্ণীতির বিষয়টি ফাঁস হওয়ার ভয়ে তিনি সেখানে যাননি। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করলেও কর্তৃপক্ষ অজ্ঞাত কারণে ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। ফলে উক্ত প্রধান শিক্ষক অজ্ঞাত কারণে ওই প্রতিষ্টানে দীর্ঘ ১০ বছর থেকে একই কর্মস্থলে বহাল থাকায় স্থানীয় অভিভাবকদের মাঝে চাপা ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। অভিভাবকরা বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার মান ফিরিয়ে আনা সহ বিদ্যালয়টির জায়গা অবৈধ দখল থেকে উদ্ধার ও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানান।
প্রধান শিক্ষক শাহ মোঃ সাদেকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,নিয়ম মেনে সবকিছু করা হচ্ছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রফিক-উজ-জামান বলেন,এধরণের অনিয়মের অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

একই ধরনের আরও সংবাদ