অধিকার ও সত্যের পক্ষে

চূড়ান্ত হচ্ছে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল পরিচালনার নীতিমালা

দীর্ঘদিন ঝুলে থাকার পর অবশেষে চূড়ান্ত হচ্ছে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল পরিচালনার নীতিমালা। বিদেশি সিলেবাস পড়ানো এসব প্রতিষ্ঠানকে তিন শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়েছে। তবে সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো কোনো এলাকার জন্য সর্বোচ্চ কত টাকা সেশন ফি ও বেতন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেয়া যাবে তা নির্ধারণ করা হয়নি।

জানা গেছে, শিক্ষার গুণগত মান ও অবকাঠামো সুযোগ-সুবিধা বিবেচনা করে ম্যানেজিং কমিটি শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে পরামর্শক্রমে টিউশন ফি নির্ধারণ করতে হবে। তবে প্রতি বছর সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বাড়ানো যাবে বলে বলা হয়েছে খসড়া নীতিমালায়। শিগগিরই নীতিমালাটি পরিপত্র আকারে জারি করা হবে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে মাধ্যমিক ও শিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) পরিচালক অধ্যাপক এলিয়াস হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন পর কাজটি এবার সফল হবে।এবারের নীতিমালায় মালিক, শিক্ষার্থী ও অভিভাববক সব পক্ষের অধিকার রক্ষার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে স্কুল মালিকদের সংগঠন ‘ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল অ্যাসোসিয়েশন’ কয়েকটি ধারার বিরোধিতা করেছে। প্রতি বছর সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ টিউশন ফি বাড়ানো বিষয়টিতে আপত্তি জানিয়েছে বোর্ড।

সংগঠনের সেক্রেটারি ও কার্ডিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জি এম নিজাম উদ্দিন বলেন, নিয়মনীতির মধ্যে থাকতে চায়। তবে আমাদের সঙ্গে বসে কথা বলে করলে ভালো হতো।

তিনি জানান, এসব প্রতিষ্ঠান পুরোটাই চলে ব্যক্তিমালিকায়। ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে সরকার টিউশন ফি নির্ধারণ করার দরকার নেই। কেউ কোয়ালিটির বাইরে গেলে বেশি টিউশন ফি আদায় করার সুযোগ নেই। এটা করলে পরের বছর সে শিক্ষার্থী পাবে না।

প্রতি বছর ১০ শতাংশ বেশি টিউশন ফি বাড়ানোর প্রস্তাবের ব্যাপারে তিনি বলেন, ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলো অভিজাত এলাকায় প্রতিষ্ঠা করতে হয়। সেসব এলাকায় অবকাঠামো থেকে শুরু করে প্রত্যেক জিনিসের দাম বেশি।কিন্তু ১০ শতাংশ বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্তটা যথাযথ নয়। এই দুটি বিষয় আমাদের সঙ্গে সমন্বয় করলে নীতিমালাটি আরও ফলপ্রসূ হবে।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, ‘এ’ শ্রেণির জন্য নীতিমালায় ঢাকা মহানগর এলাকায় সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা ভর্তি ও সেশন ফি নেয়া যাবে। তবে সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো কোন এলাকার জন্য সর্বোচ্চ কত টাকা সেশন চার্জ ও বেতন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেয়া যাবে তা খসড়া নীতিমালায় সে বিষয়েও কিছুই বলা হয়নি।

জানা গেছে, ২০১৩ সালে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোকে এক ছাতার নিচে আনতে একটি নীতিমালা তৈরির জন্য হাইকোর্টে রিটের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের উদ্যোগে কমিটি গঠনের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো শুরু হয় বহুপ্রতীক্ষিত এ নীতিমালা প্রণয়ন কাজ। দীর্ঘদিন ঝুলে থাকার পর এটি এখন আইনে পরিণত হচ্ছে।

খসড়ায় বলা হয়েছে, বেসরকারি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল এবং স্কুল অ্যান্ড কলেজকে তিন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। ‘এ’ শ্রেণির প্রতিষ্ঠানে মহানগর এলাকায় সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা ভর্তি ও সেশন ফি, মহানগর বহির্ভূত এলাকায় তা হবে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা। ‘এ’ শ্রেণির প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বেতন মহানগর এলাকায় তিন হাজার টাকা ও মহানগরের বাইরে সর্বোচ্চ দেড় হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। ৭০০ বা তার বেশি শিক্ষার্থী এবং মানসম্মত শিক্ষক, শিক্ষা উপযোগী অবকাঠামোসহ আনুষঙ্গিক সুবিধা থাকলে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘এ’ শ্রেণিতে পড়বে। ‘বি’ শ্রেণির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি ও সেশন ফি মহানগর এলাকায় সর্বোচ্চ ১৮ হাজার টাকা এবং মহানগরবহির্ভূত এলাকায় সর্বোচ্চ ৭ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়, ‘সি’ শ্রেণির প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে মহানগর এলাকায় সর্বোচ্চ বেতন দেড় হাজার টাকা এবং বাইরের জন্য সর্বোচ্চ ৮০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, ভর্তির ক্ষেত্রে ন্যূনতম যোগ্যতা থাকা সাপেক্ষে শূন্য আসনের ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা এবং ২ শতাংশ প্রতিবন্ধী কোটা সংরক্ষিত থাকবে।

২০১৫ সালেই তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বেনবেইস) এক পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, সারাদেশে তিন ক্যাটাগরিতে ১৬০টি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সেখানে প্রায় ২ লক্ষাধিক শিক্ষার্থী পড়াশুনা করছে।

একই ধরনের আরও সংবাদ