ঢাকা, ২৯ মার্চ, ২০১৭, ১৫ চৈত্র, ১৪২৩

ইমেইলঃ shikshabarta@gmail.com

দায়িত্বপরায়ণ এক স্বাস্থ্য-শিক্ষাবিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক | ডিসেম্বর ৬, ২০১৬ - ৯:২২ পূর্বাহ্ণ


বরিশাল ব্যুরো: পিরোজপুর সদর হাসপাতাল  আগের অবস্থা থেকে অনেকটাই ঘুরে দাঁড়িয়েছে। হয়েছে অনেক পরিবর্তন। বেড়েছে বেডের সংখ্যা। উন্নত হয়েছে সেবার মান। তবে রোগীর চাহিদা অনুযায়ী এখনো কাঙ্খিত সাফল্যে পৌঁছাতে পারেনি। প্রতিদিন শত শত রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে ডাক্তারা অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। তবুও ডাক্তারদের নিয়ে রোগীদের অভিযোগও কম নয়।

হাসপাতালের চেয়ে চেম্বার ও ক্লিনিক নিয়ে ব্যস্ত তারা। চাকরির স্বার্থে সেবার প্রয়োজন তাই সেবা করছেন। তবে ব্যতিক্রমও আছে। হাসপাতালে এসে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ পেয়ে যেমন খুশি সেবা নিতে আসা রোগী তেমনি রোগীর সাথে আসা মানুষের। কোথাও কোনো গন্ধ নেই। বাথরুম-টয়লেট সবই স্বাস্থ্য সম্মত।  গাইনি ওয়ার্ডে প্রবেশ করলেন এক ভদ্রলোক, তখন রুমে দাঁড়ানো ছিল সাদা পোশাক পরিহিত কয়েকজন নার্স। মুখের দিকে তাকাতেই মনে হলো এরা নার্স নয়, প্রশিক্ষণার্থী। ভদ্রলোক মেয়েগুলোর দিকে লক্ষ্য করে হাসিমুখে বললেন: মামণি, তোমরা কেমন আছ?

দায়িত্ব পালন করছো তো? তিনি কয়েক মিনিট রোগীদের হাসপাতাল-পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে সচেতনতা, রোগ প্রতিরোধ সম্পর্কে পজিটিভ ধারণা প্রদানসহ নানা বিষয় নিয়ে রোগীদের সাথে কথা বললেন। গাইনি ওয়ার্ড থেকে বেরিয়ে একেক করে সব ওয়ার্ড ঘুরে এলেন। তিনি তখনো জানতেন না, আমরা শিক্ষা বার্তার প্রতিনিধি। আমরা তার গতিবিধি অনুসরণ করছিলাম। এরপর তাকে নিয়ে কথা হলো এক রোগীর সাথে তিনি জানালেন ওনার নাম মো: নজরুল ইসলাম হক। হাসপাতালের স্বাস্থ্য-শিক্ষাবিদ। প্রতি দিন সকাল-বিকাল কয়েকবার ওয়ার্ডে আসেন। ওয়ার্ডের রোগীরা যাতে কোনো রকম হাসপাতালের পরিবেশ নোংরা করতে না পারে সে বিষয়ে খেয়াল রাখেন। রোগীরা জানালেন তার দায়িত্বশীলতায় তারা মুগ্ধ। রোগীদের একজন বলেন: বাবা, ওনার  মতো যদি সবাই হতো তাহলে আর মানুষের সরকারি হাসপাতালে এসে এত ভোগান্তির শিকার হতে হতো না।

শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য দিন

Mobile Version