অধিকার ও সত্যের পথে

একটি কবিতার প্রত্যাবর্তন ও শিক্ষক সমাজে খুশির বন্যা…………!

মোঃ ইমরান হোসেনঃ একটি মানব শিশু জন্মের পর থেকেই শিখতে শুরু করে। প্রতিটি মুহূর্ত সে শিখতে থাকে অপরিচিত এই পৃথিবীর যাবতীয় আচার রীতি। কখনো শুনে, কখনো বলে, কখনো পড়ে, কখনো হেসে।

আর শিশু যখন শিক্ষার্থী রুপ লাভ করে তখন তো তার শেখার কোন শেষ থাকেনা। শিশু শিক্ষার্থী শিখতে চায় অবিরত। তাদের জানার কৌতুহল অসীম।

জানার পাশাপাশি শিশুর আচার আচরন, শিক্ষা দীক্ষা, আদব কায়দা, সম্মানবোধ শেখাটাও গুরুত্বের বিচারে অধিক গুরুত্বপূর্ণ। তাইতো কবি, সাহিত্যিক, শিশু সাহিত্য লেখক, ছড়াকারেরা তাদের বিভিন্ন রচনায় শিশুদের আচার-আচরন, আদব-কায়দা শেখানোর দারুণ প্রচেষ্টা চালিয়েছেন।

কিন্তু কবি কাজী কাদের নেওয়াজ রচিত “শিক্ষা গুরুর মর্যাদা” শীর্ষক কবিতাটির মর্মার্থ ও যথার্থতা যেকোন বিচারেই সুউচ্চ আসনে আদিষ্ট। কবিতাটি একাধারে শিক্ষক-শিক্ষার্থী উভয়ের জন্যই সমান গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে শিক্ষকদের জন্য কবিতাটি মর্যাদার পরিচয় বহন করে অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের শেখায় শিক্ষকের জন্য তাদের মূল্যবোধ, সম্মানবোধ, আচরনিক ভিন্নতা।

কোন এক অজ্ঞাত কারণে অসীম গুরুত্বপূর্ণ এই কবিতাটি পঞ্চম শ্রেণির পাঠ্যবই থেকে বাদ দেয়া হয়েছিল। যার জন্য সারা দেশে আলোচনা সমালোচনার কমতি ছিল না। আর শিক্ষক সমাজের জন্য ছিল যা চরম হতাশার। তাছাড়া অভিভাবক মহলেও এর বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছিল।

২০১৭ সালের পঞ্চম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যবইয়ে “শিক্ষা গুরুর মর্যাদা” কবিতা আবারো সংযোজন করা হয়েছে। এ যেন শুধুমাত্র একটি কবিতার প্রত্যাবর্তন নয়, এ যেন পুরো শিক্ষক সমাজের মর্যাদার পুনঃপ্রতিষ্ঠা! এ যেন শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষকের জন্য মর্যাদা ও সম্মানবোধ জন্মানোর বদ্ধ জানালাটা খুলে গিয়ে সবুজের হাতছানী।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকেও দেখা গিয়েছে কবিতাটি প্রত্যাবর্তনের উল্লাস। সর্বস্তরের মাঝে দেখা যাচ্ছে এক ধরনের স্বস্তি। কবিতাটির প্রত্যাবর্তনের পোস্টে ভরে গিয়েছে ফেইসবুকের পাতা।

ধন্যবাদ হে প্রধানমন্ত্রী, ধন্যবাদ হে প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ধন্যবাদ হে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, ধন্যবাদ হে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড।

সর্বোপরি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা কবি কাজী কাদের নেওয়াজে’র প্রতি।

লেখকঃ শিক্ষক ও কলামিস্ট।
emran81hossen@gmail.com

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো