ঢাকা, ২৯ মার্চ, ২০১৭, ১৫ চৈত্র, ১৪২৩

ইমেইলঃ shikshabarta@gmail.com

অধ্যক্ষের কারসাজিতে অতিষ্ঠ অভিভাবক দিন দিন শিক্ষার্থী কমছে দীর্ঘ্য দিন ধরে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন শিক্ষকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক | ডিসেম্বর ২৮, ২০১৬ - ২:১৫ অপরাহ্ণ


শেরপুর জেলা প্রতিনিধি :শেরপুরের নকলা উপজেলার বিবিরচর রহমানিয়া ফজিল মাদরাসার অধ্যক্ষের সেচ্ছাচারিতার কারণে অতিষ্ঠ হয়ে পরেছেন এলাকাবাসী। দিন দিন শিক্ষার্থী কমছে। বেতন বোনাস তোলতে না পেরে মানবেতর জীবন যাপন করছেন ওই প্রতিষ্ঠানের এমপিও ভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীর পরিবার। সভাপতির সদ্বিচ্ছা থাকা সত্বেও গত আগষ্ট মাসের বেতন ও ঈদুল আযহার বোনাস থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত শিক্ষকদের বেতন তোলতে দিচ্ছেন না সেই অধ্যক্ষ।

মাউশি কতৃক প্রেরিত এমপিও কপি অনুযায়ী বেতন ভাতা তৈরি না করে অধ্যক্ষ বারবার তার মনগড়া বেতন তৈরি করে সভাপতিকে প্রতিস্বাক্ষরের জন্য বলেন। কিন্তু সভাপতি মাউশির প্রেরিত এমপিও অনুযায়ী বেতন তৈরি করে স্বাক্ষর করতে বলেন। কিন্তু অধ্যক্ষ মাউশিকে তোয়াক্কা না কারায় ৫মাস যাবৎ মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন শিক্ষকরা। মাদরাসার অধ্যক্ষ মো. আবুবক্কর সিদ্দিক বিভিন্ন সময় শিক্ষক কর্মচারীদের চাপ প্রয়োগ করা সহ নানা ভাবে হয়রানি করে আসছেন বলে অভিযোগ করছেন শিক্ষকরা। শত অভিযোগেযুক্ত অধ্যক্ষের সেচ্ছাচারীতার হাত থেকে রেহাই পেতে শিক্ষক কর্মচারীরা ৩১ অক্টোবর নকলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদের বরাবর একটি লিখিত আবেদন জানান।

জানা গেছে অধ্যক্ষ আবুবক্কর ২০০১ সাল পর্যন্ত জামালপুর সদর উপজেলার ডৌহাতলা দাখিল মাদরাসায় কর্মরত ছিলেন। ২০০১ সালে মাদরাসা পরিচালনা কমিটি তাকে বরখাস্ত করেন। দীর্ঘ ৪বছর শিক্ষকতা বিরতি থাকা স্বত্তে¡ও তার পূর্বের ইনডেক্সে অজ্ঞাত উপায়ে ২০০৫ সালে বিবিরচর রহমানীয়া ফাজিল মাদরাসায় অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ নেন। তৎকালী বিধান অনুযায়ী ৬মাসের মধ্যে অন্য কোন প্রতিষ্ঠানে যোগদান না করতে পারলে পূর্বের ইনডেক্স বিলুপ্ত হওয়ার কথা।

জনশ্রুতি আছে ৪বছর পরে এবং সবকটি তৃতীয় শ্রেনি প্রাপ্ত সনদ নিয়ে অধ্যক্ষ হিসেবে কর্মরত আছেন অধ্যক্ষ। নেপথ্যের শক্তি বরাবরই নিকট আত্মীয় দ্বারা কমিটি গঠন করা। অধ্যক্ষের শিক্ষকতার দীর্ঘ বিরতি ও সনদ সমস্যা থাকায় তৎকালীন শেরপুর জেলা প্রশাসক নাসিরুজ্জামান তার সরকারি অংশের বেতন কেন বন্ধ করা হবেনা মর্মে কারন দর্শানোর নোটিশ করেন এবং তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা চলে। হাইকোর্টের স্থগিত আদেশে আজ পর্যন্ত তিনি স্বপদে চাকরী করে আসছেন। তথ্যমতে ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে ইবতেদায়ী শিক্ষক মেরীন সুলতানা টাইম স্কেল ও আরবী প্রভাষক তাজুল ইসলাম উচ্চতর স্কেল প্রাপ্ত হয়। তারা বলেন, দুই জনের স্কেল পরিবর্তন করতে অনেক টাকা লাগবে বলে জানান অধ্যক্ষ সাহেব।

দীর্ঘদিন কালক্ষেপনের পর তারা টাকা দিতে সম্মতি জানায়। তার প্রেক্ষিতে ৩০ হাজার টাকা নগদ হাতে পেয়ে অধ্যক্ষ ২০১৫ সালের ২১ডিসেম্বর গর্ভনিং বডির সর্বসম্মতিক্রমে তাদের দুইজনের স্কেল পরিবর্তনের রেজুলেশন করেন এবং নিয়ম অনুযায়ী অধ্যক্ষ নিজে মাউশির বেনবেইস শাখায় প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র পাঠান। সেমতে এমপিও তে মেরীন সুলতানা টাইম স্কেল আসে। অতঃপর অধ্যক্ষ অবশিষ্ট টাকা তাদের কাছে চাইলে তারা সময় চায়। টাকা না পাওয়ার ভয়ে তা তোলতে নাদিয়ে উল্টা তাদের বিরুদ্ধে স্বাক্ষর জালের অভিযোগ এনে তাদের সহ সবার বেতন তোলতে দিচ্ছেন না সেই অধ্যক্ষ।

তারা ন্যায্য দাবি আদায়ের কথা বললে ৩ সেপ্টেম্বর ২০১৬ তারিখে অধ্যক্ষ সভাপতির স্বাক্ষর জাল করাসহ অন্যান্য সদস্যেদের স্বাক্ষর জাল করে মেরীন সুলতানা ও তাজুল ইসলামকে সাময়ীক বরখাস্ত করেন, যা সম্পূর্ণ বেআইনি ও সেচ্ছাচারীতার সামিল। এমতাবস্থায় মাদ্রাসার অর্থ সম্পদ অবৈধ ব্যবহার ও ক্ষমতার অপপ্রয়োগ, গভর্নিং বডির সিদ্ধান্ত অমান্য করা, নিজের স্বার্থে শিক্ষকদের মধ্যে গ্রুপ সৃষ্টি করে উস্কে দেওয়া, শিক্ষকদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করা, মাউশির প্রেরিত এমপিও কপি অনুসারে বিল তৈরি না করে নিজের ইচ্ছা মত বিল করে সভাপতিকে পাশের জন্য চাপ সৃষ্টি করা, সভাপতি ও গভর্নিং বডির অন্যান্য সদস্যগনের স্বাক্ষার জালিয়াতি করে দুই জন শিক্ষক বহিষ্কার করা সহ বিভিন্ন রেজুলেশনের মধ্যেমে নানা অপকর্ম করা এবং মাদ্রাসার আয় ব্যয়ের হিসাব না রেখে অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগে ৮ নভেম্বর মেনেজিং কমিটির সর্বসম্মতিক্রমে অধ্যক্ষকে সাময়ীক ভাবে বরখাস্ত করে।

নিজে আত্মরক্ষার্থে সভাপতি পদত্যাগ করেছেন মর্মে জালিয়াতির মাধ্যমে শিক্ষকদের বেতন না দিতে বিভিন্ন অফিসে আবেদন করেন। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ সৈয়দ উদ্দিনের নেতৃত্বে ২ নভেম্বর সরেজমিনে তদন্ত হয়। তদন্তে অধ্যক্ষের সকল অভিযোগ ভুয়া, সাজানো ও অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার লক্ষ্যে দায়ের করা হয়েছে প্রমান হয়েছে মর্মে ১৩ নভেম্বর তদন্ত কর্মকর্তারা প্রতিবেদন দাখিল করেন। এতে অধ্যক্ষ নারাজি দেওয়ায় সর্বশেষ ইসলামি আরবি বিশ্ব বিদ্যালয়ের ২ সদস্য বিশিষ্ঠ তদন্ত কমিটি ৩ ডিসেম্বর দিন ব্যাপী তদন্ত চলাকালে অধ্যক্ষ তার অভিযোগের পক্ষে কোন প্রমাণ দাখিল করতে না পারলেও কোন শাস্তির ব্যাবস্থা নাকরে বরং বিষয়টি নিস্পত্তির লক্ষ্যে ৮ ডিসেম্বর ইআবি/প্রশা/ফা.গ.ব/ঢ-২০৪/২০১৬/২৩১৫ স্বারক মূলে ইসলামি আরবি বিশ্ব বিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোঃ রোশন খানের স্বাক্ষরিত একটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে গভর্নিং বডির বাকি মেয়াদ পর্যন্ত সভাপতি একেএম আকরাম হোসেন বহাল থাকবেন, অধ্যক্ষকে বরখাস্ত সহ তাজুল ইসলাম এবং মেরিন সুলতানার সাময়িক বহিস্কার বিধি সম্মত না হওয়ায় তারা তিনজন স্বপদে বহাল থাকবেন উল্লেখ করা হয়।

সে মোতাবেক সভাপতি ১২ ডিসেম্বর পত্রের মাধ্যমে ২১ ডিসেম্বরে গভর্নিং বডির মিটিং ডাকতে অধ্যক্ষকে অনুরোধ জানান। কিন্তু মিটিং করতে নারাজ অধ্যক্ষ ১৮ ডিসেম্বর পত্রের মাধ্যমে মনগড়া ভাবে জানান যে, গভর্নিং বডির ৮ জন সদস্য পদত্যাগ করেছেন। যা শৃঙ্খলা পরিপন্থি, স্বেচ্ছাচারিতা ও প্রশাসনিক আদেশ অমান্যের শামিল। অবশেষে ১৯ ডিসেম্বর সভাপতি সুনির্দিষ্ট ৮ টি অভিযোগ এনে অধ্যক্ষকে কারন দর্শানোর নোটিশ দেন। নোটিশ হাতে পেয়ে নিজেকে অপরাধের হাত থেকে রক্ষা করতে দৈনিক জনতা ও দৈনিক শিক্ষা ডটকমের প্রতিনিধিদের কাছে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বানোয়াট ভিত্তিহীন সংবাদ প্রচার করে। যাতে এলাকায় বিরোপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এমতাবস্থায় এলাকার সর্বমহল সহ শিক্ষকদের মধ্যে হতাশ বিরাজ করছে। দীর্ঘ্য ৫ মাস যাবৎ বেতন ভাতা না পেয়ে শিক্ষক পরিবার মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এবিষয়ে সংশ্লিষ্ঠ উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছেন উপজেলার শিক্ষক সমাজ। উল্লেখ্য যে ইতি মধ্যে অধ্যক্ষের স্বেচ্ছাচারিতার বিষয়ে বিভিন্ন স্থানীয় ও জাতীয় পত্র পত্রিকায় অনেক খবর ছাপা হয়েছে।

শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য দিন

Mobile Version