website page counter প্রাথমিক শিক্ষকের মর্যাদা - শিক্ষাবার্তা ডট কম

শনিবার, ৪ঠা এপ্রিল, ২০২০ ইং, ২১শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | বসন্তকাল | ⏰ সন্ধ্যা ৭:২৯

প্রাথমিক শিক্ষকের মর্যাদা

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা যথাযোগ্য না হলে হাই স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কোথাও শিক্ষার্থীদের যোগ্য হয়ে গড়ে ওঠা সম্ভব নয়। এজন্যই জাপান, সিঙ্গাপুর ও ফিনল্যান্ডের মতো উন্নত দেশগুলো তাদের দেশের প্রাথমিক শিক্ষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়। সেসব দেশে প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন ও মর্যাদাও অত্যধিক।

এজন্য সেরা মেধাবীরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকতা পেশায় আকৃষ্ট হয়ে যোগদান করেন। অথচ আমাদের দেশে ঠিক তার বিপরীত চিত্র। প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন-মর্যাদা সবচেয়ে নিম্ন।

যেসব মেধাবী শিক্ষক এ পেশায় রয়েছেন তাঁরা অবহেলিত হয়ে এ পেশা ছাড়তে চেষ্টা করেন অথবা মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দু ধরনের শিক্ষক রয়েছেন—প্রধানশিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক। উভয় প্রকার শিক্ষক নিয়োগে শিক্ষাগত যোগ্যতা চাওয়া হয় স্নাতক।

স্নাতক অধিকাংশ পেশাজীবী ১০ম গ্রেডে বেতন পেলেও প্রাথমিকের প্রধানশিক্ষকরা বেতন পান ১২তম গ্রেডে ও সহকারী শিক্ষকরা বেতন পান ১৫তম গ্রেডে। এমনকি বিসিএস নন-ক্যাডার থেকে নিয়োগকৃত অন্য পেশাজীবীরা সবাই ১০ম গ্রেডে নিয়োগে পেলেও একইসঙ্গে যোগদান করা প্রাথমিকের প্রধানশিক্ষকরা যোগদান করেন ১২তম গ্রেডে। অন্যদিকে প্রধানশিক্ষকের ১ ধাপ নিচে সহকারী শিক্ষকদের বেতন নির্ধারণ হওয়ার কথা হলেও তাঁরা বেতন পান ১৫তম গ্রেডে।

যোগদান করে প্রাথমিক শিক্ষায় ডিপে­ামা ডিগ্রি অর্জন করে প্রধানশিক্ষকরা বেতন পান ১১তম গ্রেডে ও সহকারী শিক্ষকরা বেতন পান ১৪তম গ্রেডে। অথচ এসএসসি অথবা এইচএসসি পাসের পর ডিপে­ামা অথবা ট্রেড কোর্স করে অন্য পেশাজীবীরা ১০ম অথবা ১১তম গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন। তাই সরকারের কাছে বিনীত অনুরোধ এই যে, মুজিববর্ষে সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেড ও প্রধানশিক্ষকদের ১০ম গ্রেড প্রদান করে তাঁদের আর্থ-সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি করুন।

মাহফিজুর রহমান মামুন

সহকারী শিক্ষক, ভীমদামাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বোদা, পঞ্চগড়

এই বিভাগের আরও খবরঃ