ঢাকা, ২৯ মার্চ, ২০১৭, ১৫ চৈত্র, ১৪২৩

ইমেইলঃ shikshabarta@gmail.com

মাধ্যমিকের ইংরেজি সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষকদের হাতে জিম্মি

নিজস্ব প্রতিবেদক | জানুয়ারি ৭, ২০১৭ - ১১:১৩ পূর্বাহ্ণ


সামিউল ইসলামঃ ইংরেজি হচ্ছে আন্তর্জাতিক ভাষা । সারাবিশ্বেই এ ভাষার গুরুত্ব অনেক ।উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করতে, ভালো চাকুরী পেতে ইংরেজি জানা জরুরি । পেশাগত দক্ষতা বাড়াতেও ইংরেজি জানা জরুরি । কারণ যে কোনো বিষয় উদ্ভাবনের সাথে সাথেই তা ইংরেজি ভাষায়পাওয়া যায় । তারপর অন্যান্য ভাষায় ।আমাদের দেশে বাচ্চাদের প্লে-নার্সারী ক্লাস থেকেই ইংরেজি শেখানো হয় ।

প্লে- নার্সারী থেকে শরু করে স্নাতক/স্নাতকোত্তর পাস করেও অর্থাৎ ১৮-২০ বছর পড়াশুনার পরও দেখা গেছে অধিকাংশ লোকেই ইংরেজিতে ২-৪ মিনিট কথা বলতে কিংবা ইংরেজিতে নিজের সম্পর্কে বলতে পারে না । এর পেছনে কারণ কী ?অবশ্যই এর পেছনে কারণ রয়েছে । তা হচ্ছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর অধিকাংশই অযোগ্য মহিলা শিক্ষকদের (এসএসসি পাস) দ্বারা পাঠদান করানো হয় ।যার ফলে বাচ্চাদের প্রাথমিক স্তরেই ইংরেজিতে বিরাট ধাক্কা খেয়ে মাধ্যমিকে প্রবেশ করতে হয় ।এ বছর আমাদের বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী অনেক শিক্ষার্থীদেরকে দেখলাম Write the word meaning, Write the opposite meaning ইত্যাদি বুঝে না ।

আমাকে অনেক শিক্ষার্থী জিজ্ঞেসে করেছে স্যার Write the word meaning মানে কী? অর্থাৎ প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় উত্তীণ হওয়া শিক্ষার্থীরা Write the word meaning এর মানে কী তা শিখে নি অর্থাৎ তাদের এসব শেখানো হয় নি । এসব না পড়ার জন্য কে দায়ী শিক্ষার্থী নাকি শিক্ষক? আমার তো মনে হয় এক্ষেত্রে শিক্ষক দায়ী ৯০% আর শিক্ষার্থী দায়ী ১০% । কারণ, এসব কোমলমতি বাচ্চাদের যা শেখানো হয়, তাই শিখতে পারে । এবার আসি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ।আমাদের দেশের মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর অধিকাংশগুলোতে এখনো বিএ (পাস) সমাজ বিজ্ঞানের শিক্ষকদের দ্বারা ইংরেজি পড়ানো হয় । যারা ২-৪ লাইন রিডিং পড়তে পারে তাদের দ্বারাই ইংরেজি পড়ানো হয় ।

যাদের ইংরেজি সম্পর্কে নূন্যতম ধারণাও নেই তাদের হাতেই আজ মাধ্যমিকের ইংরেজি জিম্মি হয়ে আছে । গাইড বই দেখে ছাত্রদের পাঠদান করে এবং না বুঝিয়েই ক্লাসের পড়া হিসেবে প্যারাগ্রাফ, ফরমাল লেটার , ইনফরমাল লেটার,ডায়ালগ,সিভি, ইমেইল,কম্পোজিশন অথবা গ্রামারের কোনো টপিক দিয়ে দেয় । এনসিটিবি ৬ষ্ঠ ও ৭ম শ্রেণির ইংরেজি ১ম পত্রের মান বন্টনে ১০ নাম্বারের স্পিকিং ও ১০ নাম্বারের লিসেনিং যুক্ত করেছে । অথচ মফস্বল পর্যায়ের খুব কম বিদ্যালয়েই স্পিকিং ও লিসেনিং টেস্ট নেয়া হচ্ছে ।কারণ, তারা (নন-ইংরেজি শিক্ষক) নিজেরা এসব বিষয়ে অদক্ষ ।

তারা আবার বড় বড় প্রচারপত্রে নিজের নামের সাথে ইংরেজি শিক্ষক — — বিদ্যালয়, নাম জুড়িয়ে দিয়ে জনগণকে ধোঁকা দিচ্ছে ।যাতে প্রচারপত্র দেখে অভিভাবকরা তাদের সন্তানকে তার কাছে পাঠাতে আগ্রহী হয় । যা পুরোপুরি অন্যায় এবং বেআইনী । ক্লাসে ভালোভাবে না বুঝিয়েই বলে দেয় বাসায় ভালোভাবে বুঝানো হবে ।অর্থাৎ তার কাছে প্রাইভেট পড়তে হবে । সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষক হয়ে নিজেকেইংরেজির বড় শিক্ষক হিসেবে জাহির করা বরং প্রতারণার শামিল । এ ধরনের শিক্ষকরা আজ শিক্ষকতা পেশাকে কলুষিত করেছে ।যদি এসকল কুখ্যাত ইংরেজি (সামাজিক বিজ্ঞান)শিক্ষকদের প্রতিষ্ঠানে নতুন কোনো অভিজ্ঞ ইংরেজি শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়, তখন তাদের গা জ্বালা করতে থাকে । নতুন শিক্ষককে সহযোগিতা না করে বরং তার পেছনে লেগে যায় । সে (নতুন শিক্ষক) ক্লাসে ভালোভাবে পাঠদান করালে তো আর তার কাছে কেউ প্রাইভেট পড়বে না । সবসময় এই আতঙ্কে থাকে ।

এই হলো মাধ্যমিকবিদ্যালয়ে ইংরেজি শিক্ষা ব্যবস্থা । এই যদি হয় ইংরেজি শিক্ষার অবস্থা, তাহলে ১৮- ২০ বছর কেন ১০০ বছর পড়লেও তো ইংরেজি আর শেখা যাবে না । এ অবস্থা দূর করতেনা পরলে ইংরেজি শিক্ষার বারোটা বেজে যাবে । এ সমস্যা দূরীভূত করতে শিক্ষা মন্ত্রনালয়কে ইংরেজি শিক্ষার সমস্যগুলো খুঁজে বের করে তা সমাধানের জন্য কায´করী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে ।

সামিউল ইসলাম

সহকারী শিক্ষক (ইংরেজি)

হালিমুন্নেছা চৌধুরাণী মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়

শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য দিন

Mobile Version